প্রাথমিক তদন্তে রেললাইন মেরামতে সমন্বয়হীনতার তথ্য, গঠন করা হয়েছে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি
চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা অভিমুখী ৩ আপ কর্ণফুলী কমিউটার ট্রেন লাইনচ্যুত হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে লাঙ্গলকোট-লাকসাম রেলসেকশনের ১২২/৭-৮ কিলোমিটার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ট্রেনটির ইঞ্জিনসহ চারটি কোচের চাকা লাইনচ্যুত হয়। তবে এ ঘটনায় কোনো যাত্রী হতাহত হননি বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
দুর্ঘটনার পর ওই সেকশনের আপ লাইন বন্ধ হয়ে গেলেও ডাউন লাইন দিয়ে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনটি উদ্ধারে চট্টগ্রাম থেকে রিলিফ ট্রেন ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে বিভাগীয় পর্যায়ে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট উপসহকারী প্রকৌশলীকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশও দেওয়া হয়েছে।
২১ অক্টোবর (বুধবার) বাংলাদেশ রেলওয়ের গণসংযোগ শাখা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
রেলওয়ের প্রাথমিক তদন্তের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাস্থলে পূর্বঘোষণা ছাড়াই এবং কন্ট্রোল রুমকে অবহিত না করে রেললাইন খুলে মেরামতের কাজ চলছিল। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট স্টেশন মাস্টার ও ট্রেনের চালক অবগত ছিলেন না বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফলে ট্রেনটি স্বাভাবিক গতিতে ওই এলাকায় প্রবেশ করার পর সামনে রেললাইন মেরামতের বিষয়টি বুঝতে পেরে জরুরি ব্রেক প্রয়োগ করা হলেও দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়নি। এতে ট্রেনটির ইঞ্জিনসহ চারটি কোচের চাকা লাইনচ্যুত হয় এবং আপ লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে রেলওয়ে। চট্টগ্রাম থেকে পাঠানো রিলিফ ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাইনচ্যুত ইঞ্জিন ও কোচ উদ্ধারের কাজ শুরু করে। রেলওয়ের পক্ষ থেকে বুধবার রাত ৯টার মধ্যে উদ্ধারকাজ শেষ করার আশা প্রকাশ করা হয়।
প্রাথমিকভাবে রেললাইনের মেরামতকাজে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সমন্বয়হীনতাকে দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে রেলওয়ে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়দায়িত্ব নির্ধারণে গঠিত তদন্ত কমিটির অনুসন্ধান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট উপসহকারী প্রকৌশলীকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার বিস্তারিত কারণ, নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না এবং সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বে কোনো ব্যত্যয় ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
রেললাইনে মেরামতকাজ চলাকালে ট্রেন চলাচল নিয়ন্ত্রণ, সংশ্লিষ্ট স্টেশন ও কন্ট্রোল রুমকে অবহিত করা এবং ট্রেন চালকদের প্রয়োজনীয় সতর্কবার্তা দেওয়ার বিষয়গুলো রেল চলাচলের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে সমন্বয়ের ঘাটতি থাকলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এদিকে দুর্ঘটনার কারণে রেলযাত্রীদের সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। উদ্ধারকাজ দ্রুত শেষ করে রেল চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
সূত্র: বাংলাদেশ রেলওয়ের গণসংযোগ শাখার সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।