শিশুদের হৃদরোগের সম্ভাব্য লক্ষণ সম্পর্কে অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সময়মতো রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরতে এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রামে সামাজিক সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এভারকেয়ার হসপিটালস, বাংলাদেশ (ঢাকা ও চট্টগ্রাম)-এর পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজি বিভাগের ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে শিশুদের জন্মগত হৃদরোগ, হৃদ্যন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যা, রোগের লক্ষণ, রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা এবং সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা ও মতবিনিময় করেন এভারকেয়ার হসপিটালস, বাংলাদেশ-এর পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা, কো-অর্ডিনেটর ও সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. তাহেরা নাজরীন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতি এক হাজার শিশুর মধ্যে প্রায় ৮ থেকে ১০ জন জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত হতে পারে। জন্মের পরপরই কিছু হৃদরোগের লক্ষণ প্রকাশ পেলেও অনেক ক্ষেত্রে শিশুর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা ধরা পড়ে। আবার কোনো কোনো শিশুর ক্ষেত্রে স্পষ্ট কোনো উপসর্গ ছাড়াও হৃদরোগ থাকতে পারে।
শিশুর দুধ পান বা খাবার খাওয়ার সময় দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়া, অতিরিক্ত ঘাম, শ্বাসকষ্ট, বারবার বুকের সংক্রমণ, স্বাভাবিকভাবে ওজন না বাড়া, অল্পতেই হাঁপিয়ে যাওয়া কিংবা ঠোঁট ও শরীর নীলচে হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে তা গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শিশুদের হৃদরোগের চিকিৎসা শুরুতে বিলম্ব হলে কিছু ক্ষেত্রে জটিলতা বাড়তে পারে। তবে সময়মতো রোগ শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও নিয়মিত ফলোআপ নিশ্চিত করা গেলে অনেক শিশুই স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে। এজন্য অভিভাবকদের হৃদরোগের সম্ভাব্য লক্ষণ সম্পর্কে ধারণা রাখা এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
এভারকেয়ার হসপিটালস, বাংলাদেশ-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও ডা. রত্নদ্বীপ চাস্কার বলেন, “১০ বছরের গৌরবময় এক যাত্রা সম্পন্ন করলো আমাদের পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজি বিভাগ, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের। ডা. তাহেরা নাজরীনসহ এই বিভাগে কর্মরত সবাইকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন।”
তিনি বলেন, হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুদের একটি বড় অংশের ক্ষেত্রে জন্মের পরপরই বা শৈশবের শুরুতে রোগ শনাক্ত করা গেলে ডিভাইস ক্লোজার পদ্ধতিতে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন সম্ভব। এজন্য গর্ভাবস্থায় নিয়মিত আলট্রাসনোগ্রাফি এবং শিশুর জন্মের পর হার্টের রুটিন পরীক্ষা করানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
ডা. তাহেরা নাজরীন বলেন, “শিশুদের হৃদরোগের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সচেতনতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় শ্বাসকষ্ট, খাওয়ার সময় ক্লান্ত হয়ে পড়া, অতিরিক্ত ঘাম বা ওজন না বাড়ার মতো লক্ষণকে সাধারণ সমস্যা মনে করা হয়। এসব লক্ষণ বারবার দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।”
তিনি জানান, গত ১০ বছরে এভারকেয়ারের পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজি বিভাগে ডিভাইস ক্লোজার পদ্ধতির মাধ্যমে ২০০-এর বেশি শিশুর সফলভাবে চিকিৎসা করা হয়েছে। সময়মতো রোগ শনাক্ত ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু করা গেলে অনেক শিশুই সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারে।
শিশুর জন্মের পূর্বেই ফিটাল ইকোকার্ডিওগ্রাফি এবং মায়ের গর্ভধারণের পূর্বে এমএমআর টিকাদান শিশুর হৃদরোগ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এভারকেয়ার হসপিটালস, বাংলাদেশের পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজি বিভাগ গত এক দশক ধরে শিশুদের জন্মগত হৃদরোগসহ বিভিন্ন হৃদ্যন্ত্রের সমস্যা নির্ণয় ও চিকিৎসায় বিশেষায়িত সেবা দিয়ে আসছে। বিভাগটিতে শিশুদের বয়স ও রোগের ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ইকোকার্ডিওগ্রাফিসহ বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সুবিধা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সমন্বিত চিকিৎসা এবং নিয়মিত ফলোআপের ব্যবস্থা রয়েছে।
দশ বছর পূর্তির এ আয়োজনের মাধ্যমে একদিকে শিশুদের হৃদরোগ বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন করার পাশাপাশি, অন্যদিকে গত এক দশকে বিভাগের চিকিৎসাসেবা, অভিজ্ঞতা ও কার্যক্রমের ধারাবাহিকতাও তুলে ধরা হয়।