আসন্ন ৫ নম্বর ওয়াগ্গা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কাপ্তাই উপজেলার ৫ নম্বর ওয়াগ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন শিলছড়ি এলাকার বাসিন্দা মো. মাইনুল ইসলাম ফাহাদ। উন্নয়ন, সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে গুরুত্ব দিয়ে ইউনিয়নবাসীর জন্য কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি। তাঁর ঘোষিত পরিকল্পনায় গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, নাগরিক সেবা সহজীকরণ, সামাজিক নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ, দুর্যোগ মোকাবিলা ও সামাজিক সম্প্রীতিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মো. মাইনুল ইসলাম ফাহাদ ৫ নম্বর ওয়াগ্গা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের শিলছড়ি এলাকার বাসিন্দা। তাঁর পিতার নাম সোলেমান বাহাদুর। বর্তমানে তিনি প্রবাসে রয়েছেন। ফাহাদের দাবি, গত প্রায় ১০ বছর ধরে বৈধ পথে দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রেখে আসছেন। এবার নিজের এলাকার মানুষের জন্য সরাসরি কাজ করার লক্ষ্যেই আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি।
ফাহাদ জানান, চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও জনবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। নিয়মিত পরিষদের সভা আয়োজন, স্থানীয় জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া এবং পরিষদের সিদ্ধান্ত যথাযথভাবে বাস্তবায়নের পাশাপাশি বার্ষিক বাজেট ও উন্নয়ন পরিকল্পনায় এলাকার মানুষের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। সরকারি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে ইউনিয়নের প্রয়োজনীয় উন্নয়ন নিশ্চিত করার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়নে রাস্তাঘাট, কালভার্ট, সেতু ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার সংস্কার ও উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান ফাহাদ। পাশাপাশি ইউনিয়নের হাট-বাজারের পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং পরিবেশ সুরক্ষায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর। এলাকার মানুষের দৈনন্দিন চলাচল ও জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত অবকাঠামোগত সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন তিনি।
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন মাইনুল ইসলাম ফাহাদ। বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতাসহ সরকারি বিভিন্ন সুবিধা, ভিজিডি, ভিজিএফ এবং ত্রাণ সহায়তা বিতরণে কোনো ধরনের বৈষম্য না করে প্রকৃত অসহায় মানুষের কাছে সহযোগিতা পৌঁছে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদের নাগরিক সেবা আরও সহজ ও দ্রুত করার লক্ষ্যে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, নাগরিক সনদ, ওয়ারিশ সনদ ও চারিত্রিক সনদসহ বিভিন্ন সেবা প্রদানে হয়রানি ও দীর্ঘসূত্রতা কমানোর উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতেও গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার পরিবেশ উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ এবং শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি সুপেয় পানির ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় স্থানে নলকূপ স্থাপন, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন এবং সাধারণ মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় সহযোগিতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেছেন।
স্থানীয় বিরোধ নিষ্পত্তি ও সামাজিক শান্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রেও ইউনিয়ন পরিষদকে কার্যকর ভূমিকা পালনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন ফাহাদ। ছোটখাটো বিরোধ নিষ্পত্তিতে গ্রাম আদালতের কার্যক্রমকে কার্যকর করার পাশাপাশি মাদক, বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং ও যৌতুকের মতো সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বাড়ানোর কথা বলেন তিনি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা এবং ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
দুর্যোগ মোকাবিলায়ও কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন মাইনুল ইসলাম ফাহাদ। বন্যা, পাহাড়ধস, ঘূর্ণিঝড়সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো, ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। বিশেষ করে পার্বত্য এলাকার ভৌগোলিক বাস্তবতায় দুর্যোগের আগাম প্রস্তুতি ও জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
মাইনুল ইসলাম ফাহাদ বলেন, “আমি দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকে বৈধ পথে দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছি। এবার নিজের এলাকার মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। জনগণ আমাকে সুযোগ দিলে সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে ইউনিয়নের উন্নয়নে কাজ করব। ইউনিয়ন পরিষদ সাধারণ মানুষের সেবা পাওয়ার অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান। তাই চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে দল-মত নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে চাই।”
তাঁর ঘোষিত উন্নয়ন পরিকল্পনায় ইউনিয়নের যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়ন, সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা, নাগরিক সেবা সহজীকরণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এসব পরিকল্পনা নিয়ে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় ও জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন চেয়ারম্যান পদে আগ্রহী মাইনুল ইসলাম ফাহাদ।