শিরোনাম
স্বপ্নের পথে আত্মবিশ্বাসী মডেল শান্তার আজ জন্মদিন মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকারে নাংগলমোড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে মাদকবিরোধী সুধী সমাবেশ ও র‍্যালি এডমিরাল পদে পদোন্নতি পেলেন নৌবাহিনী প্রধান খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম মডেল পরিচয়েই স্বাচ্ছন্দ্য, অভিনয়েও নিয়মিত সাবরিনা সাবরিন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জব্বার পাঠাগার একটি আলোর ঘর পরিকল্পিত ও টেকসই উন্নয়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে: মীর হেলাল চট্টগ্রাম বন্দরের শিপিং চ্যানেলে বিশেষ অভিযান, অপসারণ ১২ হাজার মিটার অবৈধ জাল মাদকমুক্ত চট্টগ্রাম গড়তে সম্মিলিত অঙ্গীকার, জেলা পুলিশের সুধী সমাবেশ ও র‍্যালি তুরস্কের ব্লু মসজিদের আদলে নির্মিত আলী শিকদার জামে মসজিদ, দক্ষিণ চট্টগ্রামে সবার নজর কাড়ছে কম মজুরির শ্রমের লোভে রোহিঙ্গা নিয়োগ, সাতকানিয়ায় স্থানীয়দের কর্মসংস্থান নিয়ে উদ্বেগ
সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন

এডমিরাল পদে পদোন্নতি পেলেন নৌবাহিনী প্রধান খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম

বার্তা টুডে ডেস্ক / ৩২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬

বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম, এনবিপি, এনপিপি, এনডিইউ, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, এমফিল, পিএইচডি পদোন্নতি পেয়ে এডমিরাল পদমর্যাদা লাভ করেছেন। রোববার (২৩ আগস্ট) বিমান বাহিনী সদর দপ্তরে এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে তাঁকে এডমিরাল র‍্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেওয়া হয়।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান নৌবাহিনী প্রধানকে এডমিরাল র‍্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী নৌবাহিনী প্রধানকে অভিনন্দন জানান।

র‍্যাংক ব্যাজ পরিধান অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, বিমান বাহিনী প্রধান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, প্রতিরক্ষা সচিবসহ সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত ২৩ জুলাই ২০২৬ নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম। প্রায় চার দশকের বর্ণাঢ্য সামরিক জীবনে তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড, স্টাফ ও নেতৃত্বমূলক দায়িত্ব পালন করেছেন।

এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম ১৯৮৭ সালের ১ জানুয়ারি বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগ দেন। রয়্যাল মালয়েশিয়ান নৌবাহিনী থেকে বিশেষ কৃতিত্বের সঙ্গে নৌ-প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার পর ১৯৮৯ সালের ১ জুলাই তিনি নৌবাহিনীর এক্সিকিউটিভ ব্রাঞ্চে কমিশন লাভ করেন। ৮৭-এ ব্যাচে তিনি জ্যেষ্ঠতা ও মেধায় প্রথম স্থান অধিকার করেন।

শিক্ষাজীবনেও তাঁর রয়েছে উল্লেখযোগ্য সাফল্য। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) থেকে তিনি মেরিটাইম গভর্ন্যান্স বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। পাশাপাশি এমফিল ডিগ্রির সঙ্গে স্ট্র্যাটেজিক, ডিফেন্স ও অপারেশনাল স্টাডিজ বিষয়ে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তিনটি মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। এসব ডিগ্রির মধ্যে প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি প্রথম শ্রেণিতে কৃতিত্ব অর্জন করেন।

তিনি ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ (এনডিসি), আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স (এএফডব্লিউসি) এবং ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ (ডিএসসিএসসি)-এর কৃতী গ্র্যাজুয়েট। ছাত্রজীবনে এসএসসি ও এইচএসসি উভয় পরীক্ষায় সম্মিলিত মেধা তালিকায় স্থান অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন।

কর্মজীবনে এডমিরাল আজীম বাংলাদেশ নৌবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দায়িত্বে সফলতার সঙ্গে কাজ করেছেন। তিনি কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল (কমচিট), কমান্ডার ঢাকা নৌ অঞ্চল (কমঢাকা), কমান্ডার সাবমেরিন (কমসাব), কমান্ড্যান্ট বাংলাদেশ নেভাল একাডেমি এবং নৌবাহিনী সদর দপ্তরের পরিচালক নৌ-অপারেশন্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এ ছাড়া বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ফ্রিগেট বানৌজা ওমর ফারুক, বানৌজা এস আর আমিন, বানৌজা নির্ভয়, বানৌজা সৈকতসহ বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধজাহাজের অধিনায়কত্ব করেছেন তিনি। বাংলাদেশ নেভাল একাডেমি, ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ এবং ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজেও প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তাঁর রয়েছে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। তিনি লেবানন ও গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে ওমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ ও ওমানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন, বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

সামরিক পেশায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম নৌবাহিনীর সর্বোচ্চ শান্তিকালীন পদক ‘নৌবাহিনী পদক’ (এনবিপি), ‘নৌ পারদর্শিতা পদক’ (এনপিপি), ‘জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কার’ এবং ‘জাতীয় স্কাউট পুরস্কার’ (রৌপ্য ইলিশ পদক) অর্জন করেছেন। এ ছাড়া তিনি তিনবার নৌবাহিনী প্রধানের প্রশংসাসূচক ইনসিগনিয়া লাভ করেন।

তিনি ‘বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন’ পুরস্কার, ‘সেরা ব্যক্তিগত গবেষণাপত্র পুরস্কার’ এবং অ্যান্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার বিষয়ে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণে ‘সেরা শিক্ষার্থী পুরস্কার’ও অর্জন করেন।

পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি এডমিরাল আজীম একজন পাঠক, লেখক ও গবেষক হিসেবে পরিচিত। সামুদ্রিক নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা এবং সামরিক ও নৌ-কৌশলগত বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জার্নাল ও সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।

খেলাধুলার প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত আগ্রহ রয়েছে। গলফ, বাস্কেটবল, দাবা ও টেবিল টেনিস তাঁর পছন্দের খেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে। তিনি বাংলা ও ইংরেজিতে সাবলীল এবং মালে ও ফরাসি ভাষায় ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জন করেছেন।

ব্যক্তিগত জীবনে এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম বেগম নুরতাজ আজীমের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ। তাঁদের দুই কন্যাসন্তান রয়েছে।

দীর্ঘ সামরিক অভিজ্ঞতা, দেশ-বিদেশে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন এবং পেশাগত দক্ষতার ধারাবাহিকতার মধ্য দিয়ে নৌবাহিনীর সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতৃত্বে উঠে আসা খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমের এডমিরাল পদে পদোন্নতি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নেতৃত্বের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ