অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতিকে আনুষ্ঠানিক কাঠামোয় আনতে সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগ, সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন।
রোববার (২৫ অক্টোবর) চট্টগ্রামের দ্য পেনিনসুলা চিটাগংয়ের ডালিয়া হলে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত জাতীয় ব্যবসা আনুষ্ঠানিককরণ কৌশল ও রোডম্যাপবিষয়ক বিভাগীয় পরামর্শ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। 
বিভাগীয় কমিশনার বলেন, অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি থেকে আনুষ্ঠানিক কাঠামোয় উত্তরণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবর্তন মানসিকভাবে গ্রহণ করতে হবে। চাহিদা ও জোগানের বিষয়গুলো চিহ্নিত করে বাস্তবসম্মত সমাধান গ্রহণ এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মেলাতে ব্যবসা আনুষ্ঠানিককরণ প্রক্রিয়াকে সময়োপযোগী করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের শ্রম অধিশাখার উপসচিব মোহাম্মদ শামছুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি ও শ্রমবাজারের বড় অংশ অনানুষ্ঠানিক খাতের অন্তর্ভুক্ত। তাই সব খাতকে একসঙ্গে আনুষ্ঠানিক কাঠামোয় আনা সম্ভব নয়; প্রয়োজন পর্যায়ক্রমিক উদ্যোগ, কার্যকর পরিকল্পনা ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অংশগ্রহণ।
তিনি জানান, ব্যবসা আনুষ্ঠানিককরণের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা চিহ্নিত করতে আইএলও একটি সমীক্ষা পরিচালনা করেছে। এর ভিত্তিতে দেশের আটটি বিভাগে পরামর্শ কর্মশালা আয়োজন করা হচ্ছে, যার সূচনা হয়েছে চট্টগ্রামে। উদ্যোক্তাদের আনুষ্ঠানিক কাঠামোয় যুক্ত হওয়ার সুফল সম্পর্কে সচেতন করার পাশাপাশি সরকার ঘোষিত ন্যূনতম মজুরি নিশ্চিত করতে তিনি সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
শিল্প পুলিশ-০৩, চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাহমুদা বেগম বলেন, শিল্প খাতে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ কর্মপরিবেশ বজায় রাখা এবং সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করা জরুরি। উদ্যোক্তাদের জন্য অনুকূল ব্যবসায়িক পরিবেশ তৈরিতে শিল্প পুলিশ কাজ করছে।
স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক মোছাম্মৎ রাশেদা আক্তার বলেন, অনানুষ্ঠানিক ব্যবসাকে আনুষ্ঠানিক কাঠামোয় আনার বিষয়টি ব্যয় হিসেবে নয়, বরং ব্যবসার ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইএলও বাংলাদেশের কনসালট্যান্ট আলি সাবেত। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা ও সূচনা বক্তব্য দেন সংস্থাটির ন্যাশনাল প্রজেক্ট অফিসার রুমান ইসতিয়াক রাফিন।
এতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো, বিএসটিআই, বিসিক, কৃষি বিপণন অধিদপ্তর, বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি-বেসরকারি সংস্থার প্রায় ৩০ জন প্রতিনিধি অংশ নেন।
কর্মশালায় ব্যবসা আনুষ্ঠানিককরণের প্রতিবন্ধকতা দূর করা, প্রশাসনিক ও আইনগত প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং উদ্যোক্তাবান্ধব পরিবেশ তৈরির বিষয়ে সুপারিশ উঠে আসে। অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন, সমন্বিত উদ্যোগ ও কার্যকর নীতিমালা বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ প্রক্রিয়া আরও গতিশীল করা সম্ভব।