শিরোনাম
হাসপাতালের প্রবৃদ্ধির নতুন সুযোগ: নতুন রোগীর পাশাপাশি পুরোনো রোগীকেও বুঝতে হবে সাতকানিয়া কালিয়াইশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক পুরস্কার বিতরণ ও সংবর্ধনা পটিয়ার হাফেজ শিক্ষার্থীদের জন্য নাহার পার্কে বিনামূল্যে ভ্রমণের সুযোগ চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে প্রবাসী সেবায় আধুনিক ট্রলি, দক্ষ কর্মী পাঠানোর তাগিদ মন্ত্রীর চট্টগ্রাম বন্দরে কনসাইনি বিল পরিশোধে অনলাইন বাধ্যতামূলক এক মাস পিছিয়েছে রেলওয়ে জোনাল স্পোর্টস কাউন্সিলের নতুন কমিটি, ক্রীড়া কার্যক্রম গতিশীল করার প্রত্যয় রাঙ্গামাটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে দুদকের অভিযান সাতকানিয়ায় তিন হাসপাতালে নানা অনিয়ম, জরিমানা ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা নিয়মের তোয়াক্কা না করে আবাসন বাণিজ্য: আশ্রয়ণের ঘর বিক্রি ও ভাড়ার ধুম এভারকেয়ার চট্টগ্রামে ২ হাজারের বেশি হৃদরোগীর এনজিওপ্লাস্টি-স্টেন্টিং
শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২২ অপরাহ্ন

কেরানীহাট ইসলামী ব্যাংকে গ্রাহকদের চরম ভোগান্তি, টাকা উত্তোলনে দীর্ঘ লাইন

মিজানুর রহমান রুবেল, সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) / ২৬৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার কেরানীহাটে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের ভোগান্তি দিন দিন বাড়ছে। টাকা উত্তোলনে সীমাবদ্ধতা ও দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কেরানীহাট শাখায় শতাধিক গ্রাহককে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টাকা উত্তোলনের চেষ্টা করতে দেখা যায়।

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি (IBBPLC) হলো ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম ইসলামি শরিয়াহভিত্তিক বাণিজ্যিক ব্যাংক। এটি বর্তমানে দেশের বৃহত্তম বেসরকারি ব্যাংক।

সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকের তারল্য পরিস্থিতির অবনতি ও আর্থিক খাতের নানা বিতর্কের জেরে বাংলাদেশ ব্যাংক ১৪ জুন -এ ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়েছে।

ব্যাংকে টাকা তুলতে আসা গ্রাহক রেহেনা আক্তার জানান, তার এক লাখ টাকার এফডিআর রয়েছে। বিভিন্ন জনের কাছ থেকে শুনলাম ব্যাংক টাকা দিচ্ছে না—এমন কথা শুনে তিনি টাকা উত্তোলনের জন্য শাখায় আসেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও তিনি কাঙ্ক্ষিত অর্থ পাননি বলে অভিযোগ করেন এবং ১০ হাজার টাকা করে দিচ্ছে বলে জানান।

আরেক গ্রাহক কামরুন্নাহার বেগম বলেন, তার হিসাব নম্বরে মাত্র ১৬ হাজার টাকা রয়েছে। প্রয়োজনের তাগিদে টাকা তুলতে এলেও ব্যাংক থেকে পুরো অর্থ উত্তোলন করতে পারেননি।

বাজালিয়া এলাকার এক নারী গ্রাহক জানান, তার ইসলামী ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বিদেশ থেকে ৬০ হাজার টাকা এসেছে। তবে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও তিনি টাকা হাতে পাননি। ফলে কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে না পেরে তিনি বিপাকে পড়েছেন।
এছাড়াও অনেকেই মেয়ে বিয়ে দেওয়ার জন্য টাকা জমা রেখেছেন কিন্তু সময় মত না পেয়ে বিপাকে পড়ছেন। দেখা যায় গ্রাহকদের কপালে চিন্তার ভাজ,ব্যাংকে বসে বসে ভাবছেন কি হচ্ছে, কি হতে যাচ্ছে ভবিষ্যতে এমন হাজারো প্রশ্ন।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিভিন্ন অঙ্কের চেক নিয়ে আসা অনেক গ্রাহকই কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ অর্থ উত্তোলন করতে পারছেন না। অভিযোগ রয়েছে, চাপ সামাল দিতে অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহকদের সীমিত পরিমাণ অর্থ প্রদান করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, কেরানীহাট শাখার ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ শোয়াইব বলেন, “বর্তমানে ব্যাংকে টাকা উত্তোলনের চাপ অনেক বেশি। জমার তুলনায় উত্তোলন বেশি হওয়ায় আমরা সব গ্রাহককে চাহিদামতো অর্থ দিতে পারছি না। তবে সোমবার সকাল থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত প্রায় ৪০ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “ব্যাংক টাকা দিচ্ছে না বা ব্যাংক দেউলিয়া হয়ে যাবে—এমন গুজবের কারণে গ্রাহকদের অতিরিক্ত ভিড় হচ্ছে। বর্তমানে ক্যাশ আউট বেশি হলেও ক্যাশ ইন তুলনামূলক কম। এ কারণে সাময়িকভাবে নগদ অর্থের সংকট দেখা দিয়েছে। তবে আমরা কাউকে সম্পূর্ণ ফিরিয়ে দিচ্ছি না। যাদের জরুরি প্রয়োজন, যেমন মেয়ের বিয়ে বা বিদেশ যাত্রার মতো গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে, তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অর্থ প্রদান করা হচ্ছে।”

ব্যবস্থাপক আশা প্রকাশ করে বলেন, “শিগগিরই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এবং ব্যাংকের কার্যক্রম আগের মতো চলবে।”

এদিকে ব্যাংকের সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা গ্রাহকদের অনেকেই দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি এবং স্বাভাবিক ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ