দেশের প্রধান সামুদ্রিক বন্দর ও জাতীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা এবং সংবেদনশীল স্থাপনাসমূহের সুরক্ষায় অননুমোদিত ছবি, ভিডিও ধারণ, স্কেচ তৈরি এবং বিভিন্ন মাধ্যমে এসব তথ্য প্রচারের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন ছাড়া বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সংরক্ষিত এলাকা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, নজরদারি ও প্রবেশ-নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সম্পর্কে দৃশ্যমান বা অপারেশনাল তথ্য সংগ্রহ ও প্রচার থেকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়েছে, বন্দর বাংলাদেশের প্রধান সামুদ্রিক প্রবেশদ্বার হিসেবে আমদানি-রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ফলে বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও সংবেদনশীল স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও জাতীয় নিরাপত্তা বিধিমালা অনুসরণ করে বন্দরের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক জাহাজ ও বন্দর নিরাপত্তা (ISPS) কোড অনুসরণকারী বন্দর হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দর ‘Zero Observation’ অর্জন করেছে। একই সঙ্গে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ‘ক’ শ্রেণির Key Point Installation (KPI) হিসেবে বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর সুরক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২২-এর ১২ ধারা অনুযায়ী বন্দরের সুষ্ঠু পরিচালনা এবং সর্বসাধারণের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের স্বার্থে বন্দর সীমানার অন্তর্ভুক্ত স্থান ও স্থাপনাগুলো সংরক্ষিত বন্দর এলাকা হিসেবে বিবেচিত। এ কারণে বন্দরের বিভিন্ন স্থানে ছবি তোলা, ভিডিও ধারণ কিংবা স্থাপনার বিন্যাস ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন।
এ ছাড়া Official Secrets Act, 1923-এর বিধানের কথাও উল্লেখ করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট সংবেদনশীল স্থান, তথ্য, নকশা, ছবি বা অন্যান্য উপাত্ত অননুমোদিতভাবে ধারণ, প্রকাশ বা প্রচার আইনত দণ্ডনীয় হতে পারে।
কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, গণমাধ্যম কিংবা অন্য কোনো মাধ্যমে বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সংরক্ষিত এলাকা, নজরদারি সক্ষমতা, স্থাপনার বিন্যাস ও অপারেশনাল তথ্য প্রকাশ বা প্রচারকে অনাকাঙ্ক্ষিত ও গ্রহণযোগ্য নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, বন্দরের সংবেদনশীল স্থাপনা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, প্রবেশ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, নজরদারি ব্যবস্থা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, জাহাজ ও কার্গো ব্যবস্থাপনা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার অননুমোদিত ফটোগ্রাফি ও ভিডিও ধারণ থেকে বিরত থাকতে হবে। পাশাপাশি এসব স্থাপনা বা ব্যবস্থার স্কেচ তৈরি কিংবা যেকোনো ধরনের দৃশ্যমান তথ্য সংগ্রহ ও প্রচারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বিশেষ করে বন্দরের KPI, সংরক্ষিত এলাকা এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত স্থাপনার ক্ষেত্রে অনুমতিবিহীন কোনো ধরনের কার্যক্রম কঠোরভাবে পরিহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বলেছে, বন্দর ব্যবহারকারী, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং অন্যান্যদের নিরাপত্তা নির্দেশনা যথাযথভাবে প্রতিপালন করতে হবে। কেউ অননুমোদিতভাবে এমন তথ্য প্রকাশ বা প্রচার করে বন্দরের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করলে তার বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইন, নিরাপত্তা বিধিমালা এবং বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রচলিত নির্দেশনা অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, দেশের আমদানি-রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রবেশদ্বার হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কেবল বন্দর কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব নয়; বন্দর ব্যবহারকারীসহ সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বশীল আচরণও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিরাপত্তা ও সংবেদনশীল স্থাপনার তথ্য ব্যবহারে সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।