টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা। পরিদর্শন শেষে তিনি দুর্গত মানুষের হাতে শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী তুলে দেন এবং তাদের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে জেলা প্রশাসক উপজেলার বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বন্যার কারণে তাদের জীবনযাত্রায় সৃষ্ট দুর্ভোগ সম্পর্কে অবগত হন। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ও প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ক্ষয়ক্ষতির কথা তুলে ধরলে জেলা প্রশাসক সেগুলো গুরুত্বের সঙ্গে শোনেন।

পরিদর্শন শেষে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে শুকনো খাবার, প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীসহ বিভিন্ন ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। ত্রাণ গ্রহণকারী বন্যার্তরা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে দ্রুত সহায়তা পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।
ত্রাণ বিতরণকালে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান, সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ্ব মুজিবুর রহমান, ঢেমশা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু তাহেরসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
এ সময় জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কোনো পরিবারকে অসহায় অবস্থায় ফেলে রাখা হবে না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও সহায়তা কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তিনি সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয়ের মাধ্যমে ত্রাণ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচিতে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। তারা দুর্গত মানুষের প্রয়োজন নিরূপণ এবং দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দিতে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সাতকানিয়ার বন্যাকবলিত বিভিন্ন ইউনিয়নে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। তালিকা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে খাদ্যসামগ্রীসহ প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে। পাশাপাশি বন্যা পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আরও ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়া হবে।