শিরোনাম
ভাইস এডমিরাল পদে পদোন্নতি পেয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধানের দায়িত্ব নিলেন খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় সবুজ বাংলাদেশ গড়তে বৃক্ষরোপণের আহ্বান: সালাউদ্দীন আলী কর্ণফুলীর আইন-শৃঙ্খলা সভায় চুরি-মাদক দমনে কঠোর সিদ্ধান্ত বাংলাদেশে প্রথমবার ভেন্টিলেটর সাপোর্টে ৩০ রেডিওথেরাপি: এভারকেয়ার চট্টগ্রামের নতুন মাইলফলক পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি, নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান। বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শনে তিন সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ভয়াবহ বন্যায় সাতকানিয়ার ১,৮০০ হেক্টর ফসল নষ্ট, ক্ষয়ক্ষতি ২৬ কোটি টাকা শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বে গুরুত্বারোপ: চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কিট প্যারেড ও মাসিক অপরাধ সভায় এসপি বন্যার্ত মানুষের পাশে এনামুল হক: শিলকুপে বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্যোগ শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে অপহৃত ৭ বছরের শিশু উদ্ধার, অপহরণ চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার
শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৫ পূর্বাহ্ন

ভাইস এডমিরাল পদে পদোন্নতি পেয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধানের দায়িত্ব নিলেন খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম

বার্তা টুডে ডেস্ক / ১২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নতুন প্রধান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ভাইস এডমিরাল পদে পদোন্নতি লাভের পর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নৌবাহিনী প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসানের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।

এদিন সকালে ঢাকা সেনানিবাসস্থ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধানের কাঁধে ভাইস এডমিরাল র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাঁকে অভিনন্দন জানান এবং নতুন দায়িত্ব পালনে শুভকামনা জানান। জবাবে ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং নৌবাহিনীকে আরও আধুনিক, দক্ষ, সক্ষম ও সময়োপযোগী বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা কামনা করেন। অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, বিমান বাহিনী প্রধান, সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পরে বিকেলে নৌবাহিনী সদর দপ্তরে দায়িত্ব হস্তান্তর ও গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। দায়িত্বভার গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম নৌবাহিনী প্রধানের কার্যালয়ে কমান্ড হস্তান্তর ও গ্রহণ বইয়ে স্বাক্ষর করেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কমান্ড গ্রহণ করেন। এ সময় নৌ সদর দপ্তরের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারসহ নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম ১৯৮৭ সালের ১ জানুয়ারি বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগদান করেন এবং ১৯৮৯ সালে এক্সিকিউটিভ শাখায় কমিশন লাভ করেন। কর্মজীবনের শুরুতেই তিনি রয়্যাল মালয়েশিয়ান নৌবাহিনীতে বিশেষ কৃতিত্বের সঙ্গে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে দেশ-বিদেশে উচ্চতর শিক্ষা ও সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণের পাশাপাশি মেরিটাইম গভর্ন্যান্স বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

প্রায় চার দশকের বর্ণাঢ্য সামরিক জীবনে তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড, স্টাফ ও প্রশিক্ষণমূলক দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে পালন করেছেন। তিনি কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল, কমান্ডার ঢাকা নৌ অঞ্চল, কমান্ডার সাবমেরিন, কমান্ড্যান্ট বাংলাদেশ নেভাল একাডেমি, পরিচালক নৌ অপারেশন্স এবং পরিচালক নৌ পরিকল্পনাসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন যুদ্ধজাহাজ ও নৌঘাঁটির অধিনায়ক হিসেবেও সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে লেবানন ও গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ তিনি ওমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

দীর্ঘ কর্মজীবনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি নৌবাহিনী পদক (এনবিপি), নৌ-পারদর্শিতা পদক (এনপিপি), জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কারসহ বিভিন্ন পদক ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। সামুদ্রিক নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা এবং সামরিক কৌশল বিষয়ে তাঁর একাধিক গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।

নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম সরকারের প্রতিরক্ষা শিল্পে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ নীতির আলোকে নৌবাহিনীর নিজস্ব সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তিনি দেশীয় প্রযুক্তির বিকাশ, নৌবাহিনীর শিপইয়ার্ড ও ডকইয়ার্ডের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমের আধুনিকায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে আরও শক্তিশালী, আত্মনির্ভরশীল ও প্রযুক্তিনির্ভর বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ