শিরোনাম
বাঁশখালীতে প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশে মানুষের ঢল, ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে মাতারবাড়ী হবে দেশের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও শিল্পকেন্দ্র: প্রধানমন্ত্রী চন্দনাইশে জুলাই শহীদদের স্মরণে দোয়া, এতিমদের মাঝে খাবার বিতরণ বছর ঘুরলেই বন্যা-ভাঙনের আতঙ্ক, সাতকানিয়ায় নদীশাসনের দাবি বাংলাদেশের ওপর আর কোনো তাবেদারি চলবে না- ভূমি প্রতিমন্ত্রী পরিবেশ সংরক্ষণে বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়ে ফলজ-বনজ গাছের চারা বিতরণ প্রধানমন্ত্রীর বাঁশখালী সফর উপলক্ষে প্রস্তুতি পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের জুলাই বিপ্লব স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের পর্দা নামল সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে ৩৫ নম্বর বক্সীরহাট ওয়ার্ডে যুবদলের বৃক্ষরোপণ হাসিনাকে ফেরানোর অভিযোগে চবিতে ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি
সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ১০:২৯ পূর্বাহ্ন

মাতারবাড়ী হবে দেশের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও শিল্পকেন্দ্র: প্রধানমন্ত্রী

বার্তা টুডে ডেস্ক / ৫৪ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬

দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বৃহৎ অবকাঠামো উন্নয়নে অর্থনৈতিক সক্ষমতা, পরিবেশগত প্রভাব, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির পাশাপাশি জনগণের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলা সফরের অংশ হিসেবে রোববার (৯ আগস্ট) সকালে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ীতে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন মাতারবাড়ী আল্ট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এসব নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে হেলিকপ্টারযোগে মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের হেলিপ্যাডে অবতরণ করেন তিনি। পরে প্রকল্পের প্রশাসনিক ভবনে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে ব্রিফিংয়ে অংশ নেন। সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পের সার্বিক কার্যক্রম, বর্তমান উৎপাদন পরিস্থিতি, পরিচালন ব্যবস্থা, জ্বালানি সরবরাহ, রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত হন।

ব্রিফিংয়ে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে জানান, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রটি দেশীয় প্রকৌশলী ও জনবলের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। বিষয়টি জেনে সন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি দেশীয় প্রকৌশলী ও কর্মীদের দক্ষতা, সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতার প্রশংসা করেন এবং তাদের আরও দক্ষতা উন্নয়নে উৎসাহ দেন। পরিদর্শনের অংশ হিসেবে প্রকল্প এলাকায় একটি স্মারক নিমগাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রটি দুটি ৬০০ মেগাওয়াট ইউনিট নিয়ে গঠিত। আধুনিক আল্ট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল প্রযুক্তিনির্ভর এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। কেন্দ্রটির সঙ্গে কয়লা পরিবহন ও খালাসের জন্য বন্দর সুবিধা, বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা, অ্যাকসেস রোডসহ বিভিন্ন সহায়ক অবকাঠামো যুক্ত রয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) ঋণ সহায়তা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে বিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্তমান কার্যক্রমের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনাও অবহিত করা হয়।

ব্রিফিং শেষে দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী প্রকল্প এলাকার বিভিন্ন স্থাপনা ও প্রস্তাবিত উন্নয়ন প্রকল্পের স্থান সরেজমিনে পরিদর্শনে বের হন। দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে তিনি প্রস্তাবিত ৭০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্ধারিত স্থানের উদ্দেশে রওনা হন এবং ১২টা ২৯ মিনিটে সেখানে পৌঁছান। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রস্তাবিত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিকল্পনা, সম্ভাব্য উৎপাদন সক্ষমতা এবং বাস্তবায়ন-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।

মাতারবাড়ীকে ভবিষ্যতের বহুমুখী জ্বালানি ও শিল্পকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রস্তাবিত এলএনজি-ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মেট্রোকেমিক্যাল প্রকল্প এবং নতুন রিফাইনারির জন্য নির্ধারিত স্থানও প্রধানমন্ত্রীকে দেখানো হয়। পাশাপাশি এলপিজি, এলএনজি ও কয়লা টার্মিনাল-সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো এবং প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। এসব প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যবহার, অবকাঠামোগত সমন্বয়, জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ও ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তথ্য নেন প্রধানমন্ত্রী।

পরিদর্শনের এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী মাতারবাড়ীর কোল জেটি পরিদর্শন করেন। সেখান থেকে তিনি মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, এলএনজি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিভিন্ন স্থাপনা পর্যবেক্ষণ করেন। কয়লা পরিবহন ও খালাসের জন্য বন্দর অবকাঠামোর ব্যবহার এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে এর সমন্বিত কার্যক্রম সম্পর্কেও প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়। এ সময় প্রস্তাবিত অস্থায়ী এলপিজি জেটি এবং ভবিষ্যতে ৩ ও ৪ নম্বর কোল পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনের জন্য নির্ধারিত স্থানও পরিদর্শন করেন তিনি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসব প্রকল্পের সম্ভাব্য পরিকল্পনা, অবকাঠামো ও বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।

পরিদর্শনকালে দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য কোনো একক উৎসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হয়ে জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদনের অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা, জ্বালানি সরবরাহের স্থিতিশীলতা, পরিবেশগত প্রভাব এবং জনগণের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করতে হবে। একই সঙ্গে বিদ্যমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, দক্ষ পরিচালনা এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে মাতারবাড়ীকে শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নয়, বরং সমন্বিত জ্বালানি, শিল্প ও বন্দরকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাই গুরুত্ব পেয়েছে। মাতারবাড়ীকে ঘিরে বিদ্যুৎ উৎপাদন, জ্বালানি আমদানি ও সংরক্ষণ, গভীর সমুদ্রবন্দর, শিল্প স্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট যোগাযোগ অবকাঠামোর সমন্বিত উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশাপাশি গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লা ও এলএনজি টার্মিনাল, সম্ভাব্য সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প, রিফাইনারি ও মেট্রোকেমিক্যাল শিল্পসহ বিভিন্ন অবকাঠামো বাস্তবায়িত হলে মাতারবাড়ী দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও জ্বালানি অবকাঠামো কেন্দ্রে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এসব অবকাঠামোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা গেলে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তার পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানি, শিল্পায়ন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি পরিকল্পনায় উৎসের বৈচিত্র্য, অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও পরিবেশগত ভারসাম্যকে একসঙ্গে বিবেচনায় নেওয়ার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর সফরে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী নিরাপত্তা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামসুল ইসলাম, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, বিশেষ রাজনৈতিক সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মৃধাসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিভিন্ন স্থাপনা ও প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন শেষ করেন। পরে হেলিপ্যাডের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। সফরসূচি অনুযায়ী দুপুর ১টা ৫ মিনিটে হেলিকপ্টারযোগে মাতারবাড়ী ত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

মাতারবাড়ী সফরে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নির্দেশনা বাস্তবায়িত হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন, জ্বালানি নিরাপত্তা, গভীর সমুদ্রবন্দরভিত্তিক বাণিজ্য এবং শিল্পায়নের মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় গড়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট মহলের। একই সঙ্গে মাতারবাড়ীকে ঘিরে সমন্বিত জ্বালানি ও বন্দর অবকাঠামো গড়ে উঠলে দেশের অর্থনীতি, বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ