চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আন্ডারওয়্যারের ভেতরে বিশেষ পেস্ট আকারে লুকিয়ে আনা ৪২৭ গ্রাম স্বর্ণসহ এক ভারতীয় নাগরিককে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার করা স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য ৮১ লাখ ৬৬ হাজার ৩৭৫ টাকা।
শনিবার (১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শারজাহ থেকে আসা এয়ার আরাবিয়ার G9-526 ফ্লাইটের এক যাত্রী কাস্টমস হলের গ্রিন চ্যানেল অতিক্রম করার সময় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তাকে তল্লাশি করা হয়।
আটক ওই যাত্রীর নাম তামিম আনসারী। তার পাসপোর্ট নম্বর ZA806284। তিনি ভারতের তামিলনাডু রাজ্যের চেন্নাইয়ের বাসিন্দা।
বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিমানবন্দর কাস্টমস ইন্টেলিজেন্স, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) এবং প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত একটি দল ওই যাত্রীর ওপর নজরদারি শুরু করে।
পরে তিনি কাস্টমস হলের গ্রিন চ্যানেল অতিক্রম করার সময় তাকে থামিয়ে তল্লাশি করা হয়। এ সময় তার আন্ডারওয়্যারের ভেতরে বিশেষ পেস্ট আকারে লুকিয়ে রাখা নয়টি স্বর্ণের টুকরা উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তামিম আনসারী জানান, তিনি শারজাহ-চট্টগ্রাম রুটে নিয়মিত যাতায়াত করেন এবং কাপড় ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তবে উদ্ধার করা স্বর্ণের উৎস, মালিকানা ও চোরাচালানের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তদন্ত করছে।
উদ্ধার করা স্বর্ণের মোট ওজন ৪২৭ গ্রাম। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী এসব স্বর্ণের আনুমানিক মূল্য ৮১ লাখ ৬৬ হাজার ৩৭৫ টাকা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
উদ্ধার করা স্বর্ণের চালান পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিমানবন্দর কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। স্বর্ণ পরিবহনের ঘটনায় আটক ভারতীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মামলা শেষে তাকে পতেঙ্গা থানায় হস্তান্তর করা হবে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রা পাচার ও স্বর্ণ চোরাচালান প্রতিরোধে বিমানবন্দর গোয়েন্দা সংস্থাগুলো, কাস্টমস ইন্টেলিজেন্স, বিমানবন্দর কাস্টমস এবং বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সমন্বিত নজরদারি ও তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।