চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান বলেছেন, শারদীয় দুর্গোৎসব নির্বিঘ্নে ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হওয়া সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ এবং প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পূজা উদযাপন পরিষদ ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতার প্রতিফলন। ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার পাশাপাশি সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করতে এ ধরনের উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের অধিকার রয়েছে। এ অধিকার সুরক্ষায় রাষ্ট্র, প্রশাসন ও সমাজের প্রত্যেক নাগরিককে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের ফিরিঙ্গি বাজার ব্রিজঘাট এলাকায় প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আবু সুফিয়ান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চট্টগ্রামে এসে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। তাঁর এ উদ্যোগ ধর্মীয় উৎসবের প্রতি সরকারের আন্তরিকতা এবং সব সম্প্রদায়ের মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকারের প্রতিফলন। দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সরকারের গুরুত্ব দেওয়ার ফলে উৎসবটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সহায়ক পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, উৎসব কেবল একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের আনন্দ-আয়োজন নয়; এটি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ় করারও একটি উপলক্ষ। দুর্গোৎসবকে ঘিরে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে যে সৌহার্দ্য ও সহযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, তা সারা বছর ধরে রাখতে হবে। কোনো অপশক্তি যাতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে।
সংসদ সদস্য বলেন, সমাজে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং সহনশীলতার বিকল্প নেই। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কেউ যেন বৈষম্য বা নিরাপত্তাহীনতার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন, নিরাপদ ও সম্প্রীতিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
শারদীয় দুর্গোৎসবের সমাপ্তিতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে আবু সুফিয়ান সবার সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতেও ধর্মীয় উৎসবগুলো পারস্পরিক সহযোগিতা ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
কোতোয়ালি থানা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি লিটন দাশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ার হোসেন লিপু, কোতোয়ালি থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন ও আক্তার খান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক কাউন্সিলর দিদারুল ইসলাম লাবু, ফিরিঙ্গি বাজার ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক সাদেকুর রহমান রিপন, পাথরঘাটা ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য সচিব সালাহউদ্দিন, ওয়াসিম, কোতোয়ালি থানা মহিলাদলের সাধারণ সম্পাদিকা মনোয়ারা বাবুল, রাজিব নন্দী দাস, সালমান, সাজু দাশ, মিঠুন দাশসহ পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।