চট্টগ্রাম নগরের চটেশ্বরী রোডের কসমোপলিটন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নাজিফা কানিজের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং চিকিৎসাসেবার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে রোগীর পরিবার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে, হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলার কথা উল্লেখ করে আপাতত নতুন রোগী ভর্তি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হাসপাতালের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. শফিউল হাসান লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। পরে একই দাবিতে প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. শফিউল হাসান অভিযোগ করেন, হাসপাতালের প্রশাসনিক নির্দেশনা অমান্য করে কয়েকজন শেয়ারহোল্ডার ও কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন। এতে হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। হাসপাতালের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখা এবং চিকিৎসাসেবার মান নিশ্চিত করার স্বার্থে আপাতত নতুন রোগী ভর্তি বন্ধ রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, মৃত নাজিফা কানিজের স্বামী মোহাম্মদ জাবেদ অভিযোগ করেন, চিকিৎসকদের অবহেলার কারণে তাঁর স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। তাঁর দাবি, রাইস টিউবের মাধ্যমে খাবার খাওয়ানোর পর তাঁর স্ত্রীর নিউমোনিয়া হয়। কিন্তু দায়িত্বে থাকা চিকিৎসকেরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেননি। এর ফলে তাঁর সন্তানদের অল্প বয়সেই মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত হতে হয়েছে।
নাজিফার বাবা জাফর ইকবাল রিটনও চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে বলেন, মেয়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁরা বারবার চিকিৎসকদের ডেকেছেন। কিন্তু সময়মতো সাড়া পাননি বলে তাঁর দাবি।
হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আবু তৈয়ব রাসেল বলেন, “অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনায় আমরা দুঃখিত। দায়িত্বে অবহেলার সঙ্গে জড়িত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
চেয়ারম্যান ডা. শফিউল হাসান আরও জানান, হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ চলছে। হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনা এবং রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপও কামনা করেন তিনি।
মানববন্ধনে হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলেন, কয়েকজনের অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলার দায় পুরো প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ কর্মীদের ওপর চাপানো উচিত নয়। তাঁরা নাজিফা কানিজের মৃত্যুর নিরপেক্ষ তদন্ত, ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।
তবে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীন তদন্তের ফলাফল বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও সংশ্লিষ্টদের দায় যাচাই করা প্রয়োজন।