শিরোনাম
উৎসবমুখর পরিবেশে সভাপতি মনির, সাধারণ সম্পাদক এরশাদ আলম মেধার স্বীকৃতিই শিক্ষার্থীদের এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা : আবুল বশর আবু ৪৪ বছর পর সরকারিকরণের পথে কর্ণফুলীর এ.জে. চৌধুরী ডিগ্রি কলেজ কুষ্টিয়া জেলা পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আলতাফ হোসেনের ইন্তেকাল আওয়ামী নৈরাজ্যের প্রতিবাদে ষোলশহরে সাইফুলের নেতৃত্বে নেতাকর্মীর বিক্ষোভ মিছিল দুর্গোৎসবে নিরাপত্তা, মাদক ঠেকাতে কঠোর বার্তা—আকবরশাহে ওসির আহ্বান সন্ত্রাস-নৈরাজ্যের প্রতিবাদে চন্দনাইশে স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ রেল মহাপরিচালককে জড়িয়ে ‘বানোয়াট’ অডিও, তীব্র প্রতিবাদ রেলওয়ের প্রান্তিক মানুষের উন্নয়নে আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে: প্রতিমন্ত্রী শিক্ষার পরিবেশ ও পাঠদান কার্যক্রম দেখতে শিশু বাগ স্কুলে আবু তরাব
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০২ পূর্বাহ্ন

৪৪ বছর পর সরকারিকরণের পথে কর্ণফুলীর এ.জে. চৌধুরী ডিগ্রি কলেজ

আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : / ২৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

প্রতিষ্ঠার ৪৪ বছর পর সরকারিকরণের প্রক্রিয়ায় এগিয়েছে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার এ.জে. চৌধুরী ডিগ্রি কলেজ। স্থানীয় সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কলেজটি সরকারিকরণের লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। একই সঙ্গে গৃহীত কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠাতে বলা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসার-১ ও সংসদ সদস্যদের প্রতিশ্রুত ও প্রত্যাশিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন সমন্বয় সেলের সদস্য সচিব মো. উজ্জল হোসেন স্বাক্ষরিত এ-সংক্রান্ত পত্রটি গত ১৩ সেপ্টেম্বর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে পাঠানো হয়।

সরকারি ওই পত্রে বলা হয়েছে, সংসদীয় আসন-২৯০, চট্টগ্রাম-১৩-এর সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম তাঁর নির্বাচনি এলাকার অন্তর্গত কর্ণফুলী উপজেলার এ.জে. চৌধুরী ডিগ্রি কলেজ সরকারিকরণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছেন। এ বিষয়ে তিনি গত ৭ সেপ্টেম্বর একটি আধা-সরকারি (ডিও) পত্র দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে কলেজটি সরকারিকরণের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাই এবং ডিও পত্র অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে কলেজটি সরকারিকরণের দাবি জানিয়ে আসছেন শিক্ষক-কর্মচারী, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী। এর আগে জাতীয় দৈনিকসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ‘৪৪ বছরেও সরকারিকরণ হয়নি আবদুল জলিল চৌধুরী কলেজ’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এসব প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘদিনের সরকারিকরণের দাবি এবং সংশ্লিষ্টদের বিভিন্ন উদ্যোগের বিষয়টি উঠে আসে।

কলেজটির সাবেক অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, ২০১৬ সালে কর্ণফুলী উপজেলা গঠনের পর থেকেই কলেজটি সরকারি করার চেষ্টা চলছে। ২০২০ ও ২০২২ সালে সাবেক মন্ত্রী এ বিষয়ে ডিও লেটার দিলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।

এরপর স্থানীয় সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম কলেজটি সরকারিকরণের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন। সর্বশেষ গত ২৮ আগস্ট জাতীয় সংসদে কর্ণফুলী আবদুল জলিল চৌধুরী কলেজ সরকারিকরণের দাবি তুলে ধরেন তিনি। সংসদে দেওয়া বক্তব্যে কর্ণফুলী উপজেলার একমাত্র কলেজ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির সরকারিকরণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন সংসদ সদস্য।

কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সমীর রঞ্জন নাথ বলেন, কর্ণফুলীর প্রাচীনতম এ কলেজটি সরকারি করার জন্য আবেদন করা হয়েছে। সংসদ সদস্যের সহযোগিতায় দ্রুত সরকারিকরণের প্রত্যাশা করছেন শিক্ষক-কর্মচারী ও এলাকাবাসী।

এনসিপির চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহিদুল ইসলাম সাহেদ বলেন, সরকারিকরণ হলে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীরা কম খরচে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাবে।

জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ ইসমাইল হক্কানী বলেন, কর্ণফুলীর শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নিম্নআয়ের পরিবারের সন্তানদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে কলেজটি জাতীয়করণ জরুরি।

বিএনপি নেতা ও কলেজ গভর্নিং বডির সদস্য অ্যাডভোকেট এসএম ফোরকান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিটি উপজেলায় একটি করে কলেজ সরকারি করার দাবি থাকলেও কর্ণফুলীর এ প্রতিষ্ঠানটি সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এখন স্থানীয় সংসদ সদস্যের উদ্যোগে সরকারিকরণের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।

কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি ও কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রিদুয়ানুল ইসলাম বলেন, কলেজটি সরকারি হলে এলাকার শিক্ষার মানোন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি অনার্স ও ডিগ্রি পর্যায়ে নতুন বিষয় চালুর সুযোগ সৃষ্টি হবে। সরকারিকরণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির একাডেমিক কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য এসএম মামুন মিয়া বলেন, ১৯৯১ সালে বেগম খালেদা জিয়া আবদুল জলিল চৌধুরী কলেজ মাঠে নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দিয়েছিলেন। তাঁর স্মৃতিবিজড়িত কলেজটি দ্রুত সরকারিকরণের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর প্রতি দাবি জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশের পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসনের মাধ্যমে কলেজটির সরকারিকরণের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে। এ সময় প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো, জমি, শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা, একাডেমিক কার্যক্রম, আর্থিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনাসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করা হতে পারে।

সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেবে। এরপর গৃহীত কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানোর কথা রয়েছে।

সরকারি পত্রটির অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর একান্ত সচিব এবং অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

দীর্ঘদিনের দাবি, সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন, জাতীয় সংসদে দাবি উত্থাপন এবং সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশের ফলে কলেজটি সরকারিকরণের বিষয়টি এখন প্রশাসনিক পর্যায়ে এগিয়েছে। তবে সম্ভাব্যতা যাচাই ও পরবর্তী সরকারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই প্রতিষ্ঠানটির সরকারিকরণ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ