চট্টগ্রাম নগরের হালিশহরে সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে জিম্মি, মারধর ও অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মুক্তিপণ দাবির শিকার হয়েছেন দৈনিক পূর্বদেশের সাংবাদিক আবুল হোসাইন। এ সময় তাঁর কাছ থেকে নগদ ১৫ হাজার টাকা এবং বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে চার দফায় আরও ৫৫ হাজার ৩০০ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি তাঁকে ব্ল্যাকমেইল করার উদ্দেশ্যে ভিডিও ধারণ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি।
এ ঘটনায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে অভিযুক্ত করে হালিশহর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে নগরের রমনা আবাসিক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে রমনা আবাসিক এলাকার একটি খালের পূর্ব পাড়ে যান সাংবাদিক আবুল হোসাইন। এ সময় অভিযুক্তরা পেছন থেকে তাঁকে ঘিরে ধরে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। একপর্যায়ে তিনি সেখানে অবৈধ কাজে এসেছেন বলে অভিযোগ তুলে তাঁকে চড়-থাপ্পড় মারা হয়। পরে পিস্তল ও ছুরির ভয় দেখিয়ে পাশের খালের পাড়ে একটি বিলের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে তাঁর পকেটে থাকা নগদ ১৫ হাজার টাকা নিয়ে আরও দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে বিকাশ অ্যাকাউন্টের পিন নম্বর জানতে চাওয়া হয়। ভয়ের মুখে পিন নম্বর দেওয়ার পর তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে চার দফায় মোট ৫৫ হাজার ৩০০ টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
অভিযোগ অনুযায়ী, বিকেল ৫টা ৪১ মিনিটে ০১৩৫২০২৬৭১১ নম্বরে ২৫ হাজার ৫০০ টাকা এবং একই দিন বিকেল ৫টা ৪৬ মিনিটে ওই নম্বরেই আরও ২০ হাজার টাকা পাঠানো হয়। পরে সন্ধ্যা ৬টায় ০১৯৭৭৭২৮৪৬০ নম্বরে পাঁচ হাজার টাকা এবং সন্ধ্যা ৬টা ৩ মিনিটে ০১৮৫৯৯৭৬৮৯১ নম্বরে চার হাজার ৮০০ টাকার লেনদেনের মাধ্যমে অর্থ তুলে নেওয়া হয়।
সাংবাদিক আবুল হোসাইনের অভিযোগ, ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা এবং তাঁকে ব্ল্যাকমেইল করার উদ্দেশ্যে অভিযুক্তরা তাঁর হাতে কনডমের প্যাকেট ধরিয়ে দেন। এরপর তাঁকে ওই এলাকায় অবৈধ কাজের উদ্দেশ্যে আসার কথা স্বীকার করতে চাপ দেওয়া হয় এবং জোরপূর্বক বক্তব্য আদায় করে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করা হয়।
এ বিষয়ে কাউকে কিছু জানালে কিংবা আইনের আশ্রয় নিলে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
লিখিত অভিযোগে অভিযুক্ত হিসেবে মো. সাইফুল ওরফে ভেডা সাইফুল, সৈকত, মহিত, বাইট্টা বাবুল, রবিন ও অনিকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে আরও ১০ থেকে ১২ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি জড়িত ছিলেন বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী।
সাংবাদিক আবুল হোসাইন বলেন, সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে এমন পরিস্থিতির শিকার হবেন, তা তিনি কল্পনাও করেননি। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে মারধর ও অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে টাকা নেওয়ার পাশাপাশি ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
ঘটনার পর আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে অভিযুক্তদের পরিচয় সম্পর্কে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহের পর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
তবে অভিযোগে উল্লিখিত ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং এ বিষয়ে হালিশহর থানা পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা, অভিযুক্তদের সংশ্লিষ্টতা এবং অর্থ লেনদেনের বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।