চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর আওতাধীন সাতকানিয়া জোনাল অফিস থেকে বর্তমানে প্রায় ৭৮ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ সেবা পাচ্ছেন। এসব গ্রাহকের কাছ থেকে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা বিদ্যুৎ বিল আদায় করা হচ্ছে। গ্রাহকসংখ্যা বৃদ্ধি এবং সেবার পরিধি সম্প্রসারণের মাধ্যমে দক্ষিণ চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ বিতরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে জোনাল অফিসটি।
২০১১ সালের জুলাই মাসে কার্যক্রম শুরু করা সাতকানিয়া জোনাল অফিস বর্তমানে সাতকানিয়া উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন, চন্দনাইশ উপজেলার ধোপাছড়ি ইউনিয়ন এবং লোহাগাড়া উপজেলার একটি ইউনিয়নসহ মোট ১৭টি ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সেবা দিয়ে আসছে। তবে সাতকানিয়া উপজেলার কালিয়াইশ ও ধর্মপুর ইউনিয়ন এখনো এই অফিসের সেবার আওতায় আসেনি।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রতিবছর নতুন গ্রাহক যুক্ত হচ্ছেন। পাশাপাশি বিদ্যুতের অপচয় রোধ, নিয়মিত বিল পরিশোধে উদ্বুদ্ধকরণ এবং অবৈধ সংযোগ বন্ধে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
সাতকানিয়া জোনাল অফিসের এজিএম শহিদুল ইসলাম বলেন, নতুন সংযোগ প্রদান, মিটার রিডিং, বিল বিতরণ ও আদায়, লাইন রক্ষণাবেক্ষণ এবং জরুরি সেবাসহ সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনায় ৮৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী দায়িত্ব পালন করছেন। গ্রাহকদের অভিযোগ দ্রুত গ্রহণ ও নিষ্পত্তির জন্য নিয়মিত মনিটরিং করা হয়। তিনি বলেন, “গ্রাহকদের যেকোনো বিদ্যুৎ-সংক্রান্ত সমস্যা দ্রুত সমাধানের জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে থাকি।”
জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছেন। একই সঙ্গে সিস্টেম লস কমানো, বিদ্যুতের অপচয় রোধ এবং শতভাগ বিল আদায়ে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তবে স্থানীয় কয়েকজন গ্রাহক জানান, আগের তুলনায় বিদ্যুৎ সেবার মান উন্নত হলেও মাঝে মধ্যে লোডশেডিং, বিদ্যুৎ বিলে অসঙ্গতি এবং কারিগরি ত্রুটির কারণে ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়। এসব সমস্যা দ্রুত সমাধান এবং গ্রাহকসেবার মান আরও উন্নত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, গ্রাহকসংখ্যা বৃদ্ধি, রাজস্ব আদায়ে ধারাবাহিক সফলতা এবং সেবার পরিধি সম্প্রসারণের ফলে সাতকানিয়া জোনাল অফিস দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।