প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় চট্টগ্রাম নগর ও জেলার পুকুর-জলাশয় পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রশাসন ও পুলিশ যৌথভাবে মাঠে নেমেছে। ‘পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম’ প্রতিপাদ্যে শনিবার দুপুরে নগরের কাজীর দেউড়ি এলাকার কাজীবাড়ি পুকুরে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমসহ প্রশাসন, পুলিশ ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।
চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ে সরকারি দপ্তর ও দপ্তরের ছাদ পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করে এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী বলেন, এটি একটি চমৎকার ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। বিভাগের সব জেলায় জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে পুলিশ প্রশাসন এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করবে।
মহানগর পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেন, নগরের সব সংস্থা পরিচ্ছন্নতা অভিযানে যুক্ত হয়েছে। নিজেদের কার্যালয় পরিচ্ছন্ন করার মধ্য দিয়ে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এটি এক দিনের কর্মসূচি নয়, ধারাবাহিকভাবে চলবে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, পুকুর পরিষ্কার রাখা কোনো ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট বিভাগের একার দায়িত্ব নয়; এটি সবার দায়িত্ব। আগামী প্রজন্মের জন্য পরিচ্ছন্ন ও নান্দনিক চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
তিনি জানান, সরকারি-বেসরকারি পুকুর পরিদর্শন করে দেখা গেছে, অনেক প্রতিষ্ঠান নিজ উদ্যোগে পুকুর পরিষ্কার করেছে। যেসব পুকুরে কচুরিপানা, ময়লা-আবর্জনা ও বর্জ্য জমে আছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে পরিষ্কার করা হবে।
পরিষ্কার করা পুকুরে দেশি মাছের পোনা ছাড়ার পরিকল্পনার কথাও জানান জেলা প্রশাসক। এ বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুকুর পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি দেশি মাছের প্রজাতি সংরক্ষণ ও জলাশয়ের পরিবেশগত ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম নগরের অনেক পুকুর আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে ভরাট হয়ে গেছে। অবশিষ্ট পুকুরগুলো সংরক্ষণের পাশাপাশি ভরাট হয়ে যাওয়া জলাশয় উদ্ধারের উদ্যোগও নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক বলেন, সব পুকুর একসঙ্গে পরিষ্কার করা সম্ভব নয়। প্রশাসনের সক্ষমতা ও নাগরিকদের সহযোগিতার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। পরিষ্কারের পর পুকুরগুলো যাতে আবার ময়লা-আবর্জনায় ভরে না যায়, সে জন্য জনসচেতনতা তৈরিতেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
জলাশয় ভরাট করে টার্ফ বা অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পুকুর ও জলাশয় সংরক্ষণ করতে হবে। পরিবেশকে গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্বশীলতার নতুন সংস্কৃতি গড়ে তোলাই এ কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, পুকুরে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা থেকে রোগজীবাণু, ডেঙ্গুর মশা ও বিভিন্ন কীটপতঙ্গের বিস্তার ঘটতে পারে। এতে পানি ও পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এসব ঝুঁকি কমাতেই নগর ও জেলার সরকারি-বেসরকারি পুকুরগুলো পর্যায়ক্রমে পরিচ্ছন্নতার আওতায় আনা হচ্ছে।
এ সময় প্রশাসন ও পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেন।