শিরোনাম
নাঙ্গলমোড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণে ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা বরাদ্দ টেকনাফে কোস্ট গার্ডের অভিযান: দেশীয় মদসহ দুই মাদক কারবারি আটক ‘কিছু ব্যবসায়ী কি ভোক্তাদের আদিম যুগে ফেরত নিতে চান?’—ক্যাব চট্টগ্রাম জিইসির আল-হেলাল হোটেলে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, ৩ লাখ টাকা জরিমানা পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের অডিট আপত্তি: যমুনা টিভির প্রতিবেদন ‘ভুল ব্যাখ্যাভিত্তিক’ দাবি রেলের সাতকানিয়ার ইউএনওর বিরুদ্ধে প্রচারণা: প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, নাকি স্বার্থের সংঘাত? চট্টগ্রাম ওয়াসায় পিপিপি প্রকল্প উন্নয়ন বিষয়ক ৩ দিনব্যাপী বুটক্যাম্প শুরু ২,৭১২ কোটি টাকার এনসিটি যাচ্ছে ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে, বিনিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন লালদিয়ায় আধুনিক বন্দর নির্মাণ করবে এপিএম টার্মিনালস: অর্থমন্ত্রী বাঁশখালীতে ‘আমার গ্রামের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি
মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৮ পূর্বাহ্ন

লালদিয়ায় আধুনিক বন্দর নির্মাণ করবে এপিএম টার্মিনালস: অর্থমন্ত্রী

জাহাঙ্গীর আলম / ৬৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট) বেলা ১১টায় পতেঙ্গায় এপিএম টার্মিনালস লালদিয়ার গ্রাউন্ড ব্রেকিং সিরোমনি অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, এমপি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এপিএম টার্মিনালসের বাংলাদেশে আসা একটি মাইলস্টোন। প্রতিষ্ঠানটি লালদিয়ায় একটি আধুনিক বন্দর নির্মাণ করবে। এ কাজে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে।

তিনি বলেন, নিজের সংসদীয় এলাকায় এই টার্মিনাল নির্মাণ হচ্ছে—এটি তার জন্য আনন্দের বিষয়। দেশে বর্তমানে নির্বাচিত সরকার রয়েছে এবং সরকারের উচ্চাকাঙ্ক্ষী অর্থনৈতিক কর্মসূচি রয়েছে। এই অর্থনৈতিক লক্ষ্য বাস্তবায়নে বেসরকারি খাতকে আরও সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এজন্য দেশের বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের বড় পরিসরে বিনিয়োগে এগিয়ে আসতে হবে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে বড় অবকাঠামোগত প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালের গ্রাউন্ড ব্রেকিংয়ের মধ্য দিয়ে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হওয়ার পথ আরও প্রশস্ত হবে।

তিনি বলেন, এপিএম টার্মিনালস লালদিয়া প্রকল্পটি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) পদ্ধতিতে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এতে আধুনিক বিভিন্ন সুবিধা থাকবে, যা দেশের বন্দর ব্যবস্থাপনা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন জাতির জন্য একটি সুসংবাদ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

শেখ রবিউল আলম আরও বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি। বন্দরকে ঘিরে গড়ে ওঠা বাণিজ্যিক হাব ক্রমেই সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। চট্টগ্রাম বন্দরে বিনিয়োগের জন্য আরও অনেক প্রতিষ্ঠান আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

দেশের স্বার্থে যেসব বিনিয়োগ ও উদ্যোগকে কাজে লাগানো সম্ভব, সরকার সেগুলো বাস্তবায়নে সক্ষম হচ্ছে উল্লেখ করে নৌপরিবহন মন্ত্রী বলেন, এপিএম কনটেইনার টার্মিনাল বাস্তবায়নে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের বড় অংশ পরিচালিত হওয়ায় বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দাবি। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কনটেইনার হ্যান্ডলিং ও জাহাজ ব্যবস্থাপনায় আধুনিক সুবিধা সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তাও বাড়ছে। এ অবস্থায় লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল দেশের বন্দর অবকাঠামোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

নতুন টার্মিনালে আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত ব্যবস্থাপনা সুবিধা যুক্ত হলে কনটেইনার পরিবহন ও হ্যান্ডলিং কার্যক্রম আরও গতিশীল হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এর ফলে আমদানি-রপ্তানি পণ্যের ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়ার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যের সময় ও ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষ করে বৈশ্বিক বাণিজ্যের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও আধুনিক বন্দরে রূপান্তরের ক্ষেত্রে লালদিয়া টার্মিনাল গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে এর সুফল দেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্য খাতে দীর্ঘমেয়াদে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

গ্রাউন্ড ব্রেকিং অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই প্রকল্প এখন বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাবে। সরকারের সহযোগিতা, বেসরকারি বিনিয়োগ এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ