চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার চাতুরী চৌমুহনী এলাকায় ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার প্রসার এবং শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চায় উৎসাহিত করতে মনির আহমদ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পবিত্র কোরআন শরীফ ও শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এ উদ্যোগের আওতায় এলাকার মনিরুল কোরআন মডেল মাদ্রাসা ও জিন্নুরাইন হিফজুল কোরআন মাদ্রাসার কোমলমতি শিক্ষার্থীদের হাতে কোরআন শরীফ ও বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ তুলে দেওয়া হয়।
শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করা, পবিত্র কোরআন পাঠ ও অধ্যয়নে আগ্রহ বাড়ানো এবং তাদের শিক্ষাজীবনে সহায়তা করার লক্ষ্যেই এ মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করে মনির আহমদ ফাউন্ডেশন। এ ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধর্মীয় মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও জ্ঞান অর্জনের প্রতি আগ্রহ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রোটারিয়ান এস এম আজিজ, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার প্রধান উপদেষ্টা। প্রধান বক্তা ছিলেন মনির আহমদ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা এ কিউ এম মোসলেহ উদ্দিন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মো. সেলিম, মো. আজিম, হাফেজ নাঈম উদ্দিন ও মো. ফেরদৌস। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাওলানা মো. নাজিম উদ্দিন কাদেরী। এ সময় সংশ্লিষ্ট দুই মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পবিত্র কোরআন শরীফ শুধু ধর্মীয় শিক্ষার অন্যতম প্রধান ভিত্তি নয়, বরং মানুষের নৈতিকতা, মানবিকতা ও সৎ জীবন গঠনেরও গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা। ছোটবেলা থেকেই শিশুদের কোরআন শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করা গেলে তারা ভবিষ্যতে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবে।
তাঁরা আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের হাতে কোরআন শরীফ ও শিক্ষা সামগ্রী তুলে দেওয়ার মতো উদ্যোগ তাদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে সহায়তা করে। বিশেষ করে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি জ্ঞান অর্জনের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরিতে ব্যক্তি ও সামাজিক সংগঠনগুলোর এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বক্তারা মনির আহমদ ফাউন্ডেশনের এ উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, শিক্ষার প্রসার ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে তাদের ভবিষ্যৎ গঠনে ইতিবাচক অবদান রাখা সম্ভব।
মনির আহমদ ফাউন্ডেশনের এ উদ্যোগ স্থানীয় শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চায় উৎসাহ জোগানোর পাশাপাশি সমাজে মানবিকতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব জোরদার করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন উপস্থিত ব্যক্তিরা। তাঁরা ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা জানান।