শিরোনাম
শাহ আমানত বিমানবন্দরে প্রথমবারের মতো আইকাওর নিরাপত্তা অডিট সম্পন্ন অনুমোদনহীন প্ল্যান্টে হেভি ক্রুড আমদানির উদ্যোগ সুপার পেট্রোকেমিক্যালের লোহাগাড়ায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করার অপরাধে ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা চট্টগ্রাম বন্দরে ৯ম পে-স্কেলের বেতন-ভাতা নির্ধারণ সম্পন্ন, নভেম্বর থেকে বাড়তি বেতন পাচ্ছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ক্যান্সারে ঝরে গেল চবির সাবেক শিক্ষার্থী সাজু লোহাগাড়ায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের ইউনিয়ন পর্যায়ের খেলোয়াড় বাছাই শুরু চবিতে জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান দিবস পালন চবির হীরকজয়ন্তীর মঞ্চ মাতাবেন জেমস, আসছে ‘নগর বাউল’ কলাউজানে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ৫০ লাখ টাকার বেশি উন্নয়নকাজ, আলোচনায় প্যানেল চেয়ারম্যান হাবিব ‎পটিয়ায় ৬ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করলেন বাদী
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:১৫ অপরাহ্ন

শাহ আমানত বিমানবন্দরে প্রথমবারের মতো আইকাওর নিরাপত্তা অডিট সম্পন্ন

বার্তা টুডে ডেস্ক / ১৯ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬

নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গুরুতর কোনো পর্যবেক্ষণ নেই, সন্তোষ প্রকাশ অডিট টিমের; বিস্তারিত সুপারিশ যাবে সিএএবি সদরদপ্তরে

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইকাও—ICAO) পরিচালিত নিরাপত্তা অডিট সম্পন্ন হয়েছে। চার সদস্যের আন্তর্জাতিক অডিট টিম গত ১ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া চার দিনের এই কার্যক্রম বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে শেষ করে। অডিট শেষে বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গুরুতর কোনো পর্যবেক্ষণ না থাকায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন অডিট টিমের প্রধান ক্যালাম ভাইন।

ইউনিভার্সাল সিকিউরিটি অডিট প্রোগ্রাম-কন্টিনিউয়াস মনিটরিং অ্যাপ্রোচ (Universal Security Audit Programme–Continuous Monitoring Approach বা USAP-CMA) এর আওতায় এ অডিট পরিচালিত হয়। আইকাওর চার সদস্যের প্রতিনিধি দলে ছিলেন ক্যালাম ভাইন, আলেসান্দ্রা জোহানা অ্যারেনাস, শেখ আবদুল্লাহ বিন আব সুকর ও পিএ জয়কণ্ঠ।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অডিটের মূল উদ্দেশ্য ছিল আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসারে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, জনবল এবং পরিচালনাগত কার্যক্রমের বাস্তব অবস্থা যাচাই করা। এ জন্য অডিট টিম বিমানবন্দরের নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নথিপত্র পর্যালোচনার পাশাপাশি সরেজমিনে বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে।

অডিটের অংশ হিসেবে বিমানবন্দরে ব্যবহৃত হোল্ড ব্যাগেজ ও কেবিন ব্যাগেজ স্ক্যানিং মেশিন, এক্সপ্লোসিভ ট্রেস ডিটেকশন সিস্টেম (ETDS), ওয়াক থ্রু মেটাল ডিটেক্টর এবং হ্যান্ডহেল্ড মেটাল ডিটেক্টরের কার্যকারিতা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা যাচাই করা হয়। এসব নিরাপত্তা সরঞ্জামের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, ক্যালিব্রেশন ও ভেরিফিকেশন যথাযথভাবে সম্পন্ন হচ্ছে কি না, তা পরীক্ষা করেন অডিট সদস্যরা।

পাশাপাশি এসব যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণে নিয়োজিত টেকনিক্যাল টিম এবং পরিচালনাকারী অপারেটরদের প্রশিক্ষণ ও সার্টিফিকেশনসংক্রান্ত নথিপত্রও পর্যালোচনা করা হয়। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী নিরাপত্তা সরঞ্জাম পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট কর্মীদের দক্ষতা ও যোগ্যতা নিশ্চিত করার বিষয়টিও অডিটে গুরুত্ব পায়।

বিমানবন্দরের নিরাপত্তা পোস্টগুলোতে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী যাত্রী, ব্যাগেজ ও অন্যান্য প্রবেশকারীদের তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা যাচাই করতে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করেন অডিট টিমের সদস্যরা। বিমানবন্দরের নিজস্ব নিরাপত্তা কর্মসূচি (Airport Security Programme—ASP) অনুযায়ী নিরাপত্তা কার্যক্রম বাস্তবায়নের বিষয়টিও পর্যবেক্ষণ করা হয়।

এ ছাড়া রানওয়ে ও কার্গো টার্মিনালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বিমানবন্দরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা পাস নীতিমালা এবং যাত্রী ও দর্শনার্থীদের প্রবেশাধিকার ব্যবস্থাপনা পরীক্ষা করা হয়। নিরাপত্তা পাসের মাধ্যমে নির্ধারিত ব্যক্তিরা নিজ নিজ অনুমোদিত এলাকায় প্রবেশ করছেন কি না, সে বিষয়েও যাচাই-বাছাই করা হয়।

অডিট চলাকালে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার বাস্তব প্রয়োগ, দায়িত্ব বণ্টন, প্রযুক্তিগত সরঞ্জামের ব্যবহার এবং বিদ্যমান প্রক্রিয়াগুলো আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা মূল্যায়ন করেন তাঁরা। পরিদর্শন ও নথিপত্র যাচাইয়ের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণ এবং সুপারিশও প্রস্তুত করা হয়।

বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে অডিটের সমাপনী কার্যক্রমে টিম প্রধান ক্যালাম ভাইন শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুতর কোনো পর্যবেক্ষণ নেই বলে জানান এবং সন্তোষ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে অডিটের বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশসমূহ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (সিএএবি) সদরদপ্তরে উপস্থাপন করা হবে বলে জানান তিনি।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের আশা, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রথমবারের মতো আইকাওর এ নিরাপত্তা অডিট সম্পন্ন হওয়া আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার অগ্রগতি মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অডিটের চূড়ান্ত মূল্যায়ন ও সুপারিশ বাস্তবায়নের মাধ্যমে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, কার্যকর ও আন্তর্জাতিক মানসম্মত করার সুযোগ তৈরি হবে।

উল্লেখ্য, আইকাও জাতিসংঘের একটি বিশেষায়িত সংস্থা, যা আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও পরিচালনাগত মানদণ্ড নির্ধারণ এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর তা বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণে কাজ করে। এর নিরাপত্তা অডিট আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল ব্যবস্থায় নিরাপত্তার মান যাচাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ