শিরোনাম
নির্বিঘ্নে দুর্গাপূজা উদযাপন সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের প্রতিফলন: আবু সুফিয়ান এমপি লাঙ্গলকোট-লাকসাম সেকশনে কর্ণফুলী কমিউটার ট্রেন লাইনচ্যুত, বরখাস্ত উপসহকারী প্রকৌশলী সড়ক ও নৌপথে দুর্ঘটনা রোধে রাঙামাটিতে নিরাপদ যাত্রা ফাউন্ডেশনের প্রচারণা রাঙামাটিতে যানবাহন মেরামত প্রশিক্ষণ সম্পন্ন, সনদ পেলেন ১৭ প্রশিক্ষণার্থী শিশুর সংকটাপন্ন অবস্থায় PICU কেন গুরুত্বপূর্ণ: দ্রুত সিদ্ধান্ত, নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও সমন্বিত চিকিৎসা ধর্মীয় সম্প্রীতির অনন্য নজির শারদীয় দুর্গোৎসব: আসলাম চৌধুরী ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে দক্ষিণ চট্টগ্রামের পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ অভিনয়েই পরিচিতি চান রশ্নি আয়াত সৃজনশীলতায় স্বপ্ন বুনছেন ফারহানা কামাল / ফ্যাশন দুনিয়ায় স্বপ্নবাজ ফারহানা কামাল ব্রেস্ট কনজারভিং সার্জারি: স্তন ক্যানসারের চিকিৎসায় স্তন সংরক্ষণের সুযোগ
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২০ পূর্বাহ্ন

উত্তর সাতকানিয়া ও দোহাজারী নিয়ে আমার প্রস্তাব: বিরোধ নয়, সমতা ও জনস্বার্থই হোক সিদ্ধান্তের ভিত্তি-রাহী

লেখক, শফিকুল ইসলাম রাহী, সিআইপি / ১৪৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬

উত্তর সাতকানিয়া ও দোহাজারীকে ঘিরে নতুন উপজেলা গঠনের দাবি, প্রশাসনিক সীমানা নির্ধারণ এবং নামকরণ নিয়ে চলমান আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আমি আমার কিছু ব্যক্তিগত মতামত ও প্রস্তাব তুলে ধরতে চাই। আমার অবস্থান স্পষ্ট—আমিও উত্তর সাতকানিয়ার পক্ষে। উত্তর সাতকানিয়ার জন্য আমারও সামান্য ঘাম, শ্রম ও অবদান রয়েছে। এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি, প্রত্যাশা ও আবেগের প্রতি আমার যথেষ্ট শ্রদ্ধা রয়েছে। তবে একটি নতুন উপজেলা গঠনের প্রশ্নে শুধু একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের দাবি নয়, সংশ্লিষ্ট সব এলাকার মানুষের ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগব্যবস্থা, প্রশাসনিক সেবা প্রাপ্তির সুবিধা এবং দীর্ঘদিনের জনদাবিকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

আমরা যারা উত্তর সাতকানিয়ার ছয়টি ইউনিয়নের বাসিন্দা, তাদের জন্য সাতকানিয়া থানা ও উপজেলা সদরে গিয়ে প্রশাসনিক ও সরকারি সেবা গ্রহণ করা দূরত্ব ও যাতায়াতের অসুবিধার কারণে অনেক সময় কষ্টকর হয়ে পড়ে। একইভাবে দোহাজারী পৌরসভা ও ধোপাছড়ী ইউনিয়নের মানুষের জন্যও চন্দনাইশ থানা ও উপজেলা সদরে গিয়ে প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণে বাস্তব ভোগান্তি রয়েছে। এ কারণে দোহাজারী ও ধোপাছড়ীবাসীও দীর্ঘদিন ধরে পৃথক থানা ও উপজেলা প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে আসছেন।

এখন প্রশ্ন হলো, একটি এলাকার মানুষের ভোগান্তি দূর করতে গিয়ে অন্য একটি এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তিকে আমরা কি উপেক্ষা করতে পারি? আমার বিবেচনায়, উভয় অঞ্চলের মানুষের ন্যায্য দাবিকে সমন্বয় করে এমন একটি সমাধান খুঁজে বের করা উচিত, যাতে প্রশাসনিক সেবা মানুষের আরও কাছাকাছি পৌঁছায় এবং কোনো জনগোষ্ঠী নিজেদের বঞ্চিত মনে না করে।

নতুন উপজেলা গঠনে আমার প্রস্তাব

আমার প্রস্তাব হলো, উত্তর সাতকানিয়ার ছয়টি ইউনিয়নের সঙ্গে দোহাজারী পৌরসভা ও ধোপাছড়ী ইউনিয়নকে অন্তর্ভুক্ত করে মোট সাতটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে নতুন একটি উপজেলা গঠনের বিষয়টি বিবেচনা করা হোক। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত উপজেলার সদর হিসেবে বিওসির মোড়কে সম্ভাব্য স্থান হিসেবে বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে।

আমার ধারণা, বিওসির মোড়কে উপজেলা সদর করার প্রস্তাবটি গুরুত্বসহকারে যাচাই করা হলে তা সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের যাতায়াত, যোগাযোগ ও প্রশাসনিক সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে কার্যকর সমাধান হতে পারে। তবে এ স্থানটি কেন্দ্রীয় যোগাযোগস্থল হিসেবে কতটা উপযোগী, তা সড়ক যোগাযোগ, বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে দূরত্ব, জনসংখ্যা, সরকারি দপ্তর স্থাপনের সুযোগ-সুবিধা এবং অন্যান্য প্রশাসনিক মানদণ্ডের ভিত্তিতে নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

এভাবে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম-১৪ সংসদীয় এলাকাকে দুটি উপজেলা ও দুটি পৌরসভাভিত্তিক কাঠামোয় বিন্যস্ত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি দুই উপজেলার ইউনিয়ন ও পৌরসভার সংখ্যার মধ্যে সাংগঠনিক সমতা বজায় রাখার একটি সম্ভাবনাও তৈরি হবে। তবে এ ক্ষেত্রে সংখ্যাগত সমতার পাশাপাশি জনসংখ্যা, আয়তন, রাজস্ব, যোগাযোগব্যবস্থা, প্রশাসনিক সক্ষমতা ও সরকারি নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করাও জরুরি।

দুটি উপজেলায় সমতাভিত্তিক প্রশাসনিক কাঠামোর প্রস্তাব

আমার প্রস্তাব অনুযায়ী, বিদ্যমান চন্দনাইশ উপজেলার কাঠামোতে সাতটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রাখার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। প্রস্তাবিত ইউনিয়নগুলো হলো—

১. কাঞ্চনাবাদ ইউনিয়ন
২. জোয়ারা ইউনিয়ন
৩. বরকল ইউনিয়ন
৪. বরমা ইউনিয়ন
৫. বৈলতলী ইউনিয়ন
৬. সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন
৭. হাশিমপুর ইউনিয়ন

এর সঙ্গে থাকবে চন্দনাইশ পৌরসভা।

অন্যদিকে, প্রস্তাবিত নতুন উপজেলায় সাতটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করছি। ইউনিয়নগুলো হলো—

১. কালিয়াইশ ইউনিয়ন
২. কেওচিয়া ইউনিয়ন
৩. বাজালিয়া ইউনিয়ন
৪. পুরানগড় ইউনিয়ন
৫. ধর্মপুর ইউনিয়ন
৬. খাগরিয়া ইউনিয়ন
৭. ধোপাছড়ী ইউনিয়ন

এর সঙ্গে থাকবে দোহাজারী পৌরসভা।

অর্থাৎ, প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে উভয় উপজেলায় সাতটি করে ইউনিয়ন ও একটি করে পৌরসভা রাখার সুযোগ তৈরি হবে। আমার কাছে এটি একটি ভারসাম্যপূর্ণ প্রশাসনিক কাঠামোর প্রস্তাব। তবে এ কাঠামো বাস্তবায়নের আগে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নগুলোর বর্তমান প্রশাসনিক অবস্থান, ভৌগোলিক সংযুক্তি এবং সরকারি পুনর্বিন্যাসের নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য যাচাই করা অপরিহার্য। আমার বক্তব্য হলো, প্রস্তাবটি বাতিল বা গ্রহণ করার আগে অন্তত নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা হোক।

উপজেলার নামকরণে নিরপেক্ষ বিকল্প হতে পারে ‘সাংগু উপজেলা’

এবার আসি নামকরণের বিষয়ে। দোহাজারীবাসী নতুন থানা ও উপজেলার নাম দোহাজারীর নামে রাখার দাবি জানাতেই পারেন। একইভাবে উত্তর সাতকানিয়ার ছয়টি ইউনিয়নের মানুষ উত্তর সাতকানিয়া নামেই থানা ও উপজেলা প্রতিষ্ঠার দাবি জানালে সেটিও তাঁদের দৃষ্টিকোণ থেকে যৌক্তিক। নিজ নিজ এলাকার পরিচয়, ঐতিহ্য ও দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার প্রতি মানুষের আবেগ থাকা স্বাভাবিক। এ নিয়ে কাউকে দোষারোপ করার কোনো কারণ নেই।

কিন্তু যখন একটি অভিন্ন প্রশাসনিক কাঠামো গঠনের প্রশ্নে দুটি পক্ষেরই নিজস্ব নামের দাবি রয়েছে, তখন এমন একটি নাম বিবেচনা করা যেতে পারে, যা কোনো পক্ষের একক পরিচয়কে প্রাধান্য না দিয়ে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়ার সুযোগ তৈরি করবে।

বাংলাদেশে নদীর নাম অনুসারে বিভিন্ন প্রশাসনিক এলাকার নামকরণের দৃষ্টান্ত রয়েছে। কর্ণফুলী নদীর নাম অনুসারে কর্ণফুলী উপজেলা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একইভাবে স্থানীয় নদী ও ভৌগোলিক পরিচয়ও কোনো অঞ্চলের স্বতন্ত্র পরিচিতি গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখে।

সেই বিবেচনায় আমার প্রস্তাব, দীর্ঘদিন ধরে প্রবহমান আমাদের পরিচিত সাংগু নদীর নাম অনুসারে নতুন উপজেলার নাম **‘সাংগু উপজেলা’** রাখার বিষয়টি আলোচনায় আনা হোক।

আমার বিশ্বাস, উত্তর সাতকানিয়া কিংবা দোহাজারী—কোনো একটি পক্ষের নামকে প্রাধান্য না দিয়ে সাংগু নদীর নামে নামকরণের প্রস্তাবটি বিবেচনা করা হলে তা একটি নিরপেক্ষ বিকল্প হিসেবে সামনে আসতে পারে। এতে দুই পক্ষের নিজস্ব নামকরণের দাবি থেকে সরে এসে বৃহত্তর আঞ্চলিক পরিচয়ের ভিত্তিতে ঐকমত্যে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে নামটির ভৌগোলিক প্রাসঙ্গিকতা, স্থানীয় মানুষের মতামত, প্রশাসনিক গ্রহণযোগ্যতা ও সরকারি নামকরণবিধির সঙ্গে সামঞ্জস্যও যাচাই করা প্রয়োজন।

খাগরিয়াবাসীর বাস্তবতা ও দোহাজারীকেন্দ্রিক জীবনযাত্রা

এবার আসি আমার নিজের ইউনিয়ন খাগরিয়ার প্রসঙ্গে। যদি উত্তর সাতকানিয়ার ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে দোহাজারীকে বাদ দিয়ে নতুন উপজেলা গঠন করা হয়, তাহলে খাগরিয়া ইউনিয়নের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর জন্য পরিস্থিতি অনেকটা ‘যে লাউ, সেই কদু’ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

খাগরিয়া ইউনিয়নের মোট নয়টি ওয়ার্ডের মধ্যে মৈশামুড়া মৌলভীর দোকানসংলগ্ন একটি ওয়ার্ডের যাতায়াতের বাস্তবতা কিছুটা ভিন্ন হলেও বাকি আটটি ওয়ার্ডের বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে দৈনন্দিন চলাচল ও বিভিন্ন প্রয়োজনে দোহাজারী হয়ে যাতায়াত করতে হয়।

খাগরিয়ার অনেক মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা দোহাজারী বাণিজ্যিক কেন্দ্রের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সকালবেলার নাশতা থেকে শুরু করে বাজার-সদাই, প্রয়োজনীয় কেনাকাটা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অন্যান্য কাজে দোহাজারীর ওপর তাঁদের নির্ভরতা রয়েছে। দিনের বড় একটি অংশও অনেকে দোহাজারীতে কাটান।

এটি শুধু আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার বিষয় নয়; বরং খাগরিয়ার মানুষের দৈনন্দিন যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য, বাজারব্যবস্থা ও জীবনযাত্রার সঙ্গে দোহাজারীর যে বাস্তব সম্পর্ক রয়েছে, সেটিও প্রশাসনিক সীমানা নির্ধারণের আলোচনায় বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।

তাই আমার প্রশ্ন, যে এলাকার মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, যাতায়াত ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড দোহাজারীকেন্দ্রিক, তাঁদের বাস্তবতা বিবেচনা না করে শুধু ছয়টি ইউনিয়নকে নিয়ে উপজেলা গঠন করলে তাঁদের ভোগান্তি কতটা কমবে?

নতুন উপজেলা গঠনের মূল উদ্দেশ্য যদি হয় মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়া, তাহলে মানুষের প্রকৃত চলাচলের পথ, যোগাযোগের কেন্দ্র, বাজারব্যবস্থা ও দৈনন্দিন প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া কি উচিত নয়? প্রশাসনিক সীমানা নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু মানচিত্রের রেখা নয়, মানুষের বাস্তব জীবনযাত্রাকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

আমার বক্তব্য কোনো এলাকার বিরুদ্ধে নয়

আমি জানি, আমি একজন পরাজিত ও অথর্ব মানুষ। আমার কথা হয়তো কেউ রাখবেন না। তবুও মনের কোণে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা কথাগুলো আরেকবার সবার সামনে তুলে ধরলাম। ১৯৯৬ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে আমি আমার এই মনোভাব প্রকাশ করে আসছি। আজও একই বিশ্বাস থেকে বিষয়টি শেষবারের মতো তুলে ধরছি।

হয়তো আমার এই লেখাটি পড়ে উত্তর সাতকানিয়া ও দোহাজারীর অনেক ভাই আমার সমালোচনা করবেন। কেউ হয়তো আমার প্রস্তাবের সঙ্গে একমত হবেন না, কেউ হয়তো কঠোর সমালোচনাও করবেন। সব জেনেশুনেই আমি আমার মতামত প্রকাশ করছি। কারণ, মতামত প্রকাশ করা আমার অধিকার। তবে আমার মতামতই চূড়ান্ত হতে হবে, এমন কোনো দাবি আমার নেই।

আমি শুধু চাই, বিষয়টি আবেগ, ব্যক্তিগত আক্রোশ কিংবা একে অপরকে প্রতিপক্ষ মনে করার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নয়; বরং যুক্তি, তথ্য, ভৌগোলিক বাস্তবতা ও বৃহত্তর জনস্বার্থের ভিত্তিতে বিবেচনা করা হোক।

উত্তর সাতকানিয়ার মানুষ তাঁদের এলাকার উন্নয়ন ও প্রশাসনিক সুবিধা চান—এটি তাঁদের ন্যায্য প্রত্যাশা। দোহাজারী ও ধোপাছড়ীর মানুষও নিজেদের প্রশাসনিক সেবা সহজ করতে চান—এটিও ন্যায্য প্রত্যাশা। একইভাবে খাগরিয়াসহ সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নগুলোর মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও বাস্তব প্রয়োজনের কথাও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা দরকার।

আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত, সব পক্ষের বক্তব্য শোনা, বাস্তব তথ্য যাচাই করা এবং সবার জন্য গ্রহণযোগ্য একটি সমাধান খুঁজে বের করা। প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত যেন কোনো পক্ষের জয়-পরাজয়ের বিষয় হয়ে না দাঁড়ায়; বরং মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করা ও সরকারি সেবা আরও সহজলভ্য করার মাধ্যম হয়ে ওঠে।

বিভেদ নয়, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাই হোক আমাদের শক্তি

আমাদের কথাগুলো হোক বিদ্বেষবিহীন, যৌক্তিক ও অহিংস। পৃথিবী ছোট। আমাদের চট্টগ্রাম-১৪ সংসদীয় এলাকাও তুলনামূলকভাবে ছোট একটি অঞ্চল। এখানে বসবাসকারী মানুষের মধ্যে প্রতিনিয়ত দেখা-সাক্ষাৎ হয়, সামাজিক ও পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে, ব্যবসা-বাণিজ্য রয়েছে এবং পারস্পরিক নির্ভরশীলতার মধ্য দিয়েই আমাদের চলতে হয়।

আজ প্রশাসনিক সীমানা কিংবা উপজেলার নাম নিয়ে মতপার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু সেই মতপার্থক্য যেন আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক নষ্ট না করে, ভাইয়ে ভাইয়ে বিভেদ সৃষ্টি না করে কিংবা দীর্ঘদিনের সামাজিক সম্প্রীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে।

আমরা যেন যুক্তির জবাব যুক্তি দিয়ে দিই, তথ্যের জবাব তথ্য দিয়ে দিই এবং ভিন্নমতকে সম্মান করতে শিখি। প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত যেটিই হোক, তা যেন মানুষের প্রকৃত কল্যাণ, সেবাপ্রাপ্তির সুবিধা ও ন্যায়সংগত বিবেচনার ভিত্তিতে গৃহীত হয়।

আমার প্রস্তাবের সঙ্গে কেউ একমত না হলেও তাঁর প্রতি আমার কোনো বিদ্বেষ নেই। একইভাবে আমার মতামতের সঙ্গে অন্য কেউ একমত না হলে তাঁর প্রতিও আমার কোনো অভিযোগ নেই। আমি শুধু চাই, আমাদের এলাকার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনাটি হোক শান্তিপূর্ণ, তথ্যনির্ভর, পারস্পরিক শ্রদ্ধাপূর্ণ ও অহিংস।

আমরা যেন একে অপরের মতামত শুনতে পারি, যুক্তির ভিত্তিতে আলোচনা করতে পারি এবং বৃহত্তর জনস্বার্থকে ব্যক্তিগত কিংবা আঞ্চলিক আবেগের ঊর্ধ্বে স্থান দিতে পারি। প্রশাসনিক সীমানা পরিবর্তিত হতে পারে, উপজেলার নামও ভিন্ন হতে পারে; কিন্তু আমাদের সামাজিক বন্ধন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভ্রাতৃত্ববোধ যেন অটুট থাকে।

চোখে চোখ পড়লে যেন আমাদের কারও লজ্জাবোধ করতে না হয়। মতের অমিল থাকলেও যেন আমরা একে অপরকে সম্মান করতে পারি—এটাই আমার প্রত্যাশা।

সকলকে জানাই আন্তরিক সালাম।
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।

  • — লেখক, শফিকুল ইসলাম রাহী, সিআইপি


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ