অপরাধ দমন শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একক দায়িত্ব নয়; জনগণের সাহস, সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, বিপিএম।
শনিবার (২ আগস্ট) সীতাকুণ্ড উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ভাটেরখীল মসজিদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত সুধী সমাবেশ ও উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
পুলিশ সুপার বলেন, “ভয় অপরাধীদের শক্তি জোগায়, আর জনগণের সাহস অপরাধকে পরাজিত করে।” তাই অন্যায়ের বিরুদ্ধে নীরব না থেকে আইনের প্রতি আস্থা রেখে সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, শুধু অপরাধীকে গ্রেপ্তার করাই পুলিশের লক্ষ্য নয়; অপরাধ সৃষ্টির কারণ চিহ্নিত করে এমন সামাজিক পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে, যাতে নতুন করে কোনো তরুণ অপরাধের পথে না যায়। এ সময় তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য নতুন করে যেন আর কোনো ‘ইরান’ তৈরি না হয়।”
এ লক্ষ্যে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় ও সামাজিক নেতৃত্ব, জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনের সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
মাদককে সমাজ ধ্বংসের অন্যতম প্রধান অনুঘটক উল্লেখ করে পুলিশ সুপার বলেন, মাদক শুধু একটি পরিবার নয়, পুরো সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিপথগামী করে। মাদক নির্মূলে আইনগত পদক্ষেপের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তরুণদের শিক্ষা, খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় স্থানীয় বাসিন্দারা এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও কিশোর অপরাধ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা নিয়মিত পুলিশি টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদারের দাবি জানান।
স্থানীয়দের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ সুপার বলেন, অপরাধীর পরিচয়, প্রভাব বা অবস্থান নয়—আইনের শাসনই হবে প্রতিটি সিদ্ধান্তের একমাত্র ভিত্তি। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি সবাইকে আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে যেকোনো অপরাধের তথ্য দ্রুত পুলিশকে জানিয়ে তদন্তে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুধীজন, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশ শেষে উপস্থিত জনসাধারণ মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও সব ধরনের অপরাধমুক্ত একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও মানবিক সীতাকুণ্ড গড়ে তুলতে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।