শিরোনাম
লায়ন্স-লিও ইউনাইটেড স্টারসের চার্জ হস্তান্তর ও চার্টার সেলিব্রেশন অনুষ্ঠিত ৩০–৪০ বছর পর অবহেলিত রেলপথে বড় পুনর্বাসন উদ্যোগ রাঙামাটিতে কসমসের চতুর্থ তলায় ভয়াবহ আগুন, পুড়ল রুস্টপ রেস্টুরেন্ট সিজেকেএস সদস্য সচিবের কাছে খেলোয়াড়-সংগঠকদের আকুতি, কান্নায় ভেঙে পড়লেন ক্রীড়া সংগঠক রাঙামাটিতে বিশেষ অভিযানে ৭ জন গ্রেপ্তার, ২০ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার ফিজিওথেরাপির মানোন্নয়ন ও কাউন্সিল আইন বাস্তবায়নের দাবিতে চট্টগ্রামে বর্ণাঢ্য র‍্যালি সন্দ্বীপে পুলিশ সদস্য অপহরণে গ্রেপ্তার এক, অভিযান অব্যাহত ডেভিড ইমনসহ সন্ত্রাসীদের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, গ্রেপ্তার ৭ বটতলীতে ‘মাদককে না বলি’—মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান চবিতে শিক্ষকসহ বহিষ্কার ৩, বহিষ্কার বাতিল ১ জনের
বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৫ অপরাহ্ন

রাঙামাটিতে বিশেষ অভিযানে ৭ জন গ্রেপ্তার, ২০ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার

মো. নাজিম আলী রাঙামাটি প্রতিনিধি / ৪৪ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

রাঙামাটিতে মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে পাঁচজন মাদক কারবারি ও দুইজন মাদকসেবীসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। এ সময় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের হেফাজত থেকে ২০ লিটার দেশীয় তৈরি চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, পিপিএমের নির্দেশনায় এবং কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জসীম উদ্দীনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি আভিযানিক দল রাঙামাটি পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

পুলিশ জানায়, অভিযানের একপর্যায়ে সেতু চাকমা (৪০), মো. আরমান (২৩) ও তরপন চাকমা (৫০)-এর হেফাজত থেকে ২০ লিটার দেশীয় তৈরি চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়। মাদক সেবন এবং মাদক ক্রয়-বিক্রয়ে সহায়তার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ছাড়া মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আরাফাত ইসলাম তারেক (২৯) ও সাইফুল ইসলাম (৩১) এবং মাদক সেবনের অভিযোগে মো. কামাল উদ্দিন (৪১) ও মো. নুর মিয়া (৪৪)-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অভিযান শেষে গ্রেপ্তার সাতজনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা ও প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। পরে বিধি মোতাবেক তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মাদকবিরোধী অভিযান সম্পর্কে রাঙামাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মাকসুদা হক বলেন, “মাদক একটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য মারাত্মক হুমকি। মাদকের বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”

তিনি বলেন, মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি মাদকসেবীদেরও আইনের আওতায় এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। বিশেষ করে তরুণ ও যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনগুলোকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

অ্যাডভোকেট মাকসুদা হক আরও বলেন, শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। মাদকের মূল উৎস, সরবরাহব্যবস্থা এবং কারবারের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি মাদকাসক্তদের পুনর্বাসন ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। মাদকমুক্ত রাঙামাটি গড়তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, পিপিএম বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক কারবারি ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” মাদকমুক্ত রাঙামাটি গড়তে মাদকসংক্রান্ত তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার জন্য তিনি সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আহ্বান জানান।

কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জসীমউদ্দীন বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদক কারবারি ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদকমুক্ত রাঙামাটি গড়তে সবাইকে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাচ্ছি।”

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান আরও জোরদার করা হবে। মাদক কারবারি, সরবরাহকারী ও সেবনকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ