দক্ষিণ চট্টগ্রামে টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বাঁশখালী উপজেলার বিস্তীর্ণ জনপদ। স্মরণকালের অন্যতম ভয়াবহ এ দুর্যোগে হাজারো পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। অনেক বসতঘরে পানি ঢুকে পড়েছে, তলিয়ে গেছে গ্রামীণ সড়ক, বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বিভিন্ন এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা। বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবার সংকটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বন্যাকবলিত মানুষ।
এমন পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন সমাজসেবক আলহাজ্ব মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, শারীরিক, মানসিক ও আর্থিকসহ বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে এবারের দুর্যোগে সরাসরি মানুষের পাশে দাঁড়াতে না পারায় তিনি আন্তরিকভাবে ব্যথিত।
তিনি বলেন, “বাবার পক্ষের, মায়ের পক্ষের আত্মীয়-স্বজন, ভাই-বোন, বন্ধু-বান্ধব, পাড়া-প্রতিবেশীসহ বাঁশখালীর অসংখ্য মানুষ আজ ভয়াবহ দুর্ভোগে রয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাদের জন্য প্রত্যাশিতভাবে কিছু করতে না পারার কষ্ট আমাকে প্রতিনিয়ত পীড়া দিচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, একজন মুসলমান হিসেবে নিয়মিত নামাজ ও দোয়ার মাধ্যমে মহান আল্লাহর কাছে বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য প্রার্থনা করে যাচ্ছেন। তিনি মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন, যেন তিনি সকলকে নিরাপদে রাখেন, খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে দেন, অসুস্থদের দ্রুত সুস্থতা দান করেন এবং সবাইকে সকল ধরনের বিপদ-আপদ থেকে হেফাজত করেন। পাশাপাশি তিনি দেশবাসীর জন্য হেদায়েত ও পরিপূর্ণ ঈমানেরও দোয়া করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, আলহাজ্ব মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন দীর্ঘদিন ধরে বাঁশখালীর বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রয়েছেন। ২০১২ সাল থেকে শিক্ষা, চিকিৎসা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, অসহায় পরিবার এবং বিভিন্ন দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকে নীরবে সহযোগিতা করে আসছেন। স্থানীয়দের দাবি, বাঁশখালীর এমন খুব কম এলাকা রয়েছে, যেখানে কোনো না কোনো সময়ে তাঁর মানবিক সহায়তা পৌঁছায়নি। এ কারণে তিনি এলাকায় একজন মানবিক ব্যক্তিত্ব হিসেবেই অধিক পরিচিত।
বর্তমান বন্যা পরিস্থিতিতে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং দেশের বিত্তবান ব্যক্তি, সামাজিক ও মানবিক সংগঠন, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং সর্বস্তরের জনগণের প্রতি বাঁশখালীসহ বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বিনীত আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “এই দুর্যোগ কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়, এটি মানবতার সংকট। তাই সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। মহান আল্লাহ যেন দ্রুত এই দুর্যোগ থেকে দেশবাসীকে মুক্তি দেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত সবাইকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার তাওফিক দান করেন।”