মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে টানা পাঁচ দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। একদিকে বন্যার পানিতে হাজারো মানুষ পানিবন্দি, অন্যদিকে দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন উপজেলার বাসিন্দারা।
বন্যার পানি কেরানীহাটে অবস্থিত সাতকানিয়া পল্লী বিদ্যুতের ৩৩ কেভি সাবস্টেশনে প্রবেশ করায় বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাত ১১টা থেকে শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেল ৩টা পর্যন্ত, অর্থাৎ প্রায় ১৬ ঘণ্টা ধরে সাতকানিয়ার অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

এদিকে টানা বর্ষণে ডলু নদী, সাঙ্গু নদী ও হাঙ্গর খালের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে সাতকানিয়া উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে হাজারো পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
সাতকানিয়া জোনাল অফিসের এজিএম শহিদুল ইসলাম জানান, পল্লী বিদ্যুতের ৩৩ কেভি সাবস্টেশনে বন্যার পানি প্রবেশ করায় বৃহস্পতিবার রাত ১১টা থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “বিদ্যুৎ সরবরাহ দ্রুত চালু করতে আমাদের কর্মীরা বন্যার পানির মধ্যেও নিরলসভাবে কাজ করছেন। সাবস্টেশনের গুরুত্বপূর্ণ কিছু যন্ত্রাংশ উঁচু স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকটি স্থানে মেরামত কাজ চলমান রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি সন্ধ্যার মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরায় চালু করতে। গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
তিনি আরও জানান, সাতকানিয়া উপজেলার কাঞ্চনা, চরতী ও আমিলাইষ ইউনিয়নের কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক ছিল।
এদিকে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। মোবাইল চার্জ, বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজ ব্যাহত হওয়ায় দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।