শিরোনাম
শীলকূপে ‘ওয়ান স্টুডেন্ট ওয়ান ট্রি’ ক্যাম্পেইন, সাড়ে তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর হাতে ফলজ গাছের চারা নৃত্যের মঞ্চ পেরিয়ে অভিনয়ে মুনমুনের নতুন স্বপ্ন মানবাধিকার সুরক্ষায় চট্টগ্রামে আসক ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম জোরদার নাঙ্গলমোড়া শামসুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসার নতুন গভর্নিং বডি, সভাপতি লায়ন সালাউদ্দীন আলী সাতকানিয়ায় প্রান্তিক পেশাজীবীদের দক্ষতা উন্নয়নে ১০ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ সমাপ্ত চন্দনাইশে কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপের জার্সি উন্মোচন পাঁচ দিনের শুভেচ্ছা সফরে, চট্টগ্রাম বন্দরে চীনা নৌবাহিনীর তিন যুদ্ধজাহাজ নাশকতা প্রতিরোধে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তল্লাশি নাচের মঞ্চ থেকে রুপালি পর্দায় সোনিয়া লাজুক অপরাধ দমনে একের পর এক সাফল্য, জেলা পুলিশের বিশেষ পুরস্কার পেলেন চন্দনাইশের ওসি
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫১ অপরাহ্ন

নৃত্যের মঞ্চ পেরিয়ে অভিনয়ে মুনমুনের নতুন স্বপ্ন

হৃদয় খান / ২৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নৃত্যের মঞ্চে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ মুনমুন বিশ্বাস মুন। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন মঞ্চে নৃত্য পরিবেশন করে ইতোমধ্যে নিজের একটি পরিচিতি তৈরি করেছেন তিনি। এবার সেই পরিচিতির পরিধি বাড়াতে চান অভিনয়ের জগতে। ‘ফেস অব টুমোরো ২০২৬’ প্রতিযোগিতায় সেকেন্ড রানারআপ হওয়ার মধ্য দিয়ে অভিনয়ের পথে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলেছে তার সামনে। এরই মধ্যে প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে নির্মিতব্য দশটি স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমার একটিতে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছেন এই তরুণী।

নৃত্যের ছন্দ থেকে এবার ক্যামেরার সামনে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা—মুনমুনের ক্যারিয়ারে যেন শুরু হয়েছে নতুন অধ্যায়। তবে অভিনয়ে আসার বিষয়টিকে তিনি হঠাৎ কোনো সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন না; বরং নিজের সৃজনশীল পরিসরকে আরও বিস্তৃত করার একটি সুযোগ হিসেবেই দেখছেন। নিয়মিত শেখা, অনুশীলন ও নতুন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে একজন দক্ষ অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলাই এখন তার লক্ষ্য।

মুনমুনের শেকড় খুলনায় হলেও তার বেড়ে ওঠা পুরান ঢাকায়। বাবা তপন বিশ্বাস ও মা অপর্ণা বিশ্বাসের পরিবারে বড় বোনের সঙ্গে বেড়ে ওঠা তার। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি নাচের প্রতি আলাদা আকর্ষণ ছিল মুনমুনের। মায়ের আগ্রহ ও উৎসাহেই শৈশবে নাচ শেখার হাতেখড়ি। এরপর ধীরে ধীরে নৃত্য হয়ে ওঠে তার জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

সেন্ট ফ্রান্সিস জেভিয়ার্স গার্লস হাই স্কুলে পড়াশোনার পর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষা গ্রহণ করেন তিনি। পড়াশোনার পাশাপাশি নৃত্যের চর্চাও চালিয়ে গেছেন নিয়মিত। নৃত্যে প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ নিতে ভর্তি হন বুলবুল ললিতকলা একাডেমি—বাফায়। সেখান থেকে নাচের ওপর সার্টিফিকেট কোর্স সম্পন্ন করেন তিনি।

নৃত্যের জগতে মুনমুনের প্রথম গুরু মিস উম্মে তাহমিনা। পরবর্তীতে শ্রীমান অনিক বসু ও কস্তুরী মুখার্জির কাছ থেকেও নৃত্যের তালিম নিয়েছেন তিনি। প্রশিক্ষণ ও নিয়মিত চর্চার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন মঞ্চে পারফর্ম করে নিজের দক্ষতা বাড়িয়েছেন। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন আয়োজনে বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে তুলে ধরার সুযোগও পেয়েছেন তিনি।

ভারতের পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, নেপাল, মালয়েশিয়া ও সৌদি আরবের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করেছেন মুনমুন। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যেও পারফর্ম করেছেন তিনি। ফলে নৃত্য শুধু তার ব্যক্তিগত আগ্রহ বা শখের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং দেশের সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছে।

এরই মধ্যে ক্যারিয়ারে নতুন মোড় আসে ‘ফেস অব টুমোরো ২০২৬’ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিযোগিতাটির বিজ্ঞাপন দেখে নিবন্ধন করেন মুনমুন। প্রাথমিক বাছাইয়ে শর্টলিস্ট হওয়ার পর ফোনে অডিশনের জন্য আমন্ত্রণ পান তিনি।

প্রথম অডিশনের অভিজ্ঞতা অবশ্য সহজ ছিল না। শিশু একাডেমিতে অনুষ্ঠিত অডিশনে অংশ নিতে সকাল সাতটা থেকেই লাইনে দাঁড়াতে হয় তাকে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে অডিশন দেওয়ার সুযোগ পান। সেই ধাপ পেরিয়ে পরবর্তী রাউন্ডে জায়গা করে নেওয়াই ছিল তার জন্য বড় একটি সাফল্য।

এরপর শুরু হয় একের পর এক ধাপ। শেষ পর্যন্ত বুট ক্যাম্পে জায়গা করে নেন মুনমুন। দশ দিনের বুট ক্যাম্পে তার সামনে ছিল একেবারেই নতুন পরিবেশ, নতুন মানুষ ও নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ। সেখানে শুধু সৌন্দর্য বা মঞ্চে উপস্থিতির ওপর নয়, প্রতিযোগীদের অভিনয়, নৃত্য, বাচনভঙ্গি, ক্যামেরার সামনে আত্মবিশ্বাস, বুদ্ধিমত্তা, শারীরিক সক্ষমতা ও স্টাইলিং—বিভিন্ন দিক থেকে মূল্যায়ন করা হয়।

বুট ক্যাম্পে অভিনয়ের প্রশিক্ষণ দেন আবুল আজাদ কালাম। নৃত্যে প্রশিক্ষণ দেন মোফাজ্জল হোসেন আলিফ। ক্যামেরার সামনে কাজের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেন বরকত হোসেন পলাশ। ফিজিক্যাল অ্যাক্টিভিটির প্রশিক্ষণে ছিলেন আসিফ হাসান সাগর। আর স্টাইলিং ও র‍্যাম্প ওয়াকের প্রশিক্ষণ দেন বুলবুল টুম্পা।

প্রতিটি প্রশিক্ষণই মুনমুনের জন্য ছিল নতুন কিছু শেখার সুযোগ। বিশেষ করে ক্যামেরার সামনে অভিনয় এবং চরিত্রকে ধারণ করার বিষয়টি তাকে নতুনভাবে ভাবতে শেখায়। নৃত্যের মাধ্যমে শরীরী অভিব্যক্তি প্রকাশের অভিজ্ঞতা থাকলেও অভিনয়ে সংলাপ, চরিত্রের আবেগ, ক্যামেরার ভাষা ও দৃশ্যের প্রয়োজন অনুযায়ী নিজেকে উপস্থাপন করার বিষয়টি তার জন্য ছিল ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা।

প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত ২০ জন প্রতিযোগীকে নিয়ে গঠিত হয় টপ টেন ফাইনালিস্ট কাপল। এই দশ জুটিকে কেন্দ্র করে নির্মিত হচ্ছে দশটি স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমা। প্রতিযোগিতার অন্যতম লক্ষ্যই ছিল নতুন মুখদের সুযোগ করে দেওয়া এবং তাদের অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের সামনে তুলে ধরা।

সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সেকেন্ড রানারআপের জায়গা অর্জন করেন মুনমুন বিশ্বাস মুন। প্রতিযোগিতার ফলাফল তার জন্য যেমন আনন্দের, তেমনি অভিনয়ের জগতে প্রবেশের একটি বাস্তব সুযোগও তৈরি করে দিয়েছে।

নিজের এই সাফল্যকে অপ্রত্যাশিত ও গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখছেন মুনমুন। তার কাছে প্রতিযোগিতার টপ টেনে জায়গা করে নেওয়াটাই ছিল বড় পাওয়া। সেখান থেকে সেকেন্ড রানারআপ হওয়া তার প্রত্যাশাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এই পুরো পথচলায় পরিবারের পাশাপাশি কাছের বন্ধুদের সহযোগিতার কথাও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।

নতুনদের সুযোগ করে দেওয়ার উদ্যোগের জন্য ‘মার্কেটার্স ৩৬০ ডিগ্রি’র প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন মুনমুন। একই সঙ্গে ‘চলো ঘুরে আসি’র প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি। তাদের সহযোগিতাতেই দশটি স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমার একটি সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছেন বলে জানান তিনি।

মুনমুনের কাছে এই সুযোগ শুধু একটি সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ নয়; বরং দীর্ঘদিনের নৃত্যচর্চার পাশাপাশি অভিনয়ে নিজের সম্ভাবনা যাচাই করার একটি নতুন দরজা। তাই প্রথম কাজটিকে তিনি ক্যারিয়ারের চূড়ান্ত অর্জন হিসেবে দেখছেন না। বরং এখান থেকেই নিয়মিত শেখা ও নিজেকে আরও প্রস্তুত করার পরিকল্পনা তার।

নৃত্যের মঞ্চে অর্জিত অভিজ্ঞতা অভিনয়ে কাজে লাগাতে চান মুনমুন। তার বিশ্বাস, একজন শিল্পীর শেখার কোনো শেষ নেই। প্রতিটি নতুন কাজ, প্রতিটি চরিত্র এবং প্রতিটি মঞ্চ বা ক্যামেরা একজন শিল্পীকে নতুন কিছু শেখায়। সেই শেখার ধারাবাহিকতা ধরে রেখেই সামনে এগিয়ে যেতে চান তিনি।

মুনমুনের স্বপ্ন এখন নৃত্য ও অভিনয়—দুই ক্ষেত্রেই নিজের একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করা। বিশেষ করে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের কাছে নিজের অনুভূতি ও সৃজনশীলতা পৌঁছে দিতে চান তিনি। ভবিষ্যতে ভালো গল্প ও অর্থবহ চরিত্রে কাজ করার মধ্য দিয়ে নিজেকে একজন পরিপূর্ণ অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রত্যাশা তার।

নৃত্যের ছন্দে শুরু হয়েছিল যে পথচলা, ‘ফেস অব টুমোরো ২০২৬’-এর সাফল্যের মধ্য দিয়ে সেই পথ এখন পৌঁছেছে ক্যামেরার সামনে। মুনমুনের জন্য এটি হয়তো অভিনয়জীবনের প্রথম অধ্যায়; তবে তার স্বপ্নের পরিসর আরও বড়—শিল্পী হিসেবে নিজের কাজ দিয়ে দর্শকের মনে দীর্ঘস্থায়ী জায়গা করে নেওয়া।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ