চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙ্গরে পণ্যবাহী জাহাজে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, বিশেষ করে গম, অবৈধভাবে মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি কিংবা জাহাজকে ‘ভাসমান গুদাম’ হিসেবে ব্যবহারের অপচেষ্টা ঠেকাতে বিশেষ যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।
বুধবার (১২ আগস্ট) চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের নির্দেশনায় কর্ণফুলী চ্যানেল ও বহির্নোঙ্গর এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।

দেশের প্রধান সামুদ্রিক প্রবেশদ্বার চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখা এবং খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অভিযানে বহির্নোঙ্গরে অবস্থানরত পণ্যবাহী জাহাজগুলোর কার্যক্রমের ওপর বিশেষ নজরদারি চালানো হয়। কোনো অসাধু ব্যক্তি বা চক্র পণ্যবাহী জাহাজ দীর্ঘ সময় নোঙর করে রেখে বাজারে পণ্যের সরবরাহে কৃত্রিম বিঘ্ন সৃষ্টি করছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ ও যাচাই করা হয়। সন্দেহজনক কিংবা অনিয়মপূর্ণ কার্যক্রম শনাক্ত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও নেওয়া হচ্ছে।
অভিযানে পণ্য পরিবহন ও খালাসের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ হচ্ছে কি না, সেটিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়। বন্দর কর্তৃপক্ষের বিধান অনুযায়ী, পণ্যবাহী জাহাজ বন্দর ত্যাগের পর নির্ধারিত ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পণ্য নির্ধারিত এলাকায় পৌঁছানো ও খালাসের ব্যবস্থা করার কথা। পণ্য পরিবহনে অযথা বিলম্ব, পণ্য আটকে রাখা কিংবা অন্য কোনো অনিয়মের মাধ্যমে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির সুযোগ যাতে না থাকে, সেজন্য সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের ওপর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
এ সময় বহির্নোঙ্গরে অবস্থানরত লাইটার জাহাজ ও মাদারশিপের চালকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রযোজ্য নিয়ম ও নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণের জন্য অবহিত করা হয়। জাহাজে লোড করা পণ্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যথাযথভাবে পরিবহন ও খালাস নিশ্চিত করতেও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
যৌথ অভিযানের সময় কর্ণফুলী চ্যানেল ও বহির্নোঙ্গর এলাকায় বিভিন্ন টহল ও বোট তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় মূল নেভিগেশনাল চ্যানেলে অবৈধভাবে মাছ ধরার জাল স্থাপন করে জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ২৮ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ২৪ জনকে এক মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
নৌপথে অবৈধ জাল স্থাপন বন্ধে স্থানীয়দের মধ্যেও সচেতনতা কার্যক্রম চালানো হয়। এ সময় লিফলেট বিতরণ করে নেভিগেশনাল চ্যানেলে জাল স্থাপন না করা এবং জাহাজ চলাচলে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করার বিষয়ে স্থানীয়দের সতর্ক করা হয়। পাশাপাশি নেভিগেশনাল সেফটি নিশ্চিত করতে রেডার চ্যানেল ব্রডকাস্টের মাধ্যমে VHF Channel 12 ও Channel 16-এ সংশ্লিষ্ট নৌযান ও নাবিকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।
অভিযানে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের একটি পাইলট ভেসেল, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি জাহাজ ও দুটি বোট এবং বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের একটি জাহাজ ও দুটি বোট অংশ নেয়। বন্দর ও নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বিত নজরদারি, টহল ও তথ্য আদান-প্রদান আরও জোরদার করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চট্টগ্রাম বন্দরকে ব্যবহার করে ভবিষ্যতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য অবৈধভাবে মজুদ, জাহাজকে ‘ভাসমান গুদাম’ হিসেবে ব্যবহার, পণ্য আটকে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, নেভিগেশনাল চ্যানেলে অবৈধ জাল স্থাপন কিংবা জাহাজ চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরির চেষ্টা করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ও যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জাতীয় অর্থনীতি, খাদ্য নিরাপত্তা, জনস্বার্থ ও নিরাপদ সামুদ্রিক বাণিজ্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের সমন্বিত অভিযান ও নজরদারি নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।