চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ পিএবি মহাসড়কের দৌলতপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন অংশ বর্তমানে চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। প্রতিদিন হাজারো শিক্ষার্থী, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সড়ক পারাপার করলেও সেখানে নেই কোনো ফুটওভার ব্রিজ, জেব্রা ক্রসিং, স্পিড ব্রেকার, ট্রাফিক সংকেত কিংবা সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড। ফলে এলাকাবাসীর কাছে সড়কটি এখন “মরণফাঁদ” হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দৌলতপুর এলাকায় অবস্থিত কোরিয়ান ইপিজেড ও আশপাশের বিভিন্ন শিল্প-কারখানার কারণে এ সড়কে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক যানবাহন চলাচল করে। প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার শ্রমিক প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করে কর্মস্থলে যাতায়াত করেন। এছাড়া কোরিয়ান ইপিজেডের প্রধান গেইট সড়কের পাশে হওয়ায় সকাল ও বিকেলে তীব্র যানজট ও যানচাপ সৃষ্টি হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয় ছুটির সময় ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা দলবেঁধে রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করছে। দ্রুতগতির বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও শিল্প-কারখানার পরিবহন গাড়ির ভিড়ে অনেক সময় শিক্ষার্থীদের দীর্ঘক্ষণ রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। কেউ কেউ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দৌড়ে সড়ক পার হচ্ছে। তবে সেখানে কোনো ট্রাফিক পুলিশ বা স্বেচ্ছাসেবককে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়নি।
বিদ্যালয়ের একাধিক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রতিদিন সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে আতঙ্কে থাকতে হয়। সামান্য অসাবধানতাতেই বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।
তারা আরও বলেন, এত বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান কোরিয়ান ইপিজেডের ইয়াংওয়ান গ্রুপ চাইলে শ্রমিক ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে একটি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের সামনে স্পিড ব্রেকার, জেব্রা ক্রসিং ও সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপনের দাবি জানানো হলেও এখনো কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে যেকোনো সময় প্রাণহানির মতো মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা যাচ্ছে।
দৌলতপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নাছির উদ্দিন বলেন, বিদ্যালয়ের সামনে পিএবি সড়কে স্পিড ব্রেকার ও জেব্রা ক্রসিং স্থাপন অত্যন্ত জরুরি। গত দুই বছর আগে আমি আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সভায় বিষয়টি তুলে ধরেছি। এটি মূলত সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কাজ বলেও সমন্বয় সভা সবাই উল্লেখ করেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সালমা ইসলাম বলেন, বিদ্যালয় ছুটির সময় বিষয়টি তিনি নিজেও লক্ষ্য করেছেন। কর্ণফুলী উপজেলার অন্যতম বৃহৎ এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। এছাড়া এটি এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রও। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কোরিয়ান ইপিজেড কর্তৃপক্ষও উদ্যোগ নিতে পারে। বিষয়টি নিয়ে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে জানান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সজিব কান্তি রুদ্র বলেন, দৌলতপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে সড়কে স্পিড ব্রেকার ও জেব্রা ক্রসিং স্থাপনের বিষয়ে সওজ বিভাগের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা বলেন, কর্ণফুলী পিএবি সড়কের দৌলতপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় অংশ সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।