আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর ও নির্বিঘ্নে উদযাপনের লক্ষ্যে সনাতন ধর্মাবলম্বী এবং বিভিন্ন মঠ-মন্দিরের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা শাখা। সভায় পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা, সড়ক সংস্কার, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহসহ বিভিন্ন দাবি ও প্রত্যাশা তুলে ধরেন সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতারা।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টায় রাঙ্গামাটি শহরের বনরুপা ইসলামিক সেন্টার মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির সহকারী অধ্যাপক আব্দুল আলীম। সভা সঞ্চালনা করেন জেলা সেক্রেটারি মনসুরুল হক।
সভায় বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, রাঙ্গামাটির সভাপতি স্বপন কান্তি মহাজন, সাধারণ সম্পাদক সুব্রত দে, পরিষদের নেতা বিপ্লব দাশ মাইকেল, স্বর্ণটিলা মন্দির পূজা উদযাপন পরিষদের সেক্রেটারি সুজন কান্তি দে, কালীবাড়ি পূজা কমিটির সভাপতি নন্দন কুমার দে, আসামবস্তি মন্দির পূজা উদযাপন পরিষদের সেক্রেটারি অজিত দাশ এবং পুরাতন বাসস্টেশন মন্দিরের সেক্রেটারি স্বপন দাশ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া কোখন দে, মৃদুল ধরসহ বিভিন্ন মঠ-মন্দিরের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রচার সম্পাদক অ্যাডভোকেট হারুনুর রশিদ, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন রাঙ্গামাটি জেলা শাখার সভাপতি আব্দুস সালাম এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের জেলা সেক্রেটারি ইরফানুল হক।
সভায় আসন্ন দুর্গাপূজা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনের জন্য পূজামণ্ডপ ও সংশ্লিষ্ট সড়কে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, জরুরি ভিত্তিতে সড়ক মেরামত, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতারা।
তাঁরা বলেন, দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে উদযাপনে প্রশাসনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং উৎসবের পরিবেশ বজায় রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপরও তাঁরা গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় বিরোধী দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সার্বিক সহযোগিতাও কামনা করেন তাঁরা।
সভায় জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে পারস্পরিক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও সহযোগিতা বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন। আসন্ন দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনে সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা ও সহযোগিতার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তাঁরা।
সভায় রাঙ্গামাটিতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং সব ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।