ডেঙ্গু প্রতিরোধে এবার মাঠে নেমেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার নেতৃত্বে কর্ণফুলীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে মশক নিধন, পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও জনসচেতনতামূলক র্যালি। এ সময় ডেঙ্গু মোকাবিলায় শুধু চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল ১১টায় কর্ণফুলীর চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের সৈন্যারটেক রাস্তার মাথা থেকে র্যালিটি শুরু হয়ে ব্রিজঘাটে গিয়ে শেষ হয়। ‘নিজের আঙিনা পরিষ্কার রাখি, সবাই মিলে সুস্থ থাকি’ এবং ‘প্রতিদিন জমা পানি দূর করি’—এ দুটি স্লোগানকে সামনে রেখে উপজেলা প্রশাসন এ কর্মসূচির আয়োজন করে।

কর্ণফুলী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম আমিরুল মোস্তফার সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
জেলা প্রশাসক বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকার ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন মাসব্যাপী বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত পরীক্ষার কীট ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে রোগীদের চিকিৎসাসেবা সহজ করতে বিশেষ ‘ডেঙ্গু কর্নার’ চালু করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি থেকে মুক্তির প্রথম কাজ হলো সচেতনতা বৃদ্ধি করা। শুধু মেডিকেল ট্রিটমেন্টের ওপর নির্ভর করে বসে থাকলে চলবে না। চারপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে, জমে থাকা পানি অপসারণ করতে হবে। ডেঙ্গু মোকাবিলায় দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।
কর্মসূচিতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (ভূমি অধিগ্রহণ) মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, স্টাফ অফিসার টু ডিসি মোহাম্মদ আসিফ জাহান সিকদার, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আব্বাস, চরপাথরঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু তাহের, চরলক্ষ্যা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ, শিকলবাহা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমসহ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, সিপিপি ও স্কাউট সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।