মালয়েশিয়া শ্রমবাজার আবার উন্মুক্ত করার পদক্ষেপ নেয়ার জন্য মাননীয় মন্ত্রী ও মাননীয় উপদেষ্টাকে সাধুবাদ জানাই। মাননীয় উপদেষ্টা বলেছেন তারা আগের মতো কোনো সিন্ডিকেট চান না, যেকোনো মূল্যে সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে চান। খুবই আশাব্যঞ্জক কথা। কিন্তু এককভাবে তো তা সম্ভব নয়। প্রত্যেক সেন্ডিং দেশের জন্য একটি পলিসি কাজ করে এবং অনলাইন পদ্ধতি সবার জন্য সমান।
এ ছাড়া মাননীয় দুই মন্ত্রীর যৌথ প্রেস রিলেজে আমরা যা দেখলাম তাতে একটা আশঙ্কাও মনের মধ্যে খচখচ করছে। সেটি সিন্ডিকেটের অপছায়ার হাতছানির ইঙ্গিত বহন করছে বলে অনেকের শঙ্কা।
আগেও আমরা দেখেছি প্রত্যেক প্রেরক দেশের জন্য একই অনলাইন পদ্ধতি ছিল, কোথাও সিন্ডিকেট ছিল না, শুধু বাংলাদেশ ছাড়া। নেপালে তারা সিন্ডিকেট করতে চেয়েছিল, কিন্তু নেপাল সরকার তা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। তারপরও তো নেপালের জন্য শ্রমবাজার বন্ধ হয়নি, উন্মুক্তই রয়েছে।
তেমনি বাংলাদেশ আন্তরিকভাবে চাইলেই সিন্ডিকেট ভাঙা সম্ভব। মালয়েশিয়ার পক্ষে এককভাবে সিন্ডিকেট করা সম্ভব নয়, যার প্রমাণ নেপাল। সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সরকারের নির্দেশেই সিন্ডিকেট হয়েছিল। একই সিন্ডিকেট এই গণতান্ত্রিক সরকারের আমলে হতে পারে আমরা তা বিশ্বাস করতে চাই না।
বিনা খরচের আড়ালে সিন্ডিকেট
দুই দেশের মাননীয় মন্ত্রীদের যৌথ বিবৃতিতে বিনা খরচে কর্মী যাওয়ার কথা বলা হয়েছে, যা নতুন করে সিন্ডিকেট করার লেটেস্ট কৌশল। শূন্য খরচে (Zero cost) ১০১২ সালে জিটুজি (সরকার টু সরকার) পদ্ধতি ব্যর্থ হয়েছে। ২০২২ সালেও মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রী সারাভানান বাংলাদেশে এসে বিনা খরচে কর্মী নিয়োগের কথা বলেছিলেন। কিন্তু সেখানেও মালয়েশিয়ায় যেতে একজন কর্মীকে ৫-৬ লক্ষ টাকা দিতে হয়েছে।
মূলত বিনা খরচের কথা বলেই বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারকে সিন্ডিকেট করার ফাঁদে ফেলা হচ্ছে। সিন্ডিকেট হওয়ার পরে কর্মীদের ঠিকই অতিরিক্ত টাকা দিতে হবে এবং অধিকাংশ রিক্রুটিং এজেন্সি আগের মতো বৈষম্যের শিকার হবে।
ক্রেডিবল অ্যান্ড কোয়ালিফাইড রিক্রুটিং এজেন্সি
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ক্রেডিবল ও কোয়ালিফাইড এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী যাবে। এই ক্রেডিবল ও কোয়ালিফাইড রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি বাছাই প্রক্রিয়া অন্য কোনো দেশে নেই। ক্রেডিবল ও কোয়ালিফাইড রিক্রুটিং এজেন্সি কারা? কারা এই ক্রেডিবল ও কোয়ালিফাইড রিক্রুটিং এজেন্সি বাছাই করবেন?
আগে যারা সিন্ডিকেটের মালিক, অনলাইন পদ্ধতি এফডব্লিউ সিএমএস-এর মালিক, তারাই টাকার বিনিময়ে রিক্রুটিং এজেন্সি বাছাই করেছিলেন। এবারও তারাই করবেন আরও বেশি টাকার বিনিময়ে। সুতরাং বাছাই করতে গিয়েই আবারও সিন্ডিকেটই তৈরি হবে।
ব্যবসায়িক পরামর্শ
এই বিষয়গুলোতে সরকারের বিচক্ষণ নজরদারি দরকার। আগের ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করে বর্তমান সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নিলে সিন্ডিকেট রোখা সম্ভব এবং মালয়েশিয়ার উন্মুক্ত বাজারে সফলভাবে কর্মী পাঠানোতে যেকোনো ধরনের বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকবে সরকার।
লেখক: সাবেক যুগ্ম মহাসচিব, বায়রা।