শিরোনাম
স্বপ্নের পথে আত্মবিশ্বাসী মডেল শান্তার আজ জন্মদিন মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকারে নাংগলমোড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে মাদকবিরোধী সুধী সমাবেশ ও র‍্যালি এডমিরাল পদে পদোন্নতি পেলেন নৌবাহিনী প্রধান খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম মডেল পরিচয়েই স্বাচ্ছন্দ্য, অভিনয়েও নিয়মিত সাবরিনা সাবরিন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জব্বার পাঠাগার একটি আলোর ঘর পরিকল্পিত ও টেকসই উন্নয়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে: মীর হেলাল চট্টগ্রাম বন্দরের শিপিং চ্যানেলে বিশেষ অভিযান, অপসারণ ১২ হাজার মিটার অবৈধ জাল মাদকমুক্ত চট্টগ্রাম গড়তে সম্মিলিত অঙ্গীকার, জেলা পুলিশের সুধী সমাবেশ ও র‍্যালি তুরস্কের ব্লু মসজিদের আদলে নির্মিত আলী শিকদার জামে মসজিদ, দক্ষিণ চট্টগ্রামে সবার নজর কাড়ছে কম মজুরির শ্রমের লোভে রোহিঙ্গা নিয়োগ, সাতকানিয়ায় স্থানীয়দের কর্মসংস্থান নিয়ে উদ্বেগ
সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:০০ পূর্বাহ্ন

জুলাইয়ের শহিদদের ত্যাগ রক্ষায় চার শর্ত পূরণের আহ্বান তাজুল ইসলামের

চবি প্রতিনিধি / ৮৪ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা ও অর্জন রক্ষায় চারটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত পূরণের আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে বিচার সম্পন্ন, সংঘটিত অপরাধের ইতিহাস স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ, ভুক্তভোগী ও ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে।

সোমবার (৪ আগস্ট) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আব্দুর রব হল মাঠ প্রাঙ্গণে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) আয়োজিত দিনব্যাপী ‘জাগ্রত জুলাই’ কালচারাল ফেস্টে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তাজুল ইসলাম বলেন, “আমরা সবাই মিলে যা পারিনি, আমাদের সন্তানেরা তা করে দেখিয়েছে। তারা একটি নিষ্ঠুর শাসককে পরাজিত করেছে। পুরো মন্ত্রিসভা, সংসদ ও রাষ্ট্রীয় বাহিনীসহ এক রাষ্ট্র থেকে আরেক রাষ্ট্রে পালিয়ে যাওয়ার এমন নজির খুবই বিরল।”

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দেড় হাজারের বেশি মানুষ শহিদ হয়েছেন। তাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে যে নতুন রাষ্ট্রের আকাঙ্ক্ষা ও পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। শহিদদের আত্মত্যাগকে অর্থবহ করতে হলে চারটি শর্ত বাস্তবায়ন জরুরি।

প্রথম শর্ত হিসেবে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও অন্যান্য অপরাধে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত না হলে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে না।

দ্বিতীয়ত, সংঘটিত অপরাধের ইতিহাস সাহিত্য, চলচ্চিত্র, প্রামাণ্যচিত্র, গবেষণা, পাঠ্যবইসহ বিভিন্ন মাধ্যমে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, শহিদদের আত্মত্যাগ এবং তৎকালীন ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে জানতে পারে, সে জন্য ইতিহাস সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তৃতীয় শর্ত হিসেবে ভুক্তভোগী, শহিদ পরিবার ও ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান সাবেক এই চিফ প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও আহতদের পাশে রাষ্ট্রকে দীর্ঘমেয়াদে দাঁড়াতে হবে।

চতুর্থ শর্ত হিসেবে পুলিশ, প্রশাসন ও আমলাতন্ত্রসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রয়োজনীয় সংস্কারের কথা উল্লেখ করেন তিনি। তাজুল ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে জবাবদিহি, স্বচ্ছতা ও জনবান্ধব ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে একই ধরনের অপরাধ ও নিপীড়নের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা থেকে যাবে।

তিনি আরও বলেন, “এসব সংস্কার বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে একই ধরনের অপরাধ আবারও ঘটতে পারে।” জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও শহিদদের আত্মত্যাগকে ব্যর্থ হতে না দেওয়ার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি, ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে দিনব্যাপী এ আয়োজন করে চাকসু। ‘জাগ্রত জুলাই’ কালচারাল ফেস্ট উপলক্ষে মাঠজুড়ে ছিল গণঅভ্যুত্থানভিত্তিক চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী, চিত্রকর্ম, গ্রাফিতি ওয়াল এবং বইয়ের স্টল।

এ ছাড়া সাংস্কৃতিক পরিবেশনার অংশ হিসেবে ছিল সংগীত, কবিতা আবৃত্তি, মঞ্চনাটক এবং ‘জাগ্রত জুলাই’ থিম সং পরিবেশনা। আন্দোলন ও স্বৈরাচারের প্রেক্ষাপট তুলে ধরতে আয়োজনে নির্মাণ করা হয় বিভিন্ন প্রতীকী শিল্প স্থাপনা।

প্রতীকী স্থাপনাগুলোর মধ্যে ছিল ‘আয়নাঘর’, ‘জুলাই গেট’, প্রতীকী ফাঁসির মঞ্চ এবং ‘হারুনের ভাতের হোটেল’। এসব স্থাপনার মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন ঘটনা, আন্দোলনের অভিজ্ঞতা এবং তৎকালীন রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা তুলে ধরা হয়।

আয়োজনে শহিদ আবু সাঈদ, মীর মুগ্ধ, হৃদয় চন্দ্র তরুণ, ফরহাদ হোসেন, ওয়াসিম আকরাম ও ফয়সাল আহমেদ শান্তসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন শহিদের সংগ্রাম ও জীবন নিয়ে পৃথক পরিচিতি কর্নার স্থাপন করা হয়। বিভিন্ন বিভাগের শহিদদের স্মৃতিকে কেন্দ্র করে তৈরি করা হয় বাংলাদেশের মানচিত্রসংবলিত একটি বিশাল ক্যানভাস।

অনুষ্ঠানে শহিদ পরিবার ও আহতদের স্মৃতিকথা তুলে ধরার বিশেষ পর্বও ছিল। পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। শিশুদের জন্য আয়োজন করা হয় পৃথক ‘কিডস জোন’।

দিনব্যাপী এ আয়োজনে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন বিভাগের প্রতিনিধিসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ