ঐতিহাসিক ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পর টি-টোয়েন্টি সিরিজেও জয় দিয়ে শুরু করার প্রত্যাশা ছিল বাংলাদেশের। তবে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ব্যাট হাতে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি টাইগার ব্যাটাররা। ফলে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার সামনে ১৩২ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ।
১৭ জুন (বুধবার) চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়। শুরুটা অবশ্য আশাব্যঞ্জকই ছিল। দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে দ্রুত রান তুলতে থাকেন।

প্রথম ১৭ বলেই দলীয় সংগ্রহ ২৬ রানে পৌঁছে যায়। তবে ভালো শুরুর পর প্রথম ধাক্কা আসে তৃতীয় ওভারের পঞ্চম বলে। ১টি চার হাঁকিয়ে ৯ বলে ১০ রান করা তানজিদ হাসান ফিরে গেলে ভাঙে উদ্বোধনী জুটি।
দলীয় সংগ্রহে আর কোনো রান যোগ হওয়ার আগেই ফের সাজঘরের পথ ধরেন সাইফ হাসান। তিনি ১৪ বলে ২০ রান করেন, যার মধ্যে ছিল ৩টি চারের মার। দুই ওপেনারের বিদায়ের পর চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ।
এরপর একে একে ব্যর্থ হন মিডল অর্ডারের ব্যাটাররা। অভিজ্ঞ সৌম্য সরকার ১৭ রান করলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয় করেন মাত্র ৮ রান। পারভেজ হোসেন ইমন ও আব্দুল গাফফার সাকলাইনও ১০ রান করে আউট হন। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকায় বড় সংগ্রহ গড়ার সুযোগ হাতছাড়া করে বাংলাদেশ।
অস্ট্রেলিয়ার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে লোয়ার অর্ডারও সুবিধা করতে পারেনি। ফলে মাত্র ১০৮ রানেই নবম উইকেট হারিয়ে অলআউটের শঙ্কায় পড়ে যায় স্বাগতিকরা। তবে শেষ উইকেটে মাহেদি হাসান ও মুস্তাফিজুর রহমান কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
দুজনের ১২ বলে ২৩ রানের ঝোড়ো জুটি বাংলাদেশের স্কোরকে কিছুটা সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ১৯ ওভারে ১৩১ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ।
দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ২৯ রান আসে মাহেদি হাসানের ব্যাট থেকে। ২২ বলের ইনিংসে তিনি ৪টি চার মারেন এবং অপরাজিত থাকেন। মুস্তাফিজুর রহমান করেন ৭ রান।
অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মধ্যে এডাম জাম্পা ও জোয়েল ডেভিস ছিলেন সবচেয়ে সফল। দুজনই ৩টি করে উইকেট শিকার করে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান। এছাড়া অন্য বোলাররাও আঁটসাঁট বোলিং করে রান তোলার গতি নিয়ন্ত্রণে রাখেন।
এখন ম্যাচ জিততে হলে বাংলাদেশের বোলারদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। ১৩২ রানের পুঁজি নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপকে চাপে ফেলতে হলে শুরু থেকেই উইকেট তুলে নিতে হবে টাইগার বোলারদের। চট্টগ্রামের উইকেটে শেষ পর্যন্ত এই লক্ষ্য কতটা কার্যকর প্রমাণিত হয়, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।