শিরোনাম
সাফজয়ী ফুটবলার ঋতুপর্ণা চাকমার গৃহনির্মাণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক অনুদান স্যাটেলাইট তথ্যভিত্তিক সমুদ্র পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র চালু, দুর্যোগ পূর্বাভাসে আসবে যুগান্তকারী পরিবর্তন উপকূলের অসহায় মানুষের পাশে আইএসডিই বাংলাদেশ, সহায়তা পেল ১ হাজার পরিবার বাঁশখালীতে লোভী নারীর রোষানল থেকে বাঁচাতে স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জয়নাল আবেদীন সন্ধ্যায় চায়ের দোকান থেকে আটক, রাতে ‘ডাকাতি প্রস্তুতি’ মামলায় গ্রেপ্তার—কর্ণফুলীতে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন সাতকানিয়া কেরানীহাটে থামছেই না যানজট, ভোগান্তিতে পর্যটকসহ সাধারণ মানুষ ‘আমরা জুলাইযোদ্ধা’ চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি ফারুক, সাধারণ সম্পাদক আবির চট্টগ্রামের ব্যবসাবান্ধব উদ্যোগ: সিএন্ডএফ এজেন্টদের জন্য চসিকের অস্থায়ী সেবা বুথ চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে হজযাত্রীদের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট অবতরণ
মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ১১:৩৩ অপরাহ্ন

স্যাটেলাইট তথ্যভিত্তিক সমুদ্র পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র চালু, দুর্যোগ পূর্বাভাসে আসবে যুগান্তকারী পরিবর্তন

বার্তা টুডে ডেস্ক / ৩৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) এবং চীনের প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নবনির্মিত ‘স্যাটেলাইট ওশান অবজারভেশন অ্যান্ড ডাটা ইনোভেশন সেন্টার’ (SODIC-CU) এর শুভ উদ্বোধন সম্পন্ন হয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন ২০২৬) অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্বোধনী ফলক উন্মোচনের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ অডিটোরিয়ামে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, এমপি। আলোচনা সভার পূর্বে চবি বিএনসিসি কর্তৃক মাননীয় প্রতিমন্ত্রীকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, স্যাটেলাইট ভিত্তিক সমুদ্র পর্যবেক্ষণ ও তথ্য সংগ্রহ কেন্দ্র দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নীল অর্থনীতিতে (ব্লু ইকোনমি) নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনে এই কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠা শুধু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নয়, বরং সমগ্র বাংলাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ বৈশ্বিক তথ্য বিনিময় ও সামুদ্রিক গবেষণার নতুন যুগে প্রবেশ করলো।

মাননীয় ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ একটি সামুদ্রিক দেশ এবং বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে দেশের অর্থনীতি, পরিবেশ, আবহাওয়া ও জীবিকা বহুলাংশে নির্ভরশীল। আমাদের সমুদ্রসীমায় বিপুল পরিমাণ সম্পদ এখনো অব্যবহৃত রয়ে গেছে, কারণ এ সব সম্পদের সঠিক অবস্থান বা এর সর্বোচ্চ ব্যবহার কীভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব তা আমাদের জানা নেই। এই বিশেষায়িত ডাটা ইনোভেশন সেন্টারটি সেই তথ্যের শূন্যতা পূরণ করবে। এখান থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে আবহাওয়া পূর্বাভাস, সমুদ্র গবেষণা, মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হবে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করে মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, প্রতিবছর দেশে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে নির্ভুল পূর্বাভাসের অভাবে যে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি ঘটে, এই কেন্দ্রের মাধ্যমে তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। পাশাপাশি, উপকূলীয় ও গভীর সমুদ্রে মাছের অবস্থান ও আবহাওয়ার তথ্য সরবরাহের মাধ্যমে দেশের মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং জেলেরা উপকৃত হবেন। কাকতালীয়ভাবে এই কেন্দ্রটি ভূমি প্রতিমন্ত্রীর নিজস্ব নির্বাচনী এলাকার আওতাভুক্ত হওয়ায় তিনি অত্যন্ত গর্ব প্রকাশ করেন এবং এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম একটি প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশে এই কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতার জন্য মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল চীন দূতাবাস কর্তৃপক্ষ, দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর মি. লি শেওপেং, সেকেন্ড ইনস্টিটিউট অব ওশানোগ্রাফির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, চবি উপাচার্য ও তাঁর দলসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্কের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, এ ধরনের যৌথ উদ্যোগ দুই দেশের সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)-এর চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ, ইউজিসির সম্মানিত সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম, চবি উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) ও উদ্বোধন অনুষ্ঠান বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীমউদ্দিন খান, চবি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মোঃ কামালউদ্দিন, চীন দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর মি. লি শেওপেং এবং সেকেন্ড ইনস্টিটিউট অব ওশানোগ্রাফির ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল প্রফেসর ড. ফু বিন।

চবি রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাহমিদা খানমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন অনুষদের ডিনবৃন্দ, হলের প্রভোস্টবৃন্দ, প্রক্টর ও সহকারী প্রক্টরবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ, চীন থেকে আগত অতিথিবৃন্দ, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ