রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি: মো. নাজিম আলী সরকারি উন্নয়নকাজের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, সর্বনিম্ন দরদাতাকে কাজ না দেওয়া এবং ওয়াশব্লক নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়নকাজে অনিয়মের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রাঙ্গামাটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বেলা ১১টা থেকে প্রায় আড়াই ঘণ্টাব্যাপী এ অভিযান পরিচালনা করে দুদকের চার সদস্যের একটি দল। অভিযানকালে দপ্তরের বিভিন্ন উন্নয়নকাজের টেন্ডার-সংক্রান্ত নথিপত্র, কার্যাদেশ, দরপত্র প্রক্রিয়া এবং ওয়াশব্লক নির্মাণসহ অন্যান্য সরকারি প্রকল্পের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের সহকারী পরিদর্শক আবু ছাদেক।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, রাঙ্গামাটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন উন্নয়নকাজের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে কমিশনের নজরে ছিল। বিশেষ করে, কোনো কোনো কাজে নিয়ম অনুযায়ী সর্বনিম্ন দরদাতাকে কার্যাদেশ না দিয়ে অন্য ঠিকাদারকে কাজ দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানের সময় দুদকের কর্মকর্তারা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী পরাগ বড়ুয়ার কার্যালয়ে গিয়ে টেন্ডার প্রক্রিয়াসহ বিভিন্ন উন্নয়নকাজের বিষয়ে তথ্য চান। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের অনুমোদন, দরপত্র আহ্বান, দরপত্র মূল্যায়ন, কার্যাদেশ এবং কাজ বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত নথিপত্র পরীক্ষা করা হয়।
দুদকের সহকারী পরিদর্শক আবু ছাদেক জানান, অভিযানের সময় নির্বাহী প্রকৌশলী পরাগ বড়ুয়া দপ্তরের সব প্রয়োজনীয় নথিপত্র তাৎক্ষণিকভাবে দেখাতে পারেননি। পরে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি মাঠপর্যায়ে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য দুদকের টিম সঙ্গে নিয়ে যায়। পাশাপাশি আরও কিছু প্রয়োজনীয় নথি দ্রুত সময়ের মধ্যে দুদকের কার্যালয়ে পাঠানোর জন্য নির্বাহী প্রকৌশলীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
দুদক কর্মকর্তারা জানান, অভিযানের সময় বিভিন্ন নথিপত্র পর্যালোচনা করে কিছু অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সংগৃহীত নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র আরও বিস্তারিতভাবে যাচাই-বাছাই করা হবে।
বিশেষ করে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় সর্বনিম্ন দরদাতাকে কাজ না দিয়ে অন্য ঠিকাদারকে কাজ দেওয়ার অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে দুদক। পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতাধীন ওয়াশব্লক নির্মাণসহ বিভিন্ন সরকারি উন্নয়নকাজে ব্যয়, কাজের মান, বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রও যাচাই করা হচ্ছে।
দুদকের কর্মকর্তারা বলেন, অভিযানের সময় যেসব নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে, সেগুলো পর্যালোচনার পর অভিযোগগুলোর বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ এবং প্রকল্পের মাঠপর্যায়ের বাস্তবায়নও সরেজমিনে যাচাই করা হতে পারে।
অভিযানে দুদকের উপসহকারী পরিচালক মামুন, উপসহকারী পরিচালক ছরওয়ার হোসেন, এসআই সাজিবুল ইসলাম মাসুদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দুদক কর্মকর্তারা আরও জানান, সরকারি দপ্তরের উন্নয়নকাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের অংশ হিসেবে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি দপ্তরে অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।