চট্টগ্রামের চন্দনাইশ পৌরসভার মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে খসড়া মহাপরিকল্পনা উপস্থাপন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে চন্দনাইশ পৌরসভা হলরুমে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতাধীন নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের (IUGIP) অধীনে Package No: IUGIP/MP/04-এর আওতায় এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মো. আবদুর রহমান।
চন্দনাইশ পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান খন্দকারের সভাপতিত্বে এবং উপ-সহকারী প্রকৌশলী রাজীব মজুমদারের সঞ্চালনায় কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রশ্মি চাকমা, চন্দনাইশ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস.এম. দিদারুল ইসলাম সিকদার, উপজেলা প্রকৌশলী সৈয়দ আসিফ মুহাম্মদ, শেলটেকের সিনিয়র কনসালটেন্ট ও নগর পরিকল্পনাবিদ মো. শাহাদাত হোসাইন, সহকারী নগর পরিকল্পনাবিদ সাবিয়া ইসলাম মিলি ও ইমতিয়াজ সনেট, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রাসেল চৌধুরী, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আ.ন.ম. ছালেহ উদ্দিন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মুহাম্মদ ইলিয়াছ, উপজেলা এনজিও ফেডারেশনের সভাপতি নুরুল হক চৌধুরী, বিএনপি নেতা নুরুল কবির কমিশনার, মোরশেদুল আলম, সিরাজুল ইসলাম, আযম খান, আইনুল হুদা ও সাইফুল ইসলামসহ পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধি, নাগরিক, সাংবাদিক এবং পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
কর্মশালায় শেলটেক কনসালটেন্সি প্রাইভেট লিমিটেডের নগর পরিকল্পনাবিদরা চন্দনাইশ পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও প্রয়োজনীয় উন্নয়ন বিষয়ে একটি অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। এতে পৌর এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতা, সুপেয় পানির সংকট, বিদ্যুতের লোডশেডিং, জলাবদ্ধতা, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনে জটিলতা, প্রতিবন্ধী নাগরিকদের সেবা, মাদক ও ইভটিজিং এবং সড়ক অবকাঠামোর দুরবস্থাসহ বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করা হয়।
এ সময় নগর পরিকল্পনাবিদরা পৌর এলাকার বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নগর উন্নয়নে পরিকল্পিত অবকাঠামো, নাগরিক সেবা সম্প্রসারণ, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পরিবেশবান্ধব নগর ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
কর্মশালায় পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের স্থানীয় নাগরিকরা তাদের নিজ নিজ এলাকার সমস্যা, সম্ভাবনা ও উন্নয়ন-চাহিদা তুলে ধরেন। তারা মহাপরিকল্পনায় স্থানীয় জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবসম্মত ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান।
সংশ্লিষ্টরা জানান, স্থানীয় জনগণের মতামত ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে প্রণীত মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে চন্দনাইশ পৌরসভার ভবিষ্যৎ উন্নয়নকে আরও পরিকল্পিত ও টেকসই করার সুযোগ তৈরি হবে।