রাঙামাটি শহরের জর্জ কোর্ট সংলগ্ন হোটেল কসমস আবাসিকের চতুর্থ তলায় অবস্থিত রুস্টপ রেস্টুরেন্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ভোরে লাগা এ আগুনে রেস্টুরেন্টের সিলিং, রান্নাঘরসহ বিভিন্ন অংশ পুড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এসি, ফ্রিজ, কম্পিউটার, চেয়ার-টেবিলসহ মূল্যবান বিভিন্ন সরঞ্জাম। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ভোর আনুমানিক ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে রুস্টপ রেস্টুরেন্টে আগুন লাগার খবর পায় রাঙামাটি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। খবর পাওয়ার পর দ্রুত দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। কিছুক্ষণের প্রচেষ্টায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোরের দিকে রেস্টুরেন্টের ভেতর থেকে ধোঁয়া ও আগুনের সূত্রপাত দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন রেস্টুরেন্টের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনায় বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়।
অগ্নিকাণ্ডে রুস্টপ রেস্টুরেন্টের উপরের সিলিংয়ের একটি বড় অংশ, রান্নাঘর এবং বিভিন্ন স্থাপনা পুড়ে গেছে। একই সঙ্গে রেস্টুরেন্টে থাকা এসি, ফ্রিজ, কম্পিউটার, চেয়ার-টেবিলসহ বেশ কিছু আসবাবপত্র ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে কয়েক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
রুস্টপ রেস্টুরেন্ট ও কসমসের মালিক এ.কে.এম. সালাহউদ্দীন বলেন, আগুন কীভাবে লেগেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আগুনে রেস্টুরেন্টের বিভিন্ন সরঞ্জাম ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রাঙামাটি ফায়ার সার্ভিসের সাব-অফিসার মো. মফিজুর রহমান বলেন, ভোর ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে রুস্টপ রেস্টুরেন্টে আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবে আগুনের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি।
ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত করতে তদন্ত প্রয়োজন। তদন্ত শেষে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, কসমসের চারতলা ভবনটির দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় আবাসিক হোটেল পরিচালিত হয়। সেখানে মোট ২৯টি কক্ষ রয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের সময় হোটেলে অতিথি ও অন্যান্য লোকজন অবস্থান করলেও আগুনে কেউ হতাহত হননি।
ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসায় ভবনের অন্যান্য অংশে আগুন ছড়িয়ে পড়েনি। ফলে আবাসিক হোটেলে অবস্থানরত অতিথিদের মধ্যে বড় ধরনের আতঙ্ক তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের পর ক্ষতিগ্রস্ত রেস্টুরেন্টের বিভিন্ন অংশ পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করা হচ্ছে। পাশাপাশি আগুনের সূত্রপাত ও অগ্নিকাণ্ডের কারণ খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়াও চলছে।