শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:২৭ পূর্বাহ্ন

জুলাই আন্দোলনে শহীদ মুহাম্মদ ফারুকের পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়ে নজরুল ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • বুধবার, ৯ জুলাই, ২০২৫
  • ১৪৫

জুলাই শহীদদের ত্যাগ ও কোরবানির বিনিময়ে দেশে দ্বিতীয় স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে।

৮ জুলাই (মঙ্গলবার) ৩৬ জুলাই (৫ আগস্ট) স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নিহত শহীদ মুহাম্মদ ফারুকের পরিবারের খোঁজখবর নিতে তাঁর বাসায় গেলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর পরিবেশবিদ মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য চট্টগ্রাম মহানগরীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোহাম্মদ উল্লাহ ও ফয়সাল মুহাম্মদ ইউনূস, নগর শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি এস. এম. লুৎফর রহমান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোহাম্মদ ইব্রাহিম, খুলশী থানা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আলমগীর ভূঁইয়া এবং সেক্রেটারি আমান উল্লাহ, শহীদ ওমর ফারুকের স্ত্রী শিমা আকতার, মেয়ে ফারিয়া আকতার এবং ছেলে মুহাম্মদ ফাহিমুল ইসলাম।

ভারপ্রাপ্ত আমীর পরিবেশবিদ মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন- যারা মানুষের কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে না, তারা প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর শোকরও আদায় করে না। বর্তমানে যে মৌলিক পরিবর্তন শুরু হয়েছে, তার সূত্রপাত হয়েছিল রংপুরের শহীদ আবু সাঈদের সাহসিকতা দিয়ে। তিনি পুলিশের সামনে দাঁড়িয়ে অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছিলেন এবং সেখানেই পুলিশের গুলিতে শহীদ হন। শহীদ আবু সাঈদের রক্তের মধ্য দিয়েই জুলাই বিপ্লবের সূচনা হয়। জুলাই শহীদদের ত্যাগ কোরবানির বিনিময়ে দেশে দ্বিতীয় স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে।

তিনি বলেন, ১৬ জুলাই চট্টগ্রামে ৩ জন শহীদ হন, যাদের মধ্যে একজন ছিলেন (শহীদ মুহাম্মদ ফারুক)। তিনি ছিলেন একজন শ্রমিক প্রতিনিধি। আন্দোলনটি মূলত ছাত্রদের হলেও এতে শ্রমিক, নারী, এমনকি শিশুদেরও অসামান্য ভূমিকা ছিল। অনেকে পঙ্গু হয়েছেন, আহত হয়েছেন, এমনকি অমুসলিমরাও এই আন্দোলনে অবদান রেখেছেন। তাঁদের ত্যাগের বরকতেই আল্লাহ আমাদের চোখের পানি কবুল করেছেন।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে দেশের মানুষ ছিল ফ্যাসিবাদী হাসিনার শাসনে। শহীদদের ত্যাগ ও কোরবানির বিনিময়ে আল্লাহ তায়ালা আজ এ দেশের মানুষকে কিছুটা হলেও স্বস্তির বাতাস দিয়েছেন। এ জন্য জামায়াতে ইসলামী কখনো তাদের অবদান ভুলবে না। জামায়াত এখানে দলীয় পরিচয় চায় না। যেই দলেরই হোক, যেই ধর্মের হোক, যেই বর্ণের হোক, যারা জুলাই আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন, আহত হয়েছেন, নির্যাতিত হয়েছেন- আমরা তাদের সবাইকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি এবং ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও স্মরণ করব।

শহীদ মুহাম্মদ ফারুক রক্ত বৃথা যাবে না জানিয়ে নজরুল ইসলাম বলেন- স্বৈরচার পতনে শহীদ মুহাম্মদ ফারুকে আত্মত্যাগকে দেশের মানুষ স্মরণ রাখবে । জুলাই আন্দোলনের শহীদের রক্ত বৃথা যেতে পারে না-এই আত্মত্যাগ স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের অনন্য মাইলফলক হয়ে থাকবে। তিনি শহীদ মুহাম্মদ ফারুকের জন্য দোয়া করেন এবং আল্লাহ তায়ালা যেন তাকে শহীদ হিসেবে কবুল করে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন, পাশাপাশি পরিবারের স্ত্রী ও সন্তানদের হায়াতে তাইয়্যেবা দান করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো খবর