শিরোনাম
চট্টগ্রামে ১০০ পানির এটিএম বুথ স্থাপনে ওয়াসা-ওয়াটারএইডের চুক্তি হাটহাজারীতে সেনাবাহিনীর ফিল্ড ফায়ারিংয়ে দুর্ঘটনা, ২ সৈনিক নিহত; আহত কর্মকর্তা ঢাকায় লায়ন্স-লিও ইউনাইটেড স্টারসের চার্জ হস্তান্তর ও চার্টার সেলিব্রেশন অনুষ্ঠিত ৩০–৪০ বছর পর অবহেলিত রেলপথে বড় পুনর্বাসন উদ্যোগ রাঙামাটিতে কসমসের চতুর্থ তলায় ভয়াবহ আগুন, পুড়ল রুস্টপ রেস্টুরেন্ট সিজেকেএস সদস্য সচিবের কাছে খেলোয়াড়-সংগঠকদের আকুতি, কান্নায় ভেঙে পড়লেন ক্রীড়া সংগঠক রাঙামাটিতে বিশেষ অভিযানে ৭ জন গ্রেপ্তার, ২০ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার ফিজিওথেরাপির মানোন্নয়ন ও কাউন্সিল আইন বাস্তবায়নের দাবিতে চট্টগ্রামে বর্ণাঢ্য র‍্যালি সন্দ্বীপে পুলিশ সদস্য অপহরণে গ্রেপ্তার এক, অভিযান অব্যাহত ডেভিড ইমনসহ সন্ত্রাসীদের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, গ্রেপ্তার ৭
বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৭ অপরাহ্ন

চট্টগ্রামে ১০০ পানির এটিএম বুথ স্থাপনে ওয়াসা-ওয়াটারএইডের চুক্তি

নিম্নআয়ের ও পানি সংকটাপন্ন এলাকার মানুষের জন্য নিরাপদ ও সাশ্রয়ী পানি সরবরাহে উদ্যোগ / ২১ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

চট্টগ্রাম নগরীর পানি সংকটাপন্ন ও নিম্নআয়ের মানুষের কাছে নিরাপদ ও সাশ্রয়ী খাবার পানি পৌঁছে দিতে পানির এটিএম বুথ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসা ও ওয়াটারএইড বাংলাদেশ। প্রাথমিকভাবে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১০০টি পানির এটিএম বুথ স্থাপন করা হবে। পাইলট প্রকল্পের আওতায় এসব বুথ পরিচালনার মাধ্যমে নিরাপদ খাবার পানির সীমিত সুবিধাপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠীর পানির সংকট মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এ লক্ষ্যে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম ওয়াসার বোর্ড কক্ষে চট্টগ্রাম ওয়াসা ও ওয়াটারএইড বাংলাদেশের মধ্যে একটি অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তিতে চট্টগ্রাম ওয়াসার পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মোঃ জানে আলম এবং ওয়াটারএইড বাংলাদেশের পক্ষে কান্ট্রি ডিরেক্টর আজমান আহমেদ চৌধুরী স্বাক্ষর করেন।

চুক্তি অনুযায়ী, নগরীর যেসব এলাকায় পানির সংকট তুলনামূলক বেশি এবং নিম্নআয়ের মানুষের জন্য নিরাপদ ও সাশ্রয়ী খাবার পানির প্রয়োজন রয়েছে, সেসব এলাকাকে অগ্রাধিকার দিয়ে পানির এটিএম বুথ স্থাপন করা হবে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে তুলনামূলক সহজে, নির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনার আওতায় নিরাপদ পানি সংগ্রহের সুযোগ তৈরি হবে।

প্রকল্পের আওতায় পানির গুণগত মান নিশ্চিত করার বিষয়টিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম ওয়াসার পাম্প বা সরবরাহ লাইনের পানির গুণগত মান মূল্যায়ন করবে ওয়াটারএইড বাংলাদেশ। মূল্যায়নে পানির মানের উন্নয়নের জন্য অতিরিক্ত শোধন ব্যবস্থার প্রয়োজন দেখা দিলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, পাইলট পর্যায়ে পানির এটিএম বুথ স্থাপনের জন্য চট্টগ্রাম ওয়াসা প্রয়োজনীয় জায়গা দিতে সহায়তা করবে। অন্যদিকে বুথ স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের মূলধনী যন্ত্রপাতির অর্থায়ন করবে ওয়াটারএইড বাংলাদেশ। ওয়াসার নির্ধারিত জায়গা পাওয়া সম্ভব না হলে আলোচনার মাধ্যমে সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় জায়গা সংগ্রহের ব্যবস্থাও করবে ওয়াটারএইড।

এটিএম বুথ থেকে পানি বিক্রি ও বিতরণও নির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনার আওতায় থাকবে। চট্টগ্রাম ওয়াসার অনুমতি ছাড়া সরাসরি খুচরা পানি বিক্রি বা বিতরণ করা যাবে না। বুথে পানি বিক্রির কার্যক্রম ওয়াটারএইড বাংলাদেশের অনুমোদিত কর্মী অথবা স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হবে।

পাইলট প্রকল্পের আওতায় আনুমানিক ১০০টি পানির এটিএম বুথ চালু না হওয়া পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলবে। প্রকল্পের বাস্তবায়ন অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে নগরীর অন্যান্য পানি সংকটাপন্ন ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় কার্যক্রম সম্প্রসারণের সুযোগ থাকবে।

চুক্তিতে পানির এটিএম বুথের নিরবচ্ছিন্ন সেবার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। ওয়াটারএইড বাংলাদেশ একটি সার্ভিস লেভেল এগ্রিমেন্ট (এসএলএ) অনুযায়ী সেবা নিশ্চয়তা দেবে। কোনো বুথে অনাকাঙ্ক্ষিত যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে তা সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সংস্থাটি। কোনো বুথ ৭২ ঘণ্টার বেশি সময় বন্ধ থাকলে, জনগণের ভোগান্তি কমাতে বিকল্প সাময়িক পানি বিতরণ ব্যবস্থা চালু করতে হবে ওয়াটারএইড বাংলাদেশকে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মোঃ জানে আলম বলেন, চট্টগ্রাম ওয়াসা ও ওয়াটারএইড বাংলাদেশ শুধু একটি সমঝোতা বা অংশীদারিত্ব চুক্তিতে আবদ্ধ হচ্ছে না; এর মাধ্যমে চট্টগ্রাম নগরীর পানি সেবাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জনবান্ধব করার লক্ষ্যে আগামী তিন বছরের একটি যৌথ পথচলার সূচনা হচ্ছে।

তিনি বলেন, নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠী, পানি সংকটাপন্ন এলাকা এবং নিরাপদ খাবার পানির সীমিত সুবিধাপ্রাপ্ত মানুষের জন্য এ অংশীদারিত্ব অত্যন্ত সময়োপযোগী। পানির এটিএম বুথ শুধু পানি সরবরাহের একটি ব্যবস্থা নয়, বরং মানুষের প্রয়োজনের জায়গায় নিরাপদ পানি পৌঁছে দেওয়ার একটি কার্যকর উদ্যোগ। বিশেষ করে যেসব মানুষ প্রতিদিন পানি সংগ্রহের জন্য অতিরিক্ত অর্থ ও সময় ব্যয় করেন, তাদের জন্য এই উদ্যোগ বাস্তব উপকার বয়ে আনবে।

চট্টগ্রাম ওয়াসার এমডি আরও বলেন, এই অংশীদারিত্বের আওতায় ভবিষ্যতে নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীর জন্য গভীর নলকূপ স্থাপন এবং লবণাক্ততাপ্রবণ এলাকায় নিরাপদ খাবার পানির সংকট নিরসনে রিভার্স অসমোসিস (আরও) প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম ওয়াসার বিলিং ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও গতিশীল করতে বিলিং অ্যাপস তৈরি, পানি সরবরাহের লাইন সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

ওয়াটারএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর আজমান আহমেদ চৌধুরী বলেন, এই চুক্তির মাধ্যমে চট্টগ্রাম ওয়াসা ও ওয়াটারএইড বাংলাদেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হবে। এর সুফল সরাসরি চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (অর্থ) শারমিন আক্তার বলেন, পানি সেবা শুধু অবকাঠামো নির্মাণের বিষয় নয়; এর সঙ্গে মানুষের স্বাস্থ্য, জীবনযাত্রার মান ও সামাজিক নিরাপত্তা সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই পানি সংকটাপন্ন ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম নগরীর পানি ও স্যানিটেশন খাতে ওয়াটারএইড বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, মাঠপর্যায়ের কাজ এবং কমিউনিটির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা চট্টগ্রাম ওয়াসার জন্য অত্যন্ত মূল্যবান। দুই প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতাকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগানো গেলে এ উদ্যোগের মাধ্যমে নগরবাসী সরাসরি উপকৃত হবে।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (প্রশাসন) শারমিন আলম, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (প্রকৌশল) বিষ্ণু কুমার সরকার, সচিব শাহিদা ফাতেমা চৌধুরী, বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক সাজিয়া পারভীন, প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রুমন দেসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ওয়াটারএইড বাংলাদেশের পক্ষে প্রোগ্রাম অ্যান্ড পলিসি অ্যাডভোকেসি ডিরেক্টর পার্থ হেফাজ সেখ, টেকনিক্যাল ডিরেক্টর মোঃ তাহমিদুল ইসলাম, জোনাল লিড বাবুল বালাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রাম নগরীর ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা, বিভিন্ন এলাকায় পানি সরবরাহের বৈষম্য এবং নিম্নআয়ের মানুষের নিরাপদ খাবার পানির সীমিত সুযোগের প্রেক্ষাপটে এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় পাইপলাইনের পানি পর্যাপ্ত নয় কিংবা নিরাপদ পানির বিকল্প উৎস সীমিত, সেখানে পানির এটিএম বুথ চালু হলে স্বল্পমূল্যে নিরাপদ পানি পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। ফলে নগরীর পানি ব্যবস্থাপনায় এটি একটি নতুন ও জনমুখী মডেল হিসেবে কাজ করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ