শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৪০ অপরাহ্ন

চট্টগ্রামে জুলাই আন্দোলনবিরোধী সাংবাদিকদের বিষয়ে তদন্ত দাবি, জেলা প্রশাসকের আশ্বাস

বার্তা টুডে ডেস্ক
  • বুধবার, ৩০ জুলাই, ২০২৫
  • ২৬০

চট্টগ্রামে জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন সময়ে আন্দোলনবিরোধী ভূমিকা রাখা কিছু সাংবাদিকের বিরুদ্ধে তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও প্রেসক্লাবের অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির আহ্বায়ক ফরিদা খানমের সঙ্গে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মুহাম্মদ রিদুয়ান সিদ্দিকীর নেতৃত্বে একটি দল।

মুহাম্মদ রিদুয়ান সিদ্দিকী বর্তমানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, চট্টগ্রাম মহানগরের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সম্মিলিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

আলোচনায় তিনি অভিযোগ করেন, ২৯ জুলাই চেরাগী পাহাড়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়নের অংশ হিসেবে কিছু সাংবাদিক পুলিশকে সহযোগিতা করেন এবং সরাসরি ছাত্রদের পুলিশের গাড়িতে তুলে দেন। এছাড়া প্রেসক্লাবের সামনেই তৎকালীন সরকারপন্থী অবস্থান নিয়ে আন্দোলন প্রতিহত করার ডাক দেন কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী।

তিনি বলেন, “যাঁরা জনগণের মুখপত্র হওয়ার কথা, তাঁরা তখন দমননীতির মুখপাত্রে পরিণত হয়েছিলেন—এটা জাতির জন্য লজ্জার।” তিনি চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবকে গণমানুষের চেতনা ও সাংবাদিকতার নৈতিক অবস্থানে ফিরিয়ে আনতে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি পদক্ষেপের দাবি জানান।

স্মারকলিপিতে উত্থাপিত মূল দাবি সমূহ:

১. ২৯ জুলাই আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পুলিশি গ্রেফতারে যেসব সাংবাদিক সহযোগিতা করেছেন, তাদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া।

২. চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে আন্দোলন প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়ে সমাবেশ আহ্বানকারী সাংবাদিকদের ক্লাব থেকে বহিষ্কার করা।

৩. সাংবাদিকতার নামে যারা টুঙ্গিপাড়ায় গিয়ে মাজার পূজা করেছেন।

৪, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিন উদযাপন করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ।

জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম উত্থাপিত বিষয়গুলো মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং আশ্বস্ত করেন যে, এসব অভিযোগ যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনায় নেওয়া হবে। তিনি বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও শহীদদের আত্মত্যাগ যেন কোনোভাবে অপমানিত না হয়, সে বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক থাকব। প্রেসক্লাবকে নৈতিকতা ও গণতন্ত্রের জায়গায় ফিরিয়ে আনাই আমাদের অঙ্গীকার।”

সাক্ষাতের পর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহল মনে করছেন, এটি চট্টগ্রামে একটি গণতান্ত্রিক ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিবেশ গড়ে তোলার পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবকে ব্যবহার করে গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমন এবং বিদেশি শক্তির এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হচ্ছে, যা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ।

আন্দোলনকারীরা বলেন, “আমরা আশা করি প্রশাসন নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। অন্যথায় বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো খবর