ফেসবুক বর্তমান সময়ে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। মানুষের যোগাযোগ, তথ্য আদান-প্রদান, ব্যবসা-বাণিজ্য ও জনসচেতনতা তৈরিতে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু ফেসবুক থেকে অর্থ উপার্জনের সুযোগ চালুর পর এর একটি নেতিবাচক দিকও ক্রমেই দৃশ্যমান হচ্ছে।
কিছু মানুষ শুধু ভিউ, লাইক, শেয়ার ও ডলারের আশায় এমন সব কনটেন্ট তৈরি করছেন, যার সঙ্গে বাস্তব জীবনের প্রয়োজনীয়তা বা সামাজিক মূল্যবোধের কোনো সম্পর্ক নেই। কেউ ঘুম থেকে উঠে কী করছেন, কী নাস্তা বানাচ্ছেন, কী খাচ্ছেন, বাড়িতে কী কী আসবাবপত্র আছে—এমনকি পরিবারের একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়ও ক্যামেরার সামনে তুলে ধরছেন।
ব্যক্তিগত জীবন ব্যক্তিগতই থাকুক—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ভিউ ও আয়ের আশায় যখন ব্যক্তিগত গোপনীয়তাও বিনোদনের উপকরণ হয়ে যায়, তখন প্রশ্ন উঠতেই পারে—আমরা কি সত্যিই এগিয়ে যাচ্ছি, নাকি শুধু ভিউয়ের পেছনে ছুটছি?
আরও ভয়ংকর বিষয় হলো, দ্রুত ভিউ পাওয়ার আশায় কেউ কেউ ভুল তথ্য, গুজব, বিভ্রান্তিকর শিরোনাম, পুরোনো ভিডিওকে নতুন ঘটনার ভিডিও হিসেবে প্রচার এবং অসত্য সংবাদ ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এতে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছেন, এতে বিভিন্ন ব্যক্তির ও সংবাদকর্মীদের সম্মান ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং সমাজে ভুল তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব নিয়ে ভাবা জরুরি। বাবা-মায়ের ব্যক্তিগত জীবন, সন্তানদের প্রতিটি মুহূর্ত এবং পারিবারিক বিষয় যখন নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়, তখন ভবিষ্যতে এর সামাজিক ও ব্যক্তিগত ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
ফেসবুক থেকে আয় করা নিজে অপরাধ নয়। সৃজনশীল, শিক্ষামূলক, তথ্যবহুল ও জনকল্যাণমূলক কনটেন্ট তৈরি করে আয় করা অবশ্যই ইতিবাচক। কিন্তু শুধুমাত্র অর্থের জন্য মিথ্যা, অশালীন, বিভ্রান্তিকর কিংবা অতিরিক্ত ব্যক্তিগত কনটেন্ট তৈরি করা কোনোভাবেই সমাজের জন্য ভালো বার্তা বহন করে না।
তাই ফেসবুক কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ—শুধু ভিউ ও এনগেজমেন্টের ওপর ভিত্তি করে অর্থ প্রদানের ব্যবস্থা আরও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করুন। মিথ্যা তথ্য, গুজব, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন ও নিম্নমানের কনটেন্টকে উৎসাহিত করে এমন মনিটাইজেশন নীতি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।
ফেসবুকে যে আইডি থেকে অশ্লীলতা ছড়ায় তাদের আইডি ব্লকের মাধ্যমে ব্যবস্থা নিতে হবে,
আমরা চাই—
ভিউয়ের জন্য নয়, মূল্যবোধের জন্য কনটেন্ট তৈরি হোক।
ডলারের জন্য নয়, মানুষের উপকারের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার হোক।
প্রচার নয়, প্রয়োজন হোক দায়িত্বশীলতার।
ফেসবুক থাকুক মানুষের কল্যাণে, ভিউয়ের নেশায় মানুষের নৈতিকতা ধ্বংসের হাতিয়ার হিসেবে নয়।
লেখক, মিজানুর রহমান রুবেল সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম)