শিক্ষার্থীদের মেধা, মনন, সৃজনশীলতা ও সুপ্ত প্রতিভার বিকাশের পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সাংস্কৃতিক চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদরা। তাঁদের মতে, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি গান, নাচ, আবৃত্তি ও অন্যান্য সৃজনশীল কর্মকাণ্ড শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি শৃঙ্খলাবোধ, মানবিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এমন প্রত্যাশা ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম মহানগরীর জামালখান এলাকার এসএস খালেদ রোডে অবস্থিত ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এনসি স্কুল—চিটাগাং ভিক্টোরি ন্যাশনাল স্কুলের (CVNS) বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টায় নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নাচ, গান, আবৃত্তিসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেয়। শিক্ষার্থীদের সাবলীল উপস্থাপনা, প্রাণবন্ত পরিবেশনা ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানস্থলে সৃষ্টি হয় আনন্দঘন পরিবেশ। এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক প্রতিভা তুলে ধরার পাশাপাশি তাদের সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করার সুযোগ তৈরি হয়।
বিদ্যালয়ের মূল উদ্যোক্তা ও অধ্যক্ষ আশফা খানমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন সিনিয়র শিক্ষক রাবেয়া আঞ্জুম। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর আহমদ হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ সিজ ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. রেজা চৌধুরী, এমডি।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সৈয়দ আনোয়ার হোসেন এবং পরিচালক অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান। বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও আমন্ত্রিত অতিথিরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর আহমদ হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান অর্জন করলেই চলবে না; পাশাপাশি নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ মানুষ হিসেবেও গড়ে উঠতে হবে। শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের চিন্তাশক্তি, মননশীলতা ও দায়িত্ববোধের বিকাশ ঘটানো।
তিনি বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও সৃজনশীল চর্চা শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রতিভা প্রকাশের সুযোগ পায়, আত্মবিশ্বাস অর্জন করে এবং দলগতভাবে কাজ করার মানসিকতা গড়ে তোলে। তাই শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করা প্রয়োজন।
বিশেষ অতিথি অধ্যাপক ডা. রেজা চৌধুরী, এমডি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপভোগ করেন। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের বহুমুখী প্রতিভা বিকাশ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
বিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সৈয়দ আনোয়ার হোসেন ও পরিচালক অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান তাঁদের বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও পরিচালনায় দায়িত্ব পালন করেন বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মিসেস মোমেনা, জিনাত সুলতানা, সালমা আক্তার, নাইমা নাইরিনসহ অন্যান্য শিক্ষক। তাঁদের সমন্বিত প্রচেষ্টা ও সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।
বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শিক্ষার্থীদের জন্য শুধু বিনোদনের আয়োজন নয়; বরং নিজেদের যোগ্যতা ও প্রতিভা প্রকাশ, মঞ্চে কথা বলার দক্ষতা অর্জন এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের পাঠ্যক্রমের বাইরের জগৎ সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জনেও সহায়তা করে।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, নিয়মিত সাংস্কৃতিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে জ্ঞান, দক্ষতা, মানবিকতা ও নৈতিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাংস্কৃতিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও প্রাণবন্ত করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।