শিরোনাম
অর্থের বিনিময়ে পকেট কমিটি গঠনের অভিযোগে চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপিতে গণ পদত্যাগ চন্দনাইশে গাছবাড়ীয়া কলেজ গেইট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) মাহফিল অনুষ্ঠিত ঈদে নিত্যপণ্যে মূল্যছাড়ে ব্যতিক্রমী আহ্বান চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের চট্টগ্রামকে পরিবেশবান্ধব নগরীতে রূপান্তরে বিজ্ঞানভিত্তিক সমাধান জরুরি: মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন “নিরাপদ বন্দর, সমৃদ্ধ দেশ” প্রতিপাদ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে নিরাপত্তা সপ্তাহ সমাপ্ত সাতকানিয়ায় পুকুরের ঘাট নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারে বাধা দেওয়ায় সাংবাদিককে হুমকি পৃথক দুই অভিযানে অস্ত্রসহ ১১ ডাকাত গ্রেফতার, উদ্ধার বন্দুক-কার্তুজ ও দেশীয় অস্ত্র পার্বত্য চট্টগ্রামে খাদ্য নিরাপত্তা ও দক্ষতা উন্নয়নে WFP’র সহযোগিতা চাইলেন মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান সাতকানিয়ায় এক স্কুলছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ ও একজনকে শ্লীলতাহানি, ৪ জন গ্রেফতার ঈদযাত্রা: আজ বিক্রি হচ্ছে ২৪ মে’র ট্রেনের অগ্রিম টিকিট
শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ০৪:১২ অপরাহ্ন

চট্টগ্রামকে পরিবেশবান্ধব নগরীতে রূপান্তরে বিজ্ঞানভিত্তিক সমাধান জরুরি: মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন

বার্তা টুডে ডেস্ক / ১৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬

চট্টগ্রামকে একটি পরিবেশবান্ধব, টেকসই ও দূষণমুক্ত নগরীতে রূপান্তর করতে বিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তা, গবেষণা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, অতিবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা, পানি সংকট ও পরিবেশ দূষণের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এখন থেকেই শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্ক ও গবেষণামুখী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

বৃহস্পতিবার কাট্টলী সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে “কৌতূহল থেকে সৃষ্টির পথে” প্রতিপাদ্যে আয়োজিত “বিজ্ঞান উৎসব-২০২৬”-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মেয়র বলেন, নতুন প্রজন্মের মেধা, সৃজনশীলতা ও প্রযুক্তিনির্ভর চিন্তাই ভবিষ্যতের নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগর গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রকল্প ঘুরে দেখেন এবং তাদের বাস্তবমুখী চিন্তাশক্তির প্রশংসা করেন।

তিনি বলেন, “আমি ছোটবেলা থেকেই বিজ্ঞান মেলায় অংশগ্রহণ করতাম। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই বলতে পারি, বিজ্ঞানচর্চা শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, এটি ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও সমস্যা সমাধানের মানসিকতা তৈরি করে। আজকের শিক্ষার্থীরা যেভাবে একটি ইকো-ফ্রেন্ডলি, সাস্টেইনেবল ও দূষণমুক্ত শহর গড়ে তোলার চিন্তা করছে, তা সত্যিই আশাব্যঞ্জক।”

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বর্তমানে চট্টগ্রাম নগরীর অন্যতম বড় সমস্যা হচ্ছে জলাবদ্ধতা ও পরিবেশ দূষণ। কোথায় পানি জমছে, কীভাবে দ্রুত পানি নিষ্কাশন করা যায়, কীভাবে খাল-নদী রক্ষা করা যায় এবং নগরকে দূষণমুক্ত রাখা যায়—এসব বিষয় নিয়ে সিটি কর্পোরেশন প্রতিনিয়ত কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, “শুধু সরকারি উদ্যোগে নয়, নাগরিকদের সচেতনতা ও তরুণ প্রজন্মের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া একটি বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলা সম্ভব নয়। আজকের এই বিজ্ঞান উৎসব প্রমাণ করেছে, শিক্ষার্থীরা শুধু সমস্যাগুলো চিহ্নিত করছে না, বরং কার্যকর সমাধান নিয়েও ভাবছে।”

বিজ্ঞান উৎসবে শিক্ষার্থীরা রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং, রিচার্জ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, নদীর পানি পরিশোধন ও পুনঃব্যবহারসহ নানা প্রযুক্তিনির্ভর প্রকল্প উপস্থাপন করে। এসব প্রকল্পের প্রশংসা করে মেয়র বলেন, ভবিষ্যতের পানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখন থেকেই পানি সংরক্ষণ, বৃষ্টির পানি ধারণ ও পুনর্ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, “পৃথিবীতে পানি সংকট দিন দিন বাড়ছে। একসময় হয়তো পানিকেই কেন্দ্র করে বড় ধরনের বৈশ্বিক সংকট তৈরি হবে। তাই অযথা পানি অপচয় বন্ধ করতে হবে এবং বিকল্প উৎস ব্যবহারে মানুষকে উৎসাহিত করতে হবে।”

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ঋতুচক্রেও বড় পরিবর্তন এসেছে। অতিবৃষ্টি ও দীর্ঘস্থায়ী বর্ষণ নগরবাসীর জন্য দুর্ভোগ সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, “গত বছর জুন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে। অতিবৃষ্টি শুধু জলাবদ্ধতাই সৃষ্টি করে না, এটি মানুষের জীবন, স্বাস্থ্য ও অর্থনীতির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও ব্যবহারযোগ্য করার বিষয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি।”

পরিবেশ রক্ষায় গাছের গুরুত্ব এবং কার্বন নিয়ন্ত্রণ নিয়েও শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তার প্রশংসা করেন মেয়র। তিনি বলেন, “আমাদের নতুন প্রজন্ম শুধু বইয়ের জ্ঞানেই সীমাবদ্ধ নেই, তারা বাস্তব সমস্যার সমাধান নিয়েও চিন্তা করছে। এই মানসিকতাই বাংলাদেশকে ভবিষ্যতে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।”

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জীবনে হার-জিত থাকবে, তবে নতুন কিছু শেখা ও সৃষ্টির জন্য সবসময় এগিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, “আজ এখানে যারা অংশগ্রহণ করেছে, আমি মনে করি সবাই বিজয়ী। কারণ তারা নিজেদের মেধা, চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীলতার সর্বোচ্চ প্রকাশ ঘটিয়েছে।”

তিনি শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্ক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষকদের ভূমিকারও প্রশংসা করেন। একইসঙ্গে অভিভাবক, আয়োজক ও সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান মোহাম্মদ সাইফুল করিম। সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা কিসিঞ্জার চাকমা।

সমাপনী পর্বে পুরস্কার বিতরণ ও আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের শিক্ষা কর্মকর্তা ও সিনিয়র সহকারী সচিব নাজমা বিনতে আমিন, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মনজুর আলম মঞ্জু, অভিভাবক সদস্য রফিক উদ্দিন চৌধুরী, মো. শাহেদ আকবর, সুফিয়া আক্তার সিমি এবং কাট্টলী সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ মো. আবুল কাশেম।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ