শিরোনাম
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে চট্টগ্রামে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে প্রশাসন-পুলিশ বেগম খালেদা জিয়ার ৮১তম জন্মবার্ষিকীতে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির দোয়া মাহফিল দেশপ্রেমিক, নৈতিক ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে কর্মীদের গড়ে তুলতে হবে: শাহজাহান চৌধুরী এমপি ঐক্য-সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে মিরসরাই এসোসিয়েশন-চট্টগ্রামের পুনর্মিলনী চট্টগ্রাম মহানগর ক্রীড়া সংস্থার শরীর গঠন কমিটিতে দিদার হোসেন বোয়ালখালীতে স্মারক মেধা বৃত্তি পরীক্ষা: প্রবাসী ব্যবসায়ী সেলিম উদ্দিনকে ক্রেস্ট দিয়ে সংবর্ধনা চট্টগ্রামে শহীদ জিয়া-খালেদা জিয়া স্মৃতি আন্তঃস্কুল ফুটবল টুর্নামেন্ট শুরু বন্দরে দুই জাহাজের সংঘর্ষ, অক্ষত ৩৩ হাজার টন ডিজেল ভাটিয়ারীতে শিপইয়ার্ডে বিস্ফোরণ, নিহত ৪; আশঙ্কাজনক কয়েকজন ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুলের মনোনয়ন গ্রহণ
রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:০৯ পূর্বাহ্ন

বন্দরে দুই জাহাজের সংঘর্ষ, অক্ষত ৩৩ হাজার টন ডিজেল

বার্তা টুডে ডেস্ক / ৬৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় তেলবাহী ট্যাংকার এমটি সি স্পাইক ও নোঙর করে থাকা বাল্ক ক্যারিয়ার এমভি সান শাইন-এর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটের দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে সংঘর্ষের পরও জাহাজের কার্গো ট্যাংক অক্ষত রয়েছে এবং কোনো ধরনের তেল নিঃসরণের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

বন্দর কর্তৃপক্ষের জরুরি আপডেট অনুযায়ী, এমটি সি স্পাইক জাহাজটিতে প্রায় ৩৩ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল (গ্যাস অয়েল) ছিল। জাহাজটি নোঙর করে থাকা এমভি সান শাইনের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তীব্র স্রোতের কারণে জাহাজটির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা সম্ভব না হওয়ায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংঘর্ষের পর এমটি সি স্পাইকের সব কার্গো ট্যাংক সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে। কোনো কার্গো ট্যাংকে পানি প্রবেশ করেনি এবং জাহাজ থেকে তেল বা ডিজেল সমুদ্রে নিঃসরণেরও কোনো ঘটনা ঘটেনি। ফলে এ মুহূর্তে পরিবেশগত দূষণের আশঙ্কা নেই বলে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

তবে সংঘর্ষে এমটি সি স্পাইকের ইঞ্জিন রুমের পোর্ট কোয়ার্টারে আনুমানিক এক বর্গমিটার ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। ওই ফাটল দিয়ে পানি প্রবেশ করায় জাহাজটিতে সাময়িকভাবে ব্ল্যাকআউট বা বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দেয়। এরপর জরুরি ব্যাটারির মাধ্যমে জাহাজের ভিএইচএফ যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখা হয়েছে এবং জাহাজের মাস্টারের সঙ্গে বন্দর কর্তৃপক্ষ সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখছে।

জাহাজটিকে স্থিতিশীল রাখতে দুটি নোঙরের প্রতিটিতে ১০ শ্যাকেল করে অ্যাঙ্কর ক্যাবল ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। জোয়ার-ভাটার পরিস্থিতি বিবেচনা করে বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভাটার সময়ও জাহাজটি নিরাপদে ভেসে থাকবে।

ঘটনার পরপরই উদ্ধার ও জরুরি কার্যক্রম শুরু করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডও উদ্ধার কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের টাগবোট ‘কান্ডারী-৮’ দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও প্রয়োজনীয় সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

এদিকে জাহাজে থাকা জ্বালানি তেল দ্রুত খালাসের জন্য সংশ্লিষ্ট শিপিং এজেন্ট প্রাইড শিপিংকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জাহাজের ফাটল মেরামত এবং নিরাপদে উদ্ধারের জন্য একটি স্যালভেজ কোম্পানিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি বর্তমানে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দুর্ঘটনার পরও চট্টগ্রাম বন্দরের চ্যানেলে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং বন্দরের সামগ্রিক কার্যক্রমে কোনো ধরনের বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেনি।

ঘটনার প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে সংঘর্ষের কারণ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ