টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার পাঠানি ব্রিজ এলাকায় মহাসড়কের একটি অংশ এখনও প্রায় দুই ফুট পানির নিচে রয়েছে। গত মঙ্গলবার থেকে সড়কের ওপর দিয়ে পানির প্রবাহ শুরু হয়।
রবিবার (১২ জুলাই) পর্যন্ত ওই অংশ দিয়ে পানির স্রোত বইছে। তবে আগের তুলনায় যানজট কিছুটা কমলেও ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল করছে।
পানি কমতে শুরু করায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স ও যাত্রীবাহী বিভিন্ন যানবাহনকে এখনও ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। ধীরগতিতে যান চলাচলের কারণে যাত্রীদের ভোগান্তি অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বর্ষা মৌসুমেই পাঠানি ব্রিজ সংলগ্ন মহাসড়কের নিচু অংশ পানিতে তলিয়ে যায়। সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে যান চলাচল ব্যাহত হয়। এবার টানা বর্ষণ ও বন্যার কারণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
এদিকে পাঠানি ব্রিজ সংলগ্ন বড়পাড়া (কসাইপাড়া) এলাকায় মহাসড়কের পূর্ব পাশে দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী জলাবদ্ধতা বিরাজ করছে। জমে থাকা পানিতে ময়লা-আবর্জনা পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাটি থাকলেও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাদের মতে, মহাসড়কের নিচু অংশ অন্তত তিন ফুট উঁচু করে পুনর্নির্মাণ এবং কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তুললে ভবিষ্যতে বর্ষা মৌসুমে এ ধরনের দুর্ভোগ অনেকাংশে কমে আসবে।
ভুক্তভোগী যাত্রী ও স্থানীয়রা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের এই অংশ দ্রুত সংস্কার ও উঁচু করা না হলে প্রতি বর্ষাতেই হাজারো মানুষকে একই দুর্ভোগ পোহাতে হবে।