বৈচিত্র্যের মাঝে সম্প্রীতিই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান। তিনি বলেন, সম্প্রীতি রক্ষা ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি সম্মান জানাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীকাল চট্টগ্রামে আসছেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাই-বোনেরা আস্থা রেখে বিএনপিকে ভোট দিয়েছেন। সেই আস্থার মর্যাদা দিতেই প্রধানমন্ত্রী নিজ উদ্যোগে চট্টগ্রামের পূজামণ্ডপে আসছেন।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় নগরীর পাহাড়তলীর সাগরিকা মোড়ে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে আয়োজিত স্বাগত মিছিলপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সাঈদ আল নোমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন চট্টগ্রামের জন্য একটি বিরল ঘটনা হতে যাচ্ছে। এ নগরীতে হাজার হাজার সনাতন ধর্মাবলম্বীর বসবাস। ১৯৯৩ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জেএম সেন হলে এসেছিলেন। চট্টগ্রামের তৎকালীন নেতা, ওই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী প্রয়াত আবদুল্লাহ আল নোমান তাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়ে নিয়ে এসেছিলেন। এবার তাঁরই সন্তান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একই পূজামণ্ডপে আসছেন।
তিনি আরও বলেন, মানবতাই আমাদের পরিচয়, আর সম্প্রীতি আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। বৈচিত্র্য, সম্প্রীতি ও মানবতার অপর নাম প্রার্থনা। সেই প্রার্থনাই তারেক রহমানের কাছে রাজনীতি। রাজনীতি যদি ইবাদত, প্রার্থনা ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার মাধ্যম না হয়, তাহলে সমাজের একটি অংশ কষ্ট পাবে। সেই অংশটি হলো সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাই-বোনেরা। তাঁদের কষ্ট পুরো সমাজের কষ্ট।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণের বিষয়ে সংসদ সদস্য বলেন, পূজার এই বিশেষ সময়ে তাঁদের শুধু নিরাপত্তা দেওয়াই নয়, সার্বিক সহযোগিতাও করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বিএনপি এবং সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি তাঁদের পাশে রয়েছেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট দিয়ে নাগরিকেরা যে আস্থা রেখেছেন, তার প্রতিদান দেওয়ার দায়িত্ব এখন তাঁদের। মানুষের খাদ্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাদক ও কিশোর গ্যাংমুক্ত সমাজ গড়ে তোলাও তাঁদের দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বিগত সাড়ে ১৭ বছরের সরকারের সমালোচনা করে সাঈদ আল নোমান বলেন, ওই সময়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কল্যাণে কার্যকর কী কাজ করা হয়েছে, তা দেখাতে পারবে না তারা। এখন তারেক রহমানের নেতৃত্বে সাম্য, ন্যায়বিচার ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সমাবেশ শেষে সাঈদ আল নোমানের নেতৃত্বে সাগরিকা মোড় থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য আনন্দ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সাগরিকা স্কয়ারে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় তিনি কাঁধে ঢাক নিয়ে বাজিয়ে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করেন। পরে পূজা উপলক্ষে দুস্থ মানুষের মধ্যে উপহারসামগ্রী বিতরণ করা হয়।
নগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী বেলালের সভাপতিত্বে এবং পাহাড়তলী থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন জিয়ার সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য সাথী উদয় কুসুম বড়ুয়া, নগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুর রহমান স্বপন, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এস কে খোদা তোতন, নগর বিএনপির সদস্য আবুল হাশেম ও মোশাররফ হোসেন ডিপ্টি, হালিশহর থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, তোফাজ্জল হোসেন, গোলাম মনসুর, খাজা আলাউদ্দিন, আশরাফ খান, আলী হায়দার, মজিবুল হক মজু, এস এম আজাদ, দাদন দড়ি সুরুজ, শহীদ মোহাম্মদ চৌধুরী, দিদারুল আলম সুমন ও আরিফ মেহেদী।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি রাজীব ধর তমাল, পাহাড়তলী থানা পূজা কমিটির সভাপতি মিঠুন সরকার, হালিশহর পূজা কমিটির সভাপতি লিটন দেবনাথ লিখন, খুলশী পূজা কমিটির সভাপতি দেবাশীষ মজুমদার, পাঁচলাইশ পূজা কমিটির সভাপতি শুভাশীষ চৌধুরী, ডাবল মুরিং পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জিন্টু শীল, সবুজ সংঘের সভাপতি মিল্টন চন্দ্র দাশ, বিকাশ শর্মাসহ বিএনপি ও বিভিন্ন পূজা কমিটির নেতারা।