সাতকানিয়া প্রতিনিধি চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টা ১০ মিনিটের দিকে উপজেলার কালিয়াইশ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব কাঠগড় রেলক্রসিং এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—কালিয়াইশ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত আহমদ হোসেনের ছেলে প্রবাসী আবু তাহের (৫০) এবং ধর্মপুর ইউনিয়নের মহুরিপাড়ার মৃত সাহাব মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ আব্দুস শুক্কুর।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনটি পূর্ব কাঠগড় রেলক্রসিং এলাকায় পৌঁছালে একটি অটোরিকশা রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় দ্রুতগতির ট্রেনটি অটোরিকশাটিকে সজোরে ধাক্কা দিলে সেটি উল্টে যায়। এতে অটোরিকশায় থাকা দুই যাত্রী গুরুতর আহত হন। পরে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হন। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা রেললাইনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ ও অবরোধ করেন। এতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে সাময়িকভাবে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও পরে অবরোধ সরিয়ে নেওয়া হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু হয়।
দুর্ঘটনার পর রেলক্রসিংয়ের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথের ঝুঁকিপূর্ণ ও গেটম্যানবিহীন রেলক্রসিংগুলো চিহ্নিত করে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনীয় স্থানে গেট স্থাপন ও গেটম্যান নিয়োগের বিষয়েও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁঞা বলেন, “দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথে যেসব রেলক্রসিংয়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করা প্রয়োজন, সেসব স্থান পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ ও গেটম্যানবিহীন ক্রসিংগুলোতে দ্রুত নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার কারণও পর্যালোচনা করা হবে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথের বিভিন্ন স্থানে রেলক্রসিং থাকলেও সব জায়গায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেই। গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ক্রসিংগুলোতে গেট, গেটম্যান এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা না থাকায় এসব স্থানে প্রায়ই দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়। তারা দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে ঝুঁকিপূর্ণ ক্রসিংগুলোতে দ্রুত গেট ও গেটম্যান নিয়োগসহ কার্যকর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে দুর্ঘটনার বিষয়ে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ ও সংশ্লিষ্ট রেলক্রসিংয়ের নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথের ঝুঁকিপূর্ণ রেলক্রসিংগুলোতে দ্রুত নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।