শিরোনাম
ব্যবসার জটিলতা কাটাতে উদ্যোক্তাদের হাতে দক্ষতার প্রশিক্ষণ ডেঙ্গু প্রতিরোধে কর্ণফুলীতে মশক নিধন অভিযান ও সচেতনতামূলক র‍্যালি বাঁশখালীতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের হাতে কোরআন, নৈতিক সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে মনির আহমদ ফাউন্ডেশন প্রধানমন্ত্রীকে ‘নব্য ফ্যাসিবাদের পাহারাদার’ বললেন নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী চন্দনাইশে সাতবাড়ীয়া নাজিরহাট ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচনে মাহফুজ-রবিউলের হ্যাটট্রিক ঝুঁকি নিয়ে নেপালের দুর্যোগের চিত্র তুলে ধরায় শহীদুল ইসলাম বাবরকে ফুলেল শুভেচ্ছা হাসপাতালের প্রবৃদ্ধির নতুন সুযোগ: নতুন রোগীর পাশাপাশি পুরোনো রোগীকেও বুঝতে হবে সাতকানিয়া কালিয়াইশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক পুরস্কার বিতরণ ও সংবর্ধনা পটিয়ার হাফেজ শিক্ষার্থীদের জন্য নাহার পার্কে বিনামূল্যে ভ্রমণের সুযোগ চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে প্রবাসী সেবায় আধুনিক ট্রলি, দক্ষ কর্মী পাঠানোর তাগিদ মন্ত্রীর
রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৮ অপরাহ্ন

আনোয়ারায় চিকিৎসার নামে প্রতারণা: অবৈধ ডেন্টাল কেয়ারে বাড়ছে ভোগান্তি

ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠছে ডেন্টাল কেয়ার, নেই বৈধ লাইসেন্স / ১৫৯ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় অনুমোদনহীন ও ন্যূনতম যোগ্যতাহীন একাধিক “ডেন্টাল কেয়ার” চিকিৎসার নামে প্রতারণা ও ঝুঁকিপূর্ণ চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করছে এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকেরই নেই কোনো স্বীকৃত ডেন্টাল ডিগ্রি, সরকারি নিবন্ধন বা বৈধ চিকিৎসা সনদ।

উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র চাতরী চৌমুহনী বাজার, বন্দর সেন্টার ও বটতলী-জয়খালী বাজারসহ একাধিক এলাকায় “ডেন্টাল কেয়ার” নামে এসব প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, ডেন্টাল টেকনিশিয়ান বা সহকারী পর্যায়ের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা নিজেদের চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে দাঁত তোলা, ফিলিং ও অন্যান্য চিকিৎসা দিচ্ছেন।

জুঁইদন্ডি ইউনিয়নের ডেজি আক্তার অভিযোগ করে বলেন, কয়েকদিন আগে দাঁতের সমস্যার কারণে তিনি চাতরী চৌমুহনী বাজারের একটি ডেন্টাল কেয়ারে যান। সেখানে তাকে প্রথমে আশ্বাস দেওয়া হয় দাঁত ঠিক হয়ে যাবে। পরে একাধিকবার চিকিৎসার পর তাকে সব দাঁত ফেলে কৃত্রিম দাঁত বসানোর পরামর্শ দেওয়া হয় এবং প্রায় এক লাখ টাকা ব্যয়ের কথা জানানো হয়।

ডেজি আক্তারের দাবি, আমাকে শুরুতে ছোট চিকিৎসার কথা বলা হয়েছিল, পরে বড় ধরনের চিকিৎসার চাপ দেওয়া হয়। আমি প্রতারণার শিকার হয়েছি।

স্থানীয় সূত্র বলছে, এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকেরই নেই কোনো সরকারি অনুমোদন বা ডেন্টাল কাউন্সিলের নিবন্ধন। শুধু ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়েই তারা চিকিৎসা কার্যক্রম চালাচ্ছে। ফলে সাধারণ রোগীরা ভুল চিকিৎসা ও আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকিতে পড়ছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দাঁত তোলা, রুট ক্যানাল বা ফিলিংয়ের মতো চিকিৎসা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও নিবন্ধিত ডেন্টাল সার্জনের মাধ্যমে না করলে সংক্রমণ, স্থায়ী ক্ষতি এমনকি জটিল স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

স্থানীয় সচেতন মহল অবৈধ ডেন্টাল কেয়ারগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি তারা চান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি ডেন্টাল কেয়ারে কী কী চিকিৎসা বৈধ, কোন রোগের চিকিৎসায় কত খরচ যুক্তিসংগত। এ বিষয়ে একটি স্পষ্ট নির্দেশিকা ও তালিকা প্রকাশ করা হোক। নিয়মিত নজরদারি না থাকায় এসব অনিয়ম দিন দিন বাড়ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি।

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স–এর পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন – অনেক ক্ষেত্রেই এসব প্রতিষ্ঠান আইনের ফাঁক গলে কার্যক্রম চালাচ্ছে। সুনির্দিষ্ট আইন ও পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণ কাঠামো না থাকায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ