বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিক যাতে শান্তি, সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও বৈষম্যহীনতার ভিত্তিতে সমান অধিকার নিয়ে বসবাস করতে পারে, সে লক্ষ্যে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু, এমপি।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জাঁ-মার্ক সেরে-শার্লে (Jean-Marc Sere-Charlet)। রাষ্ট্রদূতের নেতৃত্বে দুই সদস্যের প্রতিনিধি দল এ সাক্ষাৎ করে।
সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নে, বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ফ্রান্স সরকারের বিদ্যমান সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদী। দেশের অর্থনীতির চাকা আরও শক্তিশালী করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিবেশ সংরক্ষণ, কৃষি, ইকো-ট্যুরিজম, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির মাধ্যমে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। পাহাড়ের প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে কাজে লাগিয়ে টেকসই উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
পার্বত্য চট্টগ্রামের বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে সাচিং প্রু বলেন, মাল্টিমিডিয়া প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে শিক্ষার মানোন্নয়নের পাশাপাশি সামগ্রিক জীবনযাত্রার উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প চলমান রয়েছে।
কৃষি খাতে সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে কৃষিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে কফি ও কাজুবাদাম চাষে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বৈঠকে পার্বত্য চট্টগ্রামে পরিবেশবান্ধব ইকো-ট্যুরিজমের প্রসার, শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষা, সুষম উন্নয়ন, শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, নারীর ক্ষমতায়ন, নিরাপদ ও সুপেয় পানি সরবরাহ এবং মানবাধিকার সুরক্ষাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়।
এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত পোষণ করে। বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামের টেকসই উন্নয়ন ও জনগণের জীবনমান উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতার পরিধি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সৌজন্য সাক্ষাতে বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের গভর্ন্যান্স অ্যান্ড হিউম্যানিটেরিয়ান অ্যাটাচে এমিলি পালাহুন (Emilie Palahoune) এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রীর একান্ত সচিব (উপসচিব) মোহাম্মদ রাশেদুল হক উপস্থিত ছিলেন।