আমার জীবনের গল্প সহজ কোনো পথচলার গল্প নয়। ছোটবেলাতেই বাবা-মা দুজনকেই হারিয়েছি। যে বয়সে একজন শিশু বাবা-মায়ের হাত ধরে পৃথিবীকে চিনতে শেখে, সেই বয়সেই আমাকে শিখতে হয়েছে—জীবনের পথ অনেক সময় নিজেকেই তৈরি করে নিতে হয়।
এই শূন্যতা ও প্রতিকূলতার মধ্যেই বড় হয়েছি। জীবনের শুরু থেকেই একটি বিষয় বিশ্বাস করেছি—পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক, হাল ছেড়ে দেয়া যাবে না।
দুবাইয়ে নতুন জীবনের শুরু
প্রবাসের উদ্দেশ্যে যখন সংযুক্ত আরব আমিরাতে আসি, তখন শুরু হয় আমার জীবনের আরেকটি কঠিন অধ্যায়। শুরুতে দুবাইয়ে এসে প্রথম দুই-তিন মাস বেকার ছিলাম। বিভিন্ন জায়গায় চাকরি খুঁজেছি, কিন্তু কোনো কাজই আমার কাছে মনমতো মনে হয়নি। তখন সিদ্ধান্ত নিই—চাকরি নয়, নিজের কিছু করতে হবে।
বড় পুঁজি ছিল না। অল্প পুঁজি নিয়ে ফুড ও ভেজিটেবল ব্যবসা শুরু করি। সেটিই ছিল আমার বড় স্বপ্নের প্রথম ধাপ।
আমি বিশ্বাস করি—শুরুটা ছোট হওয়া কোনো সমস্যা নয়; সমস্যা হলো শুরু না করা।
আমি কখনো থেমে থাকিনি। একটি সুযোগের পর আরেকটি সুযোগ খুঁজেছি। নতুন কিছু করার চেষ্টা করেছি। কখনো সফল হয়েছি, কখনো ব্যর্থ হয়েছি; কিন্তু ব্যর্থতাকে কখনো শেষ বলে মনে করিনি। ধীরে ধীরে ব্যবসার পরিধি বাড়তে থাকে। রেস্টুরেন্ট, সুপার মার্কেট, রিয়েল এস্টেট, ফার্ম হাউসসহ বিভিন্ন খাতে যুক্ত হই। শরাফ উদ্দিন রেস্টুরেন্ট দিয়ে রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় যাত্রা শুরু করে পরবর্তীতে ‘কেবিএন’সহ একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হই।
বর্তমানে আমার বিভিন্ন ব্যবসায়িক উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে-
– ফিউচার হোমস রিয়েল এস্টেট
– কেবিএন সুপার মার্কেট, হর আল আনজ, হাবীব বেকারির পেছনে
– কেবিএন রেস্টুরেন্ট, ভেজিটেবল মার্কেট, এনবিডি ব্যাংকের পেছনে, ৪ নম্বর ব্লক
– কেবিএন রেস্টুরেন্ট, লন্ডন হোটেলের পেছনে, দেইরা
– কেবিএন রেস্টুরেন্ট–৪, ফ্রেশ মার্কেটের বিপরীতে, ই-নক পেট্রোল পাম্পের পেছনে, আল আইন বরাত
– গ্রিন বাংলা রেস্টুরেন্ট, বরি মসজিদের পেছনে, দেইরা
– ওয়াই এস ফার্ম হাউস, ফিলি, শারজাহ
– মোহাম্মদ সুনিক গুডস হিল এলএলসি
এর পাশাপাশি আমি মানুষের কল্যাণ ও সেবার উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠা করেছি মোহাম্মদ সুনিক ফাউন্ডেশন।
বর্তমানে ‘কেবিএন’ নামে আমার বেশ কয়েকটি রেস্টুরেন্ট ও সুপার মার্কেট পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠান নিজস্ব মালিকানায় এবং কিছু পার্টনারশিপের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।
শারজাহ ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়া–৬-এ নতুন একটি নিজস্ব সুপার মার্কেট প্রতিষ্ঠার কাজও এগিয়ে চলছে। ভবিষ্যতে ইউরোপেও ব্যবসা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে আরও কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর সুযোগ তৈরি হয়।
আমার কাছে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান শুধু ব্যবসা নয়; এগুলো আমার জীবনের সংগ্রাম ও অর্জনের একেকটি অধ্যায়।
ব্যবসার পাশাপাশি মানুষের জন্য কাজ
একসময় উপলব্ধি করেছি—ব্যবসা শুধু অর্থ উপার্জনের মাধ্যম নয়। মানুষের জন্য কিছু করতে পারাও জীবনের বড় অর্জন।
বর্তমানে আমি চট্টগ্রাম উন্নয়ন পরিষদ (ইউএই)-এর প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন দুবাইয়ের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং বাংলাদেশ বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন দুবাইয়ের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। এসব পদকে আমি মর্যাদার বিষয় হিসেবে দেখি না বরং প্রবাসীদের পাশে দাঁড়ানো এবং বাংলাদেশের ভাবমূর্তি তুলে ধরার সুযোগ হিসেবে দেখি।
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশনের ব্যানারে ‘ওয়ান বিলিয়ন মিলস’ উদ্যোগে নিজ অর্থায়নে তিনবার অংশ নিয়েছি। জাতীয় দিবস ও কনস্যুলেটের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা করেছি। করোনার কঠিন সময়ে খাদ্য ও অর্থ সহায়তা দিয়েছি। ক্লিন দুবাই, রক্তদান ও ফ্রুট ফেস্টিভ্যাল-এর মতো বিভিন্ন উদ্যোগেও বাংলাদেশের পরিচয় তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আমার উদ্দেশ্য ছিল একটাই—প্রবাসের মাটিতে বাংলাদেশের সম্মান বৃদ্ধি করা এবং বাংলাদেশিদের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরা।
আমার সবচেয়ে বড় আশ্রয়—পরিবার
বাবা-মাকে ছোটবেলায় হারিয়েছি বলেই হয়তো পরিবার আমার কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
আমার বিবাহিত জীবনের ২২ বছর চলছে। বিয়ের মাত্র দুই-তিন মাসের মধ্যে স্ত্রীকে জরুরি ভিত্তিতে দুবাইয়ে নিয়ে আসি। চেয়েছিলাম, আমার জীবনের নতুন অধ্যায়ে স্ত্রীকে পাশে নিয়ে পথ চলতে।
তারপর থেকে আমাদের প্রবাস জীবনের পুরো পথচলাটাই প্রায় দুবাইকেন্দ্রিক। ব্যবসা করেছি দুবাইয়ে, পরিবারকে নিয়ে থেকেছি দুবাইয়ে, সন্তানদের বড় করেছি এই দেশেই।
মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের চারটি সন্তান দান করেছেন—দুই মেয়ে ও দুই ছেলে। চারজনেরই জন্ম ও বেড়ে ওঠা সংযুক্ত আরব আমিরাতে। দুই মেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে, দুই ছেলে স্কুলে। বড় ছেলে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবে এবং ছোট ছেলে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ছে।
ব্যবসা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের ব্যস্ততায় পরিবারকে যতটা সময় দেওয়া উচিত ছিল, সবসময় তা দিতে পারিনি—এটি আমার জীবনের একটি আক্ষেপ।
এখন বুঝি, ব্যবসা আবার করা যায়, টাকা আবার উপার্জন করা যায়, নতুন প্রতিষ্ঠানও তৈরি করা যায়; কিন্তু সন্তানের শৈশব ও পরিবারের হারানো সময় আর ফিরে আসে না।
মানুষের জন্য কিছু করার স্বপ্ন
ব্যবসা যখন একটু দাঁড়াতে শুরু করল, তখন আমার মনে হলো—শুধু নিজের জন্য বেঁচে থাকলে জীবন পূর্ণ হয় না। আমি চেয়েছিলাম, আমার দেশকে প্রবাসের মাটিতে সম্মানের সঙ্গে তুলে ধরতে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের ভাবমূর্তি আরও সুন্দর করতে। এ দেশের মানুষের কাছে বাংলাদেশকে ইতিবাচকভাবে পরিচয় করিয়ে দিতে। সেই চিন্তা থেকেই ধীরে ধীরে সামাজিক ও কমিউনিটি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত হয়ে পড়ি।
আমি চেয়েছি—বাংলাদেশি প্রবাসীরা যেনো শুধু শ্রম ও কর্মসংস্থানের জন্য পরিচিত না হন; বরং তাদের মানবিকতা, সংস্কৃতি, দেশপ্রেম, সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং ইতিবাচক ভূমিকার মাধ্যমেও যেন বাংলাদেশ পরিচিত হয়।
সামাজিক কাজ করতে গিয়ে নিজের জীবনে যে মূল্য দিতে হয়েছে। তবে জীবনের কোনো অর্জনই হয়তো সম্পূর্ণ মূল্যহীন নয়। সামাজিক কাজ করতে গিয়ে আমাকেও অনেক মূল্য দিতে হয়েছে।মানুষের সঙ্গে মিশতে গিয়ে জীবনের অনেক সময় চলে গেছে। অনেক সময় ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ সময় সামাজিক কাজে ব্যয় করেছি। ফলে ব্যবসায়িক দিক থেকেও অনেক সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে, কখনো লোকসানও হয়েছে। অনেক সময় নিজের পরিবারকে যে সময় দেয়া উচিত ছিল, সেই সময়টুকুও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে দিতে হয়েছে।
এমনকি জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলব্ধি হলো—মানুষের জন্য ছুটতে ছুটতে কখনো কখনো সৃষ্টিকর্তার ইবাদতও ঠিকভাবে করতে পারিনি। আজ পেছনে ফিরে তাকালে মনে হয়, মানুষের জন্য কাজ করা যেমন প্রয়োজন, তেমনি নিজের পরিবার, নিজের ব্যবসা এবং সর্বোপরি মহান আল্লাহর সঙ্গে নিজের সম্পর্কের প্রতিও সমান দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন ছিল। এই উপলব্ধি আমার জীবনের একটি বড় শিক্ষা।
মানুষের কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষা
মানুষের কাছ থেকে পাওয়া সবচেয়ে বড় শিক্ষা
সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আমি অসংখ্য মানুষের সঙ্গে পরিচিত হয়েছি। এমন অনেক মানুষ আমার কাছে এসেছেন, যাদের সঙ্গে হয়তো এসব সামাজিক কাজ না করলে কোনোদিন আমার পরিচয়ই হতো না। অনেককে কাছে আসার সুযোগ দিয়েছি। অনেককে সহযোগিতা করেছি। অনেকের পাশে দাঁড়িয়েছি। সবাই খারাপ ছিল—এটা আমি বলব না।
বরং এই পথচলায় অনেক ভালো মানুষ পেয়েছি। এমন অনেক মানুষ পেয়েছি, যারা কোনো স্বার্থ ছাড়াই ভালোবেসেছেন, সম্মান করেছেন এবং আজও পাশে আছেন।
কিন্তু এর পাশাপাশি একটি কঠিন বাস্তবতাও খুব কাছ থেকে দেখেছি— মানুষ কখনো কখনো আপনার পাশে থেকেও আপনার ভালো চায় না। একসঙ্গে বসে, একসঙ্গে খায়, একসঙ্গে চলাফেরা করে—কিন্তু ভেতরে ভেতরে হিংসা পোষণ করে। কেউ আমাকে সম্মান করলে অন্য কারও ভালো লাগে না। কেউ আমার প্রশংসা করলে তার বিরোধিতা শুরু হয়।
আবার এমনও দেখেছি—কেউ দীর্ঘদিন ধরে আমার কাছে আসে, আমার কাছ থেকে সহযোগিতা নেয়; কিন্তু নতুন কোনো মানুষ আমার কাছে এলে সেটাও তার সহ্য হয় না।
কেউ আমার সঙ্গে সম্পর্ককে নিজের একচেটিয়া অধিকার মনে করে। অন্য কেউ কাছে এলেই সেখানে শুরু হয় প্রতিযোগিতা, বিরোধিতা কিংবা হিংসা। আর সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো—কখনো কখনো যাদের জন্য ভালো কিছু করেছি, তাদের কাছ থেকেই এমন আচরণ পেয়েছি। অনেক সময় কোনো কারণ ছাড়াই আমার নামে কথা বলা হয়েছে। এমনকি এমন সব বিষয়ে মিথ্যা ও বানানো কথা বলা হয়েছে, যার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততাই নেই।
হিংসা ও ইগো থেকে দূরে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত
তবে সামাজিক কর্মকাণ্ড করতে গিয়ে অনেক ভালো মানুষ পেয়েছি, যারা নিঃস্বার্থভাবে পাশে থেকেছেন। আবার এমন বাস্তবতাও দেখেছি—কখনো কখনো মানুষের ভালো কাজও অন্যের হিংসা ও ইগোর কারণ হয়। আমার সম্পর্কেও মিথ্যা কথা বলা হয়েছে, অপবাদ দেয়া হয়েছে। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, সব কথার উত্তর মুখে দিতে হয় না। কিছু কথার উত্তর সময় দেয়, আর কিছু কথার হিসাব মহান আল্লাহর কাছে থাকে। তাই এখন অকারণ ইগো, হিংসা, গিবত ও পরনিন্দার পরিবেশ থেকে ধীরে ধীরে নিজেকে সরিয়ে নিতে চাই। একদিনে সবকিছু থেকে বের হয়ে আসা সম্ভব নয়। অনেক মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। অনেক দায়িত্ব রয়েছে। তাই ধীরে ধীরে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। সব জায়গায় থাকা, সব অনুষ্ঠানে যাওয়া কিংবা সব কথার উত্তর দেয়া জরুরি নয়। জীবন খুব ছোট। অযথা শত্রুতা ও কষ্ট বয়ে বেড়ানোর কোনো অর্থ নেই।
এখন আমার চাওয়া
একসময় আমার স্বপ্ন ছিল ব্যবসা বড় করা। পরে মানুষের জন্য কাজ করা এবং প্রবাসে বাংলাদেশের সম্মান তুলে ধরা আমার লক্ষ্য হয়েছে। এখন জীবনের এই পর্যায়ে এসে আমার চাওয়া অনেক সহজ।
আমি চাই আমার ব্যবসা সততার সঙ্গে চলুক, পরিবার ভালো থাকুক, সন্তানরা ভালো মানুষ হিসেবে বড় হোক, স্ত্রী ও সন্তানদের আরও বেশি সময় দিতে পারি এবং মহান আল্লাহর ইবাদতে আরও মনোযোগী হতে পারি। মানুষের জন্য যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকু আন্তরিকভাবে করতে চাই। তবে নিজের পরিবার, ব্যবসা ও সৃষ্টিকর্তার হক ভুলে গিয়ে নয়।
জীবন আমাকে শিখিয়েছে—মানুষকে ভালোবাসতে হবে, কিন্তু মানুষের স্বীকৃতির ওপর নিজের শান্তি নির্ভর করা যাবে না। সাফল্য অর্জন করতে হবে, কিন্তু অহংকার করা যাবে না। মানুষকে সম্মান করতে হবে, কিন্তু নিজের আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে নয়।
শেষ কথা
আজ পেছনে ফিরে তাকালে দেখি—বাবা-মাকে হারানো সেই ছোট্ট শিশু থেকে শুরু করে দুবাইয়ে এসে বেকার থাকা, অল্প পুঁজি দিয়ে ব্যবসা শুরু করা, ধীরে ধীরে বিভিন্ন ব্যবসায় যুক্ত হওয়া এবং মানুষের জন্য কাজ করার দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এসেছি। এই পথচলায় পেয়েছি সাফল্য, ভালোবাসা ও সম্মান; আবার পেয়েছি ব্যর্থতা, অপমান ও মানুষের হিংসাও। সবকিছু মিলিয়েই জীবন আমাকে শিখিয়েছে—দুনিয়ার অর্জনের পাশাপাশি নিজের পরিবার, মানুষের প্রতি দায়িত্ব এবং মহান আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ককেও গুরুত্ব দিতে হয়।
আমার জীবন শূন্য থেকে শুরু হয়েছিল। আজ যা কিছু পেয়েছি, সবই মহান আল্লাহর দয়া, পরিশ্রম, সময় এবং মানুষের ভালোবাসার ফল। পথ অনেকটা পেরিয়েছি, কিন্তু পথচলা এখনো শেষ হয়নি।
বাকি পথটুকু এবার একটু অন্যভাবে হাঁটতে চাই—কম মানুষের ভিড়ে, বেশি আপনজনের মাঝে; কম কথায়, বেশি কাজে; কম প্রদর্শনে, বেশি ইবাদতে।
আমার জন্য ও আমার পরিবারের জন্য সবাই দোয়া করবেন—যেন জীবনের বাকি সময়টা বিনয়, সততা, পরিবার ও মানুষের কল্যাণের মধ্য দিয়ে কাটাতে পারি এবং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারি।
মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেদায়েত, শান্তি ও সুন্দর পরিণতি দান করুন। আমিন।
লেখক, আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইয়াকুব সৈনিক।